উপমহাদেশের সেরা বাংলাদেশ!

উপমহাদেশের দলগুলোর ভেতরে কারা থ্রি লায়ন্সদের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে সেরা? জবাবটা চোখ কপালে তোলার মতো!

উপমহাদেশের দলগুলোর ভেতরে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে সবচেয়ে সেরা কে? জবাবটা চোখ কপালে তোলার মতো! কারণ, ভারত, শ্রীলঙ্কা বা পাকিস্তানকে পিছনে ফেলে ক্রিকেটের ক্ষুদে সংস্করণটিতে ইংলিশদের বিপক্ষে সর্বোচ্চ জেতার হার যে খোদ বাংলাদেশেরই দখলে!

অবিশ্বাস্য মনে হলেও এটাই সত্যি। ফরম্যাটটিতে থ্রি লায়ন্সদের বিপক্ষে এখন পর্যন্ত চার ম্যাচ খেলে তিনটিতেই জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ, শতাংশের অঙ্কে সেটা ৭৫! অথচ, সেখানে তিনবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী ভারতের জয়ের হার ৫২.৯ শতাংশ। আর পাকিস্তানের প্রায় ৩০শতাংশ এবং শ্রীলঙ্কার মাত্র ২২.২২ শতাংশ।

২০২১ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে প্রথমবারের মতো ইংল্যান্ডের মুখোমুখি হয় বাংলাদেশ। সেবার ব্যাটারদের ব্যর্থতায় আট উইকেটের বড় ব্যবধানে পরাজিত হন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ-মুশফিকুর রহিমরা।

এর ঠিক দুবছর বাদে সদ্য টি-টোয়েন্টি বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড পূর্ণশক্তির দল নিয়ে বাংলাদেশ সফরে আসে। ২০২৩ সালের মার্চে হওয়া সেই টি-টোয়েন্টি সিরিজেই মোক্ষম প্রতিশোধ নেয় বাংলাদেশ! জস বাটলার, ফিল সল্ট, স্যাম কারান, মঈন আলী, জোফরা আর্চারদের মতো তারকায় ঠাসা ইংল্যান্ডকে  ধবলধোলাই করে স্বাগতিক বাংলাদেশ।

চট্টগ্রামে প্রথম ম্যাচে নাজমুল হোসেন শান্তর অনবদ্য হাফ সেঞ্চুরি ও সাকিব আল হাসানের কার্যকর ৩৪ রানের ইনিংসে ভর করে ১৫৬ রান তাড়া করে বাটলার বাহিনীকে পরাস্ত করে স্বাগতিকরা। এরপর দ্বিতীয় ম্যাচে মিরপুরে মেহেদী হাসান মিরাজের জাদুকরী ঘূর্ণিতে ইংলিশদের মাত্র ১১৮ রানে গুটিয়ে দেয় বাংলাদেশ। জবাবে আবারও সেই শান্তর ৪৬ রানের এক ধীরস্থির ইনিংসে চেপে সিরিজ নিজেদের করে নেন সাকিব-মিরাজরা।

এখানেই শেষ নয়! সিরিজের শেষ ম্যাচে ওপেনার লিটন দাসের ৭৩ রানের এক ক্যামিও ইনিংসের সাথে শান্তর ৪৭ রানের দারুণ এক নকে ইংল্যান্ডকে ১৫৮ রানের টার্গেট ছুঁড়ে দেয় বাংলাদেশ। জবাবে ইংলিশদের ১৪২ রানে থামিয়ে রূপকথার গল্প লেখেন লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা!

অবশ্য, কিছু নিখুঁত ট্যাকটিক্যাল পরিকল্পনা ও শক্তিশালী এক্স ফ্যাক্টরের বদৌলতেই এই সাফল্যের দেখা পেয়েছিল বাংলাদেশ। প্রথমত, মিরপুরের ধীরগতির উইকেটে প্রথাগত ‘বাজবল’ কৌশলে আক্রমণাত্মক খেলার প্রচেষ্টা মুখ থুবড়ে পড়ে ইংলিশদের। পর্যাপ্ত বাউন্স না পেয়ে ইংল্যান্ডের হার্ড হিটাররা উইকেটে খাবি খেতে থাকেন।

এতে, সাকিব-মিরাজের স্পিন-চোক আর বোলিং ভ্যারিয়েশনের ধাক্কায় থ্রি লায়ন্স ব্যাটিং লাইনআপে ধস নামে। সাথে, শান্ত ও তাওহীদ হৃদয়ের ধারাবাহিক ব্যাটিংয়ের পাশাপাশি শেষ ম্যাচে লিটন দাসের দুর্দান্ত ব্যাটিং ইংল্যান্ডকে কোনঠাসা করে ফেলে।

 

কিন্তু, টি-টোয়েন্টিতে ইংলিশদের বিপক্ষে বাংলাদেশের এমন পারফরম্যান্সের সমালোচনা করার বোদ্ধার সংখ্যাও নেহাত কম নয়! তাঁদের দাবি, বাংলাদেশ হরহামেশাই ধীরগতির উইকেট তৈরি করে বড় দলগুলোর বিপক্ষে হোম গ্রাউন্ডের অ্যাডভান্টেজকে পুরোপুরি কাজে লাগায়! অথচ, পাল্লেকেলে, প্রেমাদাসার মতো স্পিন সহায়ক পিচে খেলেও শ্রীলঙ্কা ২০১৪ সালের পর আর ইংলিশদের বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে জয় পায়নি।  টার্নিং পিচেও পাকিস্তানকে ইংলিশদের হারাতে প্রচুর বেগ পেতে হয়েছে। তবে সব ছাপিয়ে সংখ্যার হিসাবটাতে যে বাংলাদেশই সবার সেরা।

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link