অভিষেকের তাণ্ডবের পাশে নিঃশব্দ নায়ক সাঞ্জু স্যামসন

অভিষেকের ঝড়ের আড়ালে হয়তো আলোচনাটা কম হয়েছে, কিন্তু জুটির ভিত গড়ার কাজটা একা করেননি অভিষেক। সাঞ্জু ছিলেন বলেই ঝড়টা এত দীর্ঘ হতে পেরেছে, একজন যখন আক্রমণ চালিয়েছেন, অন্যজন তখন সেই আক্রমণটাকে টিকিয়ে রাখার কাজটা করে গেছেন নিঃশব্দে।

অভিষেক শর্মা  যখন তাণ্ডব চালাচ্ছিলেন, চুপচাপ দাঁড়িয়ে ছিলেন সাঞ্জু স্যামসন। স্ট্রাইক ছেড়ে দিয়ে সঙ্গীকে সুযোগ করে দেওয়াই যেন ছিল তাঁর কাজ। সিনিয়র ক্রিকেটাররা ত এভাবেই খেলেন, প্রয়োজনের সময় নিজেকে গুটিয়ে রাখেন, সুযোগ পেলে ঠিকই জানিয়ে দেন তাঁর ব্যাটেও  ঝড় জমা আছে।

আর ঠিক  যখনই স্ট্রাইক পেয়েছেন, প্রতিবারই বুঝিয়ে দিয়েছেন সেই কথা।

পাওয়ারপ্লেতেই দুজন মিলে তুলে ফেলেন বিনা উইকেটে ১০০ রান, ভারতের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে যা সর্বোচ্চ। সেখানে অভিষেকের ঝড়ের পাশে সাঞ্জুর অবদানও কম ছিল না, ছয় ওভার শেষে তাঁর রান ছিল ২৪, যা দলের প্রয়োজনে ঠিক ততটুকুই যতটা দরকার ছিল।

অভিষেক যখন একের পর এক বাউন্ডারি মেরে সেঞ্চুরির দিকে ছুটছিলেন, সাঞ্জু তখন অন্যপ্রান্তে ধৈর্য ধরে সঙ্গ দিয়ে গেছেন। দুজনের উদ্বোধনী জুটিতে আসে ১৪২ রান, যা এই সিরিজেই ভারতের সবচেয়ে বড় উদ্বোধনী স্ট্যান্ড। অভিষেক আউট হওয়ার পর দায়িত্বটা আরও খানিকটা বেড়ে যায় সাঞ্জুর কাঁধে, আর সেই দায়িত্ব সামলেছেন নিজের মতো করেই।

শেষ পর্যন্ত ৩৫ বলে ৫০ রান করে থামেন সাঞ্জু, দুটি চার আর চারটি ছক্কায় সাজানো ইনিংস। আজমতউল্লাহ ওমরজাইয়ের বলে রশিদ খানের হাতে ধরা পড়ে ফিরে যান, ততক্ষণে স্কোরবোর্ডে ভারতের রান ১৬৪। আগের ম্যাচেও ফিফটি করে ফিরেছিলেন এই ওপেনার, আর এই ম্যাচেও একই কাজ করে দেখালেন। পরপর দুই ম্যাচে ফিফটি মানেই বোঝা যাচ্ছে, বিশ্বকাপের পরের সেই খারাপ সময়টা পুরোপুরি পেছনে ফেলে এসেছেন সাঞ্জু, ফিরেছেন রীতিমতো বীরদর্পে।

অভিষেকের ঝড়ের আড়ালে হয়তো আলোচনাটা কম হয়েছে, কিন্তু জুটির ভিত গড়ার কাজটা একা করেননি অভিষেক। সাঞ্জু ছিলেন বলেই ঝড়টা এত দীর্ঘ হতে পেরেছে, একজন যখন আক্রমণ চালিয়েছেন, অন্যজন তখন সেই আক্রমণটাকে টিকিয়ে রাখার কাজটা করে গেছেন নিঃশব্দে।

লেখক পরিচিতি

আমজাদ হোসেন আবির

সাব এডিটর

Share via
Copy link