হ্যাটট্রিকে রাফিনহার ফরোয়ার্ড জাদু!

এই তো আর কয়েকটা সপ্তাহ আগেও কি কেউ ভেবেছিল উইং ছেড়ে সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড হিসেবে মাঠে নেমে রাফিনহা এতটা বিধ্বংসী রূপ ধারণ করবেন?

এই রাফিনহা ভয়ংকর, এই রাফিনহা অনন্য। রেসিং ক্লাবকে ৭-২ ব্যবধানে উড়িয়ে দেওয়ার ম্যাচে দর্শনীয় হ্যাটট্রিক করে তা আরও একবার প্রমাণ করলেন তিনি। এই তো আর কয়েকটা সপ্তাহ আগেও কি কেউ ভেবেছিল উইং ছেড়ে সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড হিসেবে মাঠে নেমে রাফিনহা এতটা বিধ্বংসী রূপ ধারণ করবেন?

রেসিংয়ের বিরুদ্ধে এই ৭-২ গোলের মহোৎসবে বার্সেলোনার আক্রমণের একদম কেন্দ্রে ছিলেন এই ব্রাজিলিয়ান। সিজনের শুরু থেকেই প্রথগত ‘নম্বর নাইন’ বিহীন বার্সেলোনায় সেন্ট্রাল ও ইনসাইড ফরোয়ার্ড হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন তিনি। ফলাফল? প্রতিপক্ষের বক্সে স্রেফ আগুন জ্বালিয়ে দিচ্ছেন।

প্রথমার্ধে পেনাল্টি থেকে প্রথম গোল, এরপর ৪২ মিনিটে ডিফেন্স চেরা রানে চমৎকার ফিনিশিং এবং দ্বিতীয়ার্ধে আবারও পেনাল্টি থেকে গোল। মাঠে রাফিনহার উপস্থিতি রেসিংয়ের সেন্ট্রাল ডিফেন্ডারদের জন্য পুরোপুরি এক দু:স্বপ্নে পরিণত হয়েছিল।

ফ্লিকের হাই ইন্টেনসিটি সিস্টেমে সেন্ট্রাল ফরোয়ার্ড পজিশনে রাফিনহার ট্যাকটিক্যাল মুভমেন্ট এখন অসাধারণ। লামিনে ইয়ামাল উইংয়ে ওয়াইড পজিশন নেওয়ায় রাফিনহা বারবার বক্সে ছলে-বলে-কৌশলে স্পেস তৈরি করেছেন।

বল ছাড়া ডিফেন্সের পেছন দিয়ে তাঁর ক্ষুরধার ইনসাইড রানগুলো বার্সেলোনাকে এনে দিয়েছে এক নতুন ধার। শুধু তা-ই নয়, ফ্লিকের ‘হাই-প্রেস’ দর্শনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে সামনে থেকে প্রতিপক্ষের বিল্ড আপ ভেস্তে দিতে তার নিরলস ওয়ার্করেট ছিল চোখে পড়ার মতো।

​চলতি ২০২৬-২৭ মৌসুমে ইতোমধ্যেই রাফিনহার নামের পাশে মাত্র ছয় ম্যাচে নয় গোল এবং তিন অ্যাসিস্টের অবিশ্বাস্য পরিসংখ্যান! তা-ই প্রমাণ করে যে, উইং ছেড়ে ফরোয়ার্ড পজিশনে উঠে আসার এই ট্যাকটিক্যাল সিদ্ধান্ত রাফিনহাকে ক্যারিয়ারের সবচেয়ে রোমাঞ্চকর ও প্রাণঘাতী ফর্মে পৌঁছে দিয়েছে।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link