সোবহানা-মারুফাদের প্রতিশোধ, নাকি শেফালি-চরণীদের আধিপত্য?

সদ্য শেষ হওয়া এশিয়া কাপে ভারতের কাছে পরাস্ত হওয়ার প্রতিশোধ কি বাংলাদেশের মেয়েরা নিতে পারবেন? নাকি ভারতীয় নারীরা ধরে রাখবেন পুরোনো আধিপত্য?

সদ্য শেষ হওয়া এশিয়া কাপে ভারতের কাছে পরাস্ত হওয়ার প্রতিশোধ কি বাংলাদেশের মেয়েরা নিতে পারবেন? নাকি ভারতীয় নারীরা ধরে রাখবেন পুরোনো আধিপত্য? এশিয়ান গেমসের নারী ক্রিকেটের সেমিফাইনালে যখন মুখোমুখি হচ্ছে দুই প্রতিবেশী ভারত ও বাংলাদেশ, তখন এই দু’টি প্রশ্ন আসছে ঘুরেফিরে।

পরিসংখ্যানের পাল্লাটা অবশ্য ভারতের দিকেই ঝুঁকে আছে। টি-টোয়েন্টিতে ২৫ ম্যাচের ২২টিতেই বাংলাদেশের বিপক্ষে জয় পেয়েছে নীল জার্সিধারীরা। বিপরীতে, বাংলাদেশের জয় মোটে তিনটি। তবু, পুরোনো ভুলের মাশুল আর দিতে চাইবেন না বাংলাদেশিরা।

জাপানের নিশিনের করোগি স্পোর্টস পার্কের উইকেটটাও বেশ কৌতূহলোদ্দীপক। বেসবল কোর্ট থেকে ক্রিকেট মাঠে রূপ দেওয়া এই ভেন্যুতে বৃষ্টির প্রভাব স্পষ্ট। তাই স্যাঁতস্যাঁতে কন্ডিশন আর ভেজা আউটফিল্ডে শুরুতে পেসাররা সুইংয়ে আলো ছড়াতে পারেন। তবে সময়ের সাথে পিচে গতি কমে আসার সাথে পুরোনো বলে টার্নিং বাড়ার প্রবণতাও দৃশ্যমান এখানে। ফলে, গুরুত্বপূর্ণ মোমেন্টে দুদলের স্পিনাররাও বদলে দিতে পারেন ম্যাচের গতিপথ!

ম্যাচের মোমেন্টাম এনে দেওয়ার মতো অস্ত্র রয়েছে দুই দলেরই হাতে। ভারতের ব্যাটিংয়ে বিধ্বংসী সূচনা এনে দেওয়ার কারিগর বনে যেতে পারেন শেফালি ভার্মা। গত এক বছরে তিনি ভারতের জার্সিতে টি-টোয়েন্টিতে ৯৫৬ রান করেছেন। সদ্য সমাপ্ত এশিয়ান কাপে সেমিফাইনালে খোদ বাংলাদেশের বিপক্ষেই তাঁর ৬৪ রানের ঝোড়ো ইনিংস খেলার দৃশ্য এখনও তাজা দর্শকদের চোখে! সাথে আসরটিতে একটি সেঞ্চুরি ও হাফ সেঞ্চুরি হাঁকানো স্মৃতি মান্ধানার জাদুকরী ব্যাটিং নৈপুণ্যও ভারতের ইনিংসকে বড় করতে নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে।

বোলিংয়ে ভারতীয়দের প্রধান ভরসা শ্রী চরণী। চলতি বছরে তিনি নিজের ঝুলিতে ভরেছেন ৪৮ উইকেট। সবশেষ স্বাগতিক জাপানের বিপক্ষেই এশিয়ান গেমসের কোয়ার্টার ফাইনালে চার উইকেট শিকার করেছেন তিনি। এ ছাড়া, অলরাউন্ডার দীপ্তি শর্মার কার্যকর স্পিন এবং সময়োপযোগী নক শাপে বর হয়ে উঠতে পারে ভারতের জন্য। এশিয়া কাপের ফাইনালে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ও সেমিতে বাংলাদেশের বিপক্ষে তিনটি করে উইকেট নিয়েছিলেন এই ক্রিকেটার।

বিপরীতে, বাংলাদেশ অপেক্ষায় আছে দিলারা আক্তার ও জুয়াইরিয়া ফেরদৌসের ব্যাটিং ফর্মে ফেরার। এর সাথে, এশিয়া কাপে দুটো ত্রিশোর্ধ্ব ইনিংস খেলা সোবহানা মোস্তারি এবং অধিনায়ক নিগার সুলতানা জ্যোতির ব্যাট হেসে উঠলেই কেল্লা ফতেহ!

এর বাইরে, বোলিং বিভাগে শুরুতেই বাংলাদেশকে ব্রেকথ্রু এনে দিতে পারেন এশিয়া কাপে আট উইকেট পাওয়া মারুফা আক্তার। সাথে ভারতের রানের চাকা মন্থর করতে স্পিনার নাহিদা আক্তার আর সুলতানা খাতুন দারুণ ভূমিকা রাখতে পারেন।

কোয়ার্টারে চীন ম্যাচ বৃষ্টিতে পণ্ড হওয়ার পর র‍্যাঙ্কিংয়ে এগিয়ে থেকে বাংলাদেশ সেমিতে ওঠায় খেলোয়াড়রা মানসিক ও শারীরিকভাবে বেশ সতেজ ও চাঙ্গা। এখন দেখার বিষয়, করোগিতে বাংলাদেশের প্রতিশোধের মহাকাব্য লিখতে পারবে, নাকি অক্ষুণ্ণ থাকবে ভারতের আধিপত্য?

লেখক পরিচিতি

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link