কারাবাও কাপ থেকে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিদায়

ডিফেন্সিভ স্ট্রাকচারের চরম ব্যর্থতা ও ট্যাকটিক্যাল ভুলের খেসারত দিয়ে ব্রাইটনের কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরে ইএফএল কাপের তৃতীয় রাউন্ড থেকেই ছিটকে গেছে রেড ডেভিলরা।

ঘরের মাঠ ওল্ড ট্র্যাফোর্ডে দুই গোলের চমৎকার সূচনা করেও লিড ধরে রাখতে পারল না ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ডিফেন্সিভ স্ট্রাকচারের চরম ব্যর্থতা ও ট্যাকটিক্যাল ভুলের খেসারত দিয়ে ব্রাইটনের কাছে ৩-২ ব্যবধানে হেরে ইএফএল কাপের তৃতীয় রাউন্ড থেকেই ছিটকে গেছে রেড ডেভিলরা।

​ম্যাচের শুরুটা ইউনাইটেডের জন্য ছিল স্বপ্নের মতো। আক্রমণাত্মক ৪-৩-৩ ফর্মেশনে নেমে শুরু থেকেই ব্রাইটনকে হাই-প্রেসিংয়ে তটস্থ করে তোলে স্বাগতিকরা। ম্যাচের মাত্র আট মিনিটে শি লাসির দুর্দান্ত গোলে এগিয়ে যায় ম্যান ইউ। এর ঠিক দুই মিনিট পর, দশ মিনিটে ম্যাসন মাউন্টের নিখুঁত ফিনিশিং ওল্ড ট্র্যাফোর্ডের গ্যালারিকে উল্লাসে ভাসায়। ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে ম্যানচেস্টার তখন ম্যাচের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণে।

তবে দুই গোল হজম করার পরই কৌশলে পরিবর্তন আনে ব্রাইটন। তারা ব্যাকলাইন থেকে বল বিল্ড আপের গতি বাড়িয়ে দেয় এবং ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের উঁচুতে উঠে আসা উইংব্যাকদের পেছনের ফাঁকা জায়গাগুলো লক্ষ্য করে আক্রমণ শানাতে থাকে।

প্রথম অর্ধে ইউনাইটেড যে হাই লাইন ডিফেন্স খেলেছে, ব্রাইটন বারবার সেটিকে চ্যালেঞ্জ জানায়। এর ফলশ্রুতিতে ৪৫ মিনিটে চারাল্যাম্পোস কোস্টুলাস গোল করে ব্যবধান ২-১ নামিয়ে আনেন। এই গোলটি ব্রাইটনকে ড্রেসিংরুমে যাওয়ার আগে বড় মনস্তাত্ত্বিক সুবিধা দেয়।

দ্বিতীয়ার্ধে মাঠে নেমে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের মিডফিল্ড স্ট্রাকচার পুরোপুরি ভেঙে পড়তে দেখা যায়। মাঝমাঠে বলের দখল হারিয়ে ফেলায় প্রেস ভাঙার কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছিল না তারা। এই সুযোগে ব্রাইটনের পাস্কাল গ্রোস মিডফিল্ডে ফ্রি রোলে খেলা নিয়ন্ত্রণ করতে শুরু করেন। ৬৫ মিনিটে ডিফেন্সিভ ট্রানজিশনের শ্লথগতির সুযোগ নিয়ে চমৎকার এক ফিনিশিংয়ে ব্রাইটনকে ২-২ সমতায় ফেরান গ্রোস।

​সমতায় ফেরার পর ব্রাইটনের আক্রমণের ধরণ আরও ধারালো হয়ে ওঠে। অন্যদিকে, ইউনাইটেড তাদের কৌশলে কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে ব্যর্থ হয়। ৬৯ মিনিটে ইউনাইটেড বক্সের দুর্বল মার্কিংয়ের সুযোগ নিয়ে জয়সূচক গোলটি করেন মাক্সিম ডে কুইপার।

​দুই গোলে এগিয়ে যাওয়ার পর ম্যাচ নিয়ন্ত্রণ করতে না পারা এবং ডিফেন্সিভ ট্রানজিশনে খেলোয়াড়দের দায়িত্বজ্ঞানহীন পজিশনিংই মূলত রেড ডেভিলদের এই বিদায়ের প্রধান কারণ। ম্যাচজুড়ে ইউনাইটেড সুযোগ তৈরি করলেও ম্যাচের গতি অনুযায়ী কৌশলগত নমনীয়তা না দেখানোয় ব্রাইটন স্মরণীয় এক জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link