বাকি আছে স্রেফ একটা বল, শতরান থেকে দূরত্বটা মাত্র তিন রান। শঙ্কা ছিল, হবে তো? সেই শঙ্কাটাকেই একেবারে বাউন্ডারির বাইরে পাঠালেন সাঞ্জু স্যামসন। এরপরই ওই তিন অঙ্কের ম্যাজিকাল ফিগার ছুঁয়ে ফেললেন, বীরদর্পে ঘোষণা করলেন, রাজত্বটা এখন আমার।
বিশাল মূল্যের বিনিময়ে রাজস্থান রয়্যালস ছেড়ে এসেছিলেন চেন্নাই সুপার কিংসের ক্যাম্পে। শুরুতে হোঁচট খাওয়ার পর বাতাসে শোনা যেতে থেকে নানা কানাঘুষা। কিন্তু, সব কিছুরই জবাব একে একে দিচ্ছেন সাঞ্জু স্যামসন।
এক ফ্র্যাঞ্জাইজিতে ভালো করার পর দল পালটে অন্য জায়গায় ভিড়ে আশানুরূপ পারফর্ম না করার ইতিহাস আইপিএলে কম নেই। সাঞ্জু স্যামসনকেও সেই দলে অন্তর্ভুক্ত করার কথা ভাবছিলেন অনেকেই।

ছয়, সাত, নয়; প্রথম তিন ম্যাচ মিলিয়ে সংগ্রহ মাত্র ২২টি রান। এমন শঙ্কিত শুরুর পরেও ব্যর্থতার গল্প লিখে ফুরিয়ে যাননি স্যামসন। ফিরে এসেছেন নিজের সহজাত রূপে। আইপিএলের এবারের আসরের প্রথম সেঞ্চুরি এসেছে তাঁর ব্যাট থেকেই।
ওয়াংখেড়েতে আরও একবার জ্বলে উঠলেন মুম্বাই ইন্ডিয়ান্সের বিরুদ্ধে। অন্যদের আসা-যাওয়ার মিছিলের দিনে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছিলেন একাই। তুলেছেন নিজের পঞ্চম আইপিএল সেঞ্চুরি, এবারের আসরের দ্বিতীয়।
জসপ্রিত বুমরাহ, হার্দিক পান্ডিয়া, মিচেল স্যান্টনারদের কারো সামনেই মাথা নত করেননি। ৫৪ বলের ইনিংসে হাঁকিয়েছেন দশ চার আর ছয়টি ছক্কা। ১০১ রানের অপরাজিত ইনিংসের পথে এনে দিয়েছেন দলকে ২০৭ রানের লড়াকু সংগ্রহ।

সকাল মেঘলা হলেই যে সারাদিন সূর্য দেখা যাবে না, এমন ভেবে নেওয়া উচিত নয়। এই কথাই আবারও প্রমাণ করলেন সাঞ্জু। ব্যর্থতায় পরিণত হবেন বলে যারা ভেবে নিয়েছিলেন তারাই এখন ভাসাচ্ছেন প্রশংসায়।