ভারতের আধিপত্য নাকি বাংলাদেশের প্রতিশোধ- কেমন হবে সেমিফাইনাল?

একই প্রতিপক্ষ, একই ফরম্যাট, আবারও বড় একটা টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল! যেন ভারতের বিপক্ষে নিজেদের ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার আরেকটা সুযোগ পেল বাংলাদেশ, এবার মঞ্চ এশিয়ান গেমস। সেই সুযোগ কি কাজে লাগাতে পারবে বাংলাদেশ, নাকি ভারত আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে ফাইনালে উঠবে?

একই প্রতিপক্ষ, একই ফরম্যাট, আবারও বড় একটা টুর্নামেন্টের সেমিফাইনাল! যেন ভারতের বিপক্ষে নিজেদের ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার আরেকটা সুযোগ পেল বাংলাদেশ, এবার মঞ্চ এশিয়ান গেমস। সেই সুযোগ কি কাজে লাগাতে পারবে বাংলাদেশ, নাকি ভারত আবারও নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণ করে ফাইনালে উঠবে?

রোববার বাংলাদেশ সময় সকাল ১১টায় করোগি স্পোর্টস পার্কে এশিয়ান গেমসের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে বাংলাদেশের মুখোমুখি হবে ভারত। চীনের বিপক্ষে কোয়ার্টার ফাইনাল বৃষ্টিতে বাতিল হওয়ায় র‍্যাঙ্কিংয়ের জোরে সেমিতে উঠেছে বাংলাদেশ, এই আসরে এটাই হবে তাদের প্রথম ম্যাচ। অন্যদিকে ভারত সেই মাঠেই জাপানকে রীতিমতো উড়িয়ে দিয়ে ৮ উইকেটের ব্যবধানে জিতেছে।

ম্যাচের আগে বড় খবরটা অবশ্য মাঠের বাইরের। নিগার সুলতানা জ্যোতি নিজেই জানিয়েছেন, এশিয়ান গেমসের পর তিনি আর টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক থাকবেন না। ব্যাটিং আর উইকেটকিপিংয়ে বাড়তি মনোযোগ দিতে চান তিনি, ওয়ানডেতে নেতৃত্ব চালিয়ে যাবেন। বিসিবি এতে বিস্মিত ও হতাশ।

হুট করে অধিনায়ক বদলালে খেলায় ও ড্রেসিংরুমে প্রভাব পড়তে পারে, এই আশঙ্কায় বোর্ড চেয়েছিল সিদ্ধান্তটা এশিয়ান গেমসের পরে আসুক। কিন্তু জ্যোতি যেহেতু ইতিমধ্যে জানিয়ে দিয়েছেন, নির্বাচক ও ম্যানেজমেন্টের সামনে এখন বড় চ্যালেঞ্জ নতুন অধিনায়ক বাছাই করা এবং তাঁর সঙ্গে খেলোয়াড়দের বোঝাপড়া তৈরি করা।

অন্যদিকে ভারত আছে উড়ন্ত ফর্মে। তাদের সবচেয়ে বড় ভরসা শেফালি ভার্মা। জাপানের বিপক্ষে বল হাতে নিয়েছেন ২ উইকেট, তারপর ১৫ বলে অপরাজিত ৪০ রান করেছেন। এশিয়া কাপের সেমিফাইনালে বাংলাদেশের বিপক্ষেও করেছিলেন ৬৪।

সঙ্গে আছেন স্মৃতি মান্ধানা, হারমানপ্রীত কৌর আর রিচা ঘোষ। বোলিংয়ে শ্রী চরণী ও দীপ্তি শর্মার স্পিনই বাংলাদেশের ব্যাটারদের আসল পরীক্ষা। চরণী জাপানের বিপক্ষে ১০ রানে ৪ উইকেট নিয়েছেন। সব দিক থেকেই ভারত স্পষ্ট ফেভারিট, আর দুই দলের মুখোমুখি লড়াইয়ে ২৫ ম্যাচে বাংলাদেশের জয় মাত্র তিনটি।

বাংলাদেশকে সুযোগ তৈরি করতে হবে শুরুতেই। শেফালি বা মান্ধানা দ্রুত আউট হলে ভারতের টপ অর্ডার চাপে পড়বে। সে কাজে নজর থাকবে মারুফা আক্তার আর সুলতানা খাতুনের দিকে। এশিয়া কাপের সেমিতে সুলতানা নিজের প্রথম ওভারেই মান্ধানাকে ফিরিয়েছিলেন। মিডল ওভারে নাহিদা আক্তার আর রাবেয়া খানকে উইকেট এনে দিতে হবে। ব্যাটিংয়ে দিলারা আক্তার ও জুয়াইরিয়া ফেরদৌস ভালো শুরু দিলে এবং সোবহানা মোস্তারির সঙ্গে জ্যোতি রান পেলে লড়াই করার মতো স্কোর দাঁড়াতে পারে।

এশিয়া কাপে শেফালি ভার্মা জীবন পেয়েছিলেন চারবার, আর সেই সুযোগে করেছিলেন ৬৪ রান। ওই ইনিংসই ভারতের বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেয়। তাই ফিল্ডিংয়ে বাংলাদেশকে আরও বেশি মনোযোগী হতে হবে, কারণ একটা ক্যাচ বা রান আউটই পুরো ম্যাচের গল্প বদলে দিতে পারে।

বড় টুর্নামেন্টে একই প্রতিপক্ষকে আবারও সেমিফাইনালে দ্বিতীয়বার পাওয়ার সুযোগ সহজে আসে না। বাংলাদেশ সেটাই পেয়েছে। তাই নিজেদের সবটুকু দিয়ে ম্যাচটা জিতে নেওয়াই লক্ষ্য হওয়া উচিত। এই ম্যাচের বিজয়ী দল ফাইনালে কাদের মুখোমুখি হবে, সেটাও ততক্ষণে ঠিক হয়ে যাবে।

এখন দেখার অপেক্ষা, ভারত কি আরেকবার নিজেদের শ্রেষ্ঠত্ব দেখিয়ে বাংলাদেশকে হারিয়ে ফাইনালে যাবে, নাকি বাংলাদেশ এশিয়া কাপের হারের প্রতিশোধ নিয়ে ফাইনালে উঠবে।

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link