ওপেনিংয়ে ব্যর্থতার মহোৎসব চলবে আর কতদিন?

আফগানিস্তান টেস্টের পর নভেম্বরে আছে সাউথ আফ্রিকা সফর। এবার কি ওপেনিংয়ের টানা ব্যর্থতা থেকে মুক্তি মিলবে, নাকি আবারও শান্ত, মুমিনুল, মুশফিকদের ওপরই ভরসা করতে হবে?

আফগানিস্তানের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টের আগে মিরপুরে অনুশীলনে নেমেছে বাংলাদেশ। মাঠে ব্যাট হাতে ব্যস্ত দেখা গেছে সৌম্য সরকার, জাকির হাসান আর সাদমান ইসলামকে, সঙ্গে টপ অর্ডারের মুমিনুল হক আর অভিজ্ঞ মুশফিকুর রহিম। আগামী  ৯ অক্টোবর আমিরাতে শুরু হবে সেই টেস্ট! এবারও  সবার চোখ অবশ্য সেই ওপেনিংয়ের দিকে, কারণ বছরের পর বছর বাংলাদেশ ঠিক এই জায়গাতেই হোঁচট খাচ্ছে।

টেস্টে দলের সবচেয়ে বড় ভরসা ওপেনিং জুটি, প্রথম জুটি বিনা উইকেটে কয়েকটা সেশন কাটিয়ে দিতে পারলে লিড গড়া বা লিড তাড়া করা, দুটোরই শুরু ভালো হয়। কিন্তু এখানে এই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় ধাঁধা!  জয়, সাদমান ও জাকিরের মধ্যে যেন চলছে কে কার চেয়ে খারাপ খেলবেন, সেই প্রতিযোগিতা!  একজন ব্যর্থ হলে দলে সুযোগ পান আরেকজন।

মাহমুদুল হাসান জয় ২৩ টেস্টে করেছেন ১১২৯ রান, গড় ২৬.২৫, ২০২২ সালে ডারবানে করা তাঁর ১৩৭ সাউথ আফ্রিকায় কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি। ২০২৪ সালের শুরু থেকে ৭ টেস্টে গড় ১৪.৯২ হওয়ায় বাদ পড়েন। জাতীয় লিগে ১২৭ ও ৫১ করে ফিরে আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে করেন ক্যারিয়ারসেরা ১৭১। তবে অস্ট্রেলিয়া সফরের দলে আর জায়গা পাননি।

সাদমান ইসলামের ৩০ টেস্টে রান ১৪৯৮, গড় ২৭.৭৪। অস্ট্রেলিয়ায় ৪ ইনিংসে মোট ৪৬, ডারউইনে ২০ ও অপরাজিত ২৫, ম্যাকায়তে ০ ও ১।

জাকির হাসান ১৩ টেস্টে করেছেন ৫৯৩ রান, গড় ২৩.৭২, ২০২২ সালে ভারতের বিপক্ষে অভিষেক টেস্টেই সেঞ্চুরি করেন, শেষ টেস্ট খেলেছেন ২০২৪ সালের নভেম্বরে।সম্প্রতি ঘরোয়া ক্রিকেটে ২০২৫-২৬ মৌসুমে প্রথম শ্রেণিতে করেন ৬২৮ রান, গড় ৫৭.০৯। পাকিস্তান সিরিজে সাদমানের বদলি হিসেবে দলে ফিরলেও একাদশে জায়গা হয়নি।

সাদা বলের ওপেনার তানজিদ হাসান তামিমের টেস্ট অভিষেক গত ১৬ মে, সিলেটে পাকিস্তানের বিপক্ষে। ৩ টেস্টে রান ১৪০, গড় ২৩.৩৩। ডারউইনের ১০১ অস্ট্রেলিয়ায় কোনো বাংলাদেশি ব্যাটারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি করে হয়েছেন ইতিহাসের অংশ! ম্যাকায়তে ব্যাটিং বিপর্যয়ে তিনিও ছিলেন সঙ্গী, করেছেন ০ ও ৯ রান।

সৌম্য সরকারকে সাড়ে পাঁচ বছর পর অস্ট্রেলিয়া সফরের দলে ডাকা হলেও খেলানো হয়নি। ১৬ টেস্টে তাঁর রান ৮৩১, গড় ২৭.৭০, সর্বোচ্চ ১৪৯, শেষ টেস্টে করেছিলেন ০ ও ১৩। সাউথ আফ্রিকার বিপক্ষে ২০১৫ সালের ওয়ানডে সিরিজে অপরাজিত ৮৮ ও ৯০ করে সিরিজসেরা হয়েছিলেন।

সাউথ আফ্রিকায় বাংলাদেশ এ দলের সফরেও ওপেনাররা আলো ছড়াতে পারেননি। প্রথম আনঅফিসিয়াল টেস্টে দল অলআউট হয় ১২২ ও ১১২ রানে, হার ইনিংস ও ৪১৩ রানে। জয় প্রথম ইনিংসে ১৯ করেন, জাকির দ্বিতীয় ইনিংসে ৮। যেখানে দ্বিতীয় টেস্টে বাংলাদেশে আলো  ছড়ায় তিন নম্বরে নেমে অপরাজিত ৩৫০ করেন তাওহিদ হৃদয়, প্রথম শ্রেণিতে যা কোনো বাংলাদেশির সর্বোচ্চ।

ওপেনিংয়ের এই অবস্থার মধ্যেও টেস্টে দল এবার ভালো করছে। পাকিস্তানকে হারিয়েছে ২-০ তে, অস্ট্রেলিয়ায় সিরিজ ১-১। কৃতিত্ব মূলত ওপেনার বাদে বাকিদের। পাকিস্তান সিরিজে সবচেয়ে বেশি রান মুশফিকুর রহিমের, মিরপুরে শান্ত করেছেন ১০১ ও ৮৭।

আফগানিস্তান টেস্টের পর নভেম্বরে আছে সাউথ আফ্রিকা সফর। এবার কি ওপেনিংয়ের টানা ব্যর্থতা থেকে মুক্তি মিলবে, নাকি আবারও শান্ত, মুমিনুল, মুশফিকদের ওপরই ভরসা করতে হবে?

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link