সবশেষ জিম্বাবুয়ে সফরে প্লেয়ার অব দ্য সিরিজ, সবশেষ খেলা টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ৮১ রানের অনবদ্য নক। তবুও ঘরের মাঠে বৈভব সুরিয়াভানশিকে উপেক্ষা করল ভারত। কেন ফর্মে থাকার পরেও আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচে সুযোগ পেলেন না বৈভব?
টি-টোয়েন্টিতে ভারত দলে বিকল্পের শেষ নেই। এত তারকাদের নিয়ে একাদশ সাজাতে মধুর সমস্যায় পড়তে হয় কোচ-ক্যাপ্টেনকে। এবার সেই সমস্যার খেসারত গুনতে হচ্ছে বৈভবকে। বিদেশের মাটিতে অভিষেক হলেও ঘরের মাঠে বৈভবের অভিষেকটা তাই এখনও হয়নি।
প্রশ্ন আসতেই পারে, বিদেশে চাপের মুখে বৈভবকে খেলানো হলো, রানও পেলেন সবশেষ সিরিজে, নিজেদের ঘরের মাঠে তাহলে কেন তাঁকে রাখা হলো না একাদশে। সাঞ্জু স্যামসনকে জায়গা করে দিতেই সরে দাঁড়াতে হয়েছে তাঁকে, তবে সাঞ্জুর চেয়ে ভালো ছন্দে ছিলেন বৈভব। শুধু তাই নয়, অভিষেক শর্মাও যাচ্ছিলেন ব্যাটপ্যাঁচের মধ্যে দিয়ে। এই দুই ওপেনারের থেকে সাম্প্রতিক পারফরম্যান্সের বিচারে যোজন যোজন এগিয়ে ছিলেন বৈভব। তবে কেন তাঁকে সময় কাটাতে হচ্ছে ডাগআউটে বসে?

এখানে বেশ কিছু বিষয় কাজ আছে। সাঞ্জু আর অভিষেককে ফর্মে ফেরানো যার মধ্যে একটি। এই দুজন দীর্ঘদিন ধরেই ওপেনিংয়ের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। নিজেদের জায়গাটা তৈরি করেছেন। তাই তো হুট করেই ৫-৬ ম্যাচ খারাপ গেলে কাউকে বসিয়ে দেওয়ার চিন্তা ভারত অন্তত করে না। ধারাবাহিকভাবে রান না পাওয়ায় আত্মবিশ্বাস তাদের তলানিতে ঠেকেছে। হোম গ্রাউন্ডে আফগানিস্তানের মতো দলের বিপক্ষে তাই সেই সুযোগটাই কাজে লাগাল ভারত। আপাতত প্রথম দুই ম্যাচে সেই কাজে সফলও তারা।
অন্যদিকে বৈভবকে আগলে রাখার জন্যই এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বৈভব নিজের পথ তৈরি করছেন। ধীরে ধীরে গড়ে নিচ্ছেন নিজেকে। ভুলভ্রান্তি, টেকনিক্যাল সমস্যার জায়গা, এডজাস্টমেন্ট এমন ক্রিকেটীয় তত্ত্ব দলের সাথে থেকে ঝালায় করে নিচ্ছেন। তিনি যদি রেগুলার খেলেন তাহলে দূর্বলতার জায়গা গুলো এক্সপোজ হয়ে যেতে পারে। তাই তো সময়ের সাথে তাকে গড়ে তোলা হচ্ছে।
অনেক সময় পড়ে আছে তার সামনে। দলের সাথে তিনি থাকছেনই। তাই খেলাতেই হবে এমন চাপ নেই। সময়-সুযোগ কিংবা পরিকল্পনা অনুযায়ী তাঁকে নামিয়ে দেওয়া হবে মাঠে। এই ভাবনাটাই মূলত বৈভবকে প্রথম দুই ম্যাচের একাদশ থেকে সরিয়ে রাখা হয়েছে।

আফগানিস্তানের বিপক্ষে প্রথম দুই ম্যাচ জিতে ইতিমধ্যেই সিরিজটা বাগিয়ে নিয়েছে ভারত। যে পরিকল্পনা ছিল সাঞ্জু এবং অভিষেককে ফর্মে ফেরানোর, সেটাতেও সফল ভারত। শেষ ম্যাচে তাই বৈভবকে মাঠে নামানো হবে হয়তো। তবে যদি পারফরম্যান্সের বিচার টানা হয়, সেক্ষেত্রে শুরু থেকেই বৈভবকে একাদশে রাখা উচিত ছিল। তবে ভারতের পরিকল্পনায় ঠাঁই পেয়েছে আগলে রাখার ব্যাপারটা।










