প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখে বাংলাদেশের আরেকটি সিরিজ জয়

মুস্তাফিজের বুদ্ধিমত্তা, শরিফুল ইসলামের নিয়ন্ত্রণ আর নাহিদ রানার গতির মিশেলে তৈরি পেস আক্রমণের সামনে শক্ত পায়ে দাঁড়ানোর সাহস হয়নি ল্যাথামদের।

নিউজিল্যান্ড নিজেদের পূর্ণশক্তির দল নিয়ে আসেনি। তবুও, তাড়া করার দুর্বলতার কারণে প্রথম ম্যাচেই হোঁচট খেতে হয়েছিল। এরপরই প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে বাংলাদেশ। পরপর দুই ম্যাচে বড় ব্যবধানে হারিয়ে ১২ বছর পর ওয়ানডে সিরিজ জিতলো ব্ল্যাক ক্যাপসের বিরুদ্ধে। এক ম্যাচ পিছিয়ে থেকেও দেশের মাটিতে টানা চতুর্থ সিরিজ জয় তুলে নিল মেহেদী হাসান মিরাজের দল।

সাগরিকায় টস জিতে টম ল্যাথাম আগে বল করার সিদ্ধান্ত নিলে দুর্বল শুরু করে বাংলাদেশ। ইনিংসের দ্বিতীয় বলেই রানের খাতা না খুলে ফিরে যান সাইফ হাসান। অন্য ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম করেন মাত্র এক রান। বড় রান আসেনি সৌম্য সরকারের ব্যাটেও।

তখন দলের হাল ধরেন লিটন দাস আর নাজমুল হোসেন শান্ত। লিটন ৯১ বলে ৭৬ রান করে ফিরলে ভাঙে ১৬০ রানের জুটি। কিন্তু, অন্য প্রান্তে শান্তকে থেমে যাননি। তুলে নেন নিজের চতুর্থ সেঞ্চুরি। শেষে তাওহিদ হৃদয় আর অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজের দুই ছোট তবে গুরুত্বপূর্ণ ইনিংসে ভর করে বাংলাদেশ থামে ২৬৫ রান করে।

সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে কিউইদের শুরুর আঘাত হানেন মুস্তাফিজুর রহমান। এই সিরিজে প্রথম খেলতে নেমেই হেনরি নিকোলাসকে ফেরান চার রানে। নিক কেলি আর ডিন ফক্সক্রফট অর্ধশতক করলেও ব্যবধান কমানো ছাড়া আর কোনো কাজে আসেনি সেটা, যদিও হাতে উইকেট থাকলে ম্যাচটা পাল্টে দেওয়ার মত অবস্থানেই নিয়ে গিয়েছিলেন এই ফক্সক্রফট।

মুস্তাফিজের বুদ্ধিমত্তা, শরিফুল ইসলামের নিয়ন্ত্রণ আর নাহিদ রানার গতির মিশেলে তৈরি পেস আক্রমণের সামনে শক্ত পায়ে দাঁড়ানোর সাহস হয়নি ল্যাথামদের। ব্যাটাররা চাপে রেখে ফিজ তুলে নেন ওয়ানডের ক্যারিয়ারের ষষ্ঠ ফাইফার।নিউজিল্যান্ডের ইনিংস থামে ২১০ রানে।

প্রথম ম্যাচে পরাজয়ের পর বাংলাদেশ দল নিয়ে তৈরি হয়েছিল অনেক সন্দেহ। কিন্তু, মিরাজের দল ফিরে এসেছে পরাক্রমের সাথে। শান্ত-মুস্তাফিজরা ব্যাটে-বলে দিয়েছেন নিজেদের সেরাটা। দুই ইনিংসেই শক্তির প্রমাণ দিয়ে বাংলাদেশ তুলে নিয়েছে ৫৫ রানের জয়। সরাসরি বিশ্বকাপ খেলার স্বপ্ন এবার আরেকটু বাড়ল।

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

Share via
Copy link