বৃষ্টি সেমিফাইনালে তুলল বাংলাদেশকে!

একটি বলও মাঠে গড়াল না, ব্যাট হাতে নামতে হলো না কাউকে, এমনকি বল হাতে বাংলাদেশের কোনো বোলারকেও পরীক্ষা দিতে হলো না। অথচ এশিয়ান গেমসের নারী ক্রিকেটে সেমিফাইনালের টিকিট পকেটে পুরে ফেলেছে বাংলাদেশ।

একটি বলও মাঠে গড়াল না, ব্যাট হাতে নামতে হলো না কাউকে, এমনকি বল হাতে বাংলাদেশের কোনো বোলারকেও পরীক্ষা দিতে হলো না। অথচ এশিয়ান গেমসের নারী ক্রিকেটে সেমিফাইনালের টিকিট পকেটে পুরে ফেলেছে বাংলাদেশ।

নাগোয়ার আকাশজুড়ে জমে থাকা মেঘ ভারি বর্ষণ হয়ে নেমে পুরো মাঠকে খেলার অনুপযুক্ত করে ফেলে। ম্যাচের সময় রোদ ছিল আকাশে, তবে ভেজা আউটফিল্ড আর শুকোয়নি। ফলাফল, কোয়ার্টার ফাইনাল খেলতে হলো না নিগার সুলতানা জ্যোতিদের। তাতে অবশ্য ক্ষতির বদলে লাভই হয়েছে। ম্যাচ পরিত্যক্ত হওয়ায় র‍্যাঙ্কিংয়ের সুবিধায় সরাসরি শেষ চারে জায়গা করে নিয়েছে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

শুধু ম্যাচের দিনই নয়, এর আগের কয়েক দিনও নাগোয়ার বৃষ্টি বাংলাদেশের প্রস্তুতিতে বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। পুরোদমে অনুশীলনের সুযোগ না পাওয়ায় চীনের বিপক্ষে ম্যাচটি নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই ছিল অনিশ্চয়তা। শেষ পর্যন্ত সেই অনিশ্চয়তার অবসান হলো ক্রিকেটীয় লড়াই ছাড়াই।

নিয়ম অনুযায়ী নির্ধারিত ২০ ওভারের ম্যাচ আয়োজন সম্ভব না হলে ফল নির্ধারণের জন্য সুপার ওভারের পথ খোলা ছিল। কিন্তু তার জন্যও প্রয়োজন ছিল অন্তত কিছুটা সময় মাঠে নামার। তবে ভেজা মাঠ বাগড়া দিল শেষ পর্যন্ত।  দুই দলের টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংই হয়ে উঠল ফল নির্ধারণের মাপকাঠি।

সেখানেই বড় ব্যবধানে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশ। আইসিসির টি-টোয়েন্টি র‍্যাঙ্কিংয়ে বাংলাদেশের অবস্থান ১০, আর চীনের ৩৬। দুই দলের র‍্যাঙ্কিংয়ের এই ব্যবধানই শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের ভাগ্য নির্ধারণ করে দেয়।

তবে সেমিফাইনালের গল্পটা আর এতটা সহজ হওয়ার সুযোগ নেই। শেষ চারে বাংলাদেশের সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ ভারত। শুক্রবার জাপান এবং ভারত কোয়ার্টার ফাইনালে যে দল জয়ী হবে, তাদের বিপক্ষেই সেমিফাইনালে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ। সেক্ষেত্রে ভারতই যে সম্ভাব্য প্রতিপক্ষ, তা অনুমেয়ই। সেই সম্ভাবনা সত্যি হলে সামনে অপেক্ষা করছে পরিচিত এক প্রতিপক্ষ, যার কাছে কদিন আগেই এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে হেরেছিল বাংলাদেশ।

সেই ম্যাচের স্মৃতি নিশ্চয়ই এখনো টাটকা জ্যোতিদের। তবে ক্রিকেটে প্রতিটি নতুন ম্যাচই নতুন গল্প লেখার সুযোগ। এশিয়া কাপের সেই হতাশাকে পেছনে ফেলে এবার এশিয়ান গেমসের মঞ্চে নিজেদের অন্য এক চেহারা দেখানোর লক্ষ্য বাংলাদেশের। চীনের বিপক্ষে ম্যাচটি খেলতে না পারায় সেই প্রস্তুতির বাস্তব পরীক্ষা অবশ্য হয়নি। ফলে সেমিফাইনালে নামার আগেই বড় প্রশ্ন, দীর্ঘ বৃষ্টিবিঘ্নিত প্রস্তুতির পর প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে কতটা দ্রুত নিজেদের ছন্দে ফিরতে পারে বাংলাদেশ?

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link