বায়ার্নই যেন বদলে দিয়েছে হ্যারি কেনের জীবন!

আজ অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় ইউনিয়ন বার্লিনকে ৭-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দেওয়ার দিনে জোড়া গোল করে ইংলিশ অধিনায়ক প্রমাণ করলেন, কেন তিনি আজ ব্যালন ডি'অর জয়ের দৌড়ে মূল আলোচনায় উঠে এসেছেন।

​একসময় বলা হতো তিনি শুধুই একজন ‘গোলমেশিন’, যার ভাগ্যে ভাগ্য দেবতা ট্রফির ছোঁয়াও রাখেনি। টটেনহ্যাম হটস্পারের হয়ে বছরের পর বছর পারফর্ম করেও শিরোপাশূন্য থাকার সেই অধ্যায় পেছনে ফেলে বায়ার্ন মিউনিখে আসাই যেন হ্যারি কেনের ক্যারিয়ারের মোড় পুরোপুরি ঘুরিয়ে দিয়েছে। আজ অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনায় ইউনিয়ন বার্লিনকে ৭-০ ব্যবধানে উড়িয়ে দেওয়ার দিনে জোড়া গোল করে ইংলিশ অধিনায়ক প্রমাণ করলেন, কেন তিনি আজ ব্যালন ডি’অর জয়ের দৌড়ে মূল আলোচনায় উঠে এসেছেন।

বার্লিনের বিপক্ষে আজকের ম্যাচে শুরু থেকেই ক্ষুরধার ছিলেন কেন। ম্যাচের ৩৯তম মিনিটে মাইকেল ওলিসে বক্সে ফাউলের শিকার হলে পেনাল্টি পায় বায়ার্ন। ঠাণ্ডা মাথার ডান পায়ের শটে বটম লেফট কর্নার ঘেঁষে বল জালে জড়িয়ে দলকে ২-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন কেন।

এরপর ৫৪তম মিনিটে ওলিসের নেওয়া ক্রসে বক্সের চমৎকার পজিশনিং থেকে জোরালো হেডার গোল করে দলের চার নম্বর গোলটি নিশ্চিত করেন এই স্ট্রাইকার। প্রথাগত ফিনিশিংয়ের পাশাপাশি প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে ব্যস্ত রাখা এবং ডিপ ড্রপিং রোলে দলের জয়ে অসামান্য অবদান রাখেন তিনি।

​জার্মান ক্লাবে পা রাখার পর থেকেই অবিশ্বাস্য ফর্মে রয়েছেন কেন। ২০২৫-২৬ মৌসুমে বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে ৫১ ম্যাচে ৬১টি গোল এবং সাতটি অ্যাসিস্ট করেন তিনি। বুন্দেসলিগার ৩১ ম্যাচে ৩৬ গোল ও পাঁচ অ্যাসিস্টের পাশাপাশি চ্যাম্পিয়নস লিগের ১৩ ম্যাচে রয়েছে ১৪ গোল ও দুই অ্যাসিস্ট।

টটেনহ্যামে টানা ভালো পারফর্ম করেও দলীয় শিরোপা ও বড় আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির ঘাটতি ছিল। তবে বায়ার্নে যোগ দিয়ে গোলবন্যা ছোটানোর পাশাপাশি বড় বড় মঞ্চে দলের জয়ে নেতৃত্ব দেওয়ায় ক্যারিয়ারে এই প্রথম ব্যালন ডি’অরের অন্যতম শক্ত দাবিদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন হ্যারি কেন।

অ্যালিয়াঞ্জ অ্যারেনার এই জার্সিতে কেনের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করছে যে, টটেনহ্যাম ছাড়ার সিদ্ধান্তটি কেবল তাঁর ঠিকানা বদল ছিল না, বরং তা ছিল বিশ্বফুটবলের সর্বোচ্চ শিখরে পৌঁছানোর চূড়ান্ত পদক্ষেপ।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

Share via
Copy link