বল হাতে ফাইফারের ছক্কা হাঁকালেন মুস্তাফিজ!

জুটি ভাঙার কাজটা তো সেই পুরনো অভ্যাস। দলের ঘাড়ে যখন বিপদ নিশ্বাস ফেলে, অধিনায়কের চোখ খুঁজে নেয় মুস্তাফিজ নামের এক ভরসাকে। নিক কেলি যখন বাংলাদেশের গলার কাঁটা, জয়ের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন, তখনই ফিজের শিকারি চোখ খুঁজে নিল শিকার।

অনুশীলনে মাত্র চার ওভার বোলিং করেছিলেন মুস্তাফিজুর রহমান। মাঠের এক কোণে দাঁড়িয়ে কোচের চোখে তখনও প্রশ্ন, এই ফিজ কি পুরোপুরি ফিট? শরীর কি সত্যিই সাড়া দেবে ম্যাচের চাপ নিতে? কিন্তু মাঠে যখন তিনি নামলেন, যেন কোনো কিছুই হয়নি। ফাইফার তুলে নিজের উপস্থিতি জানান দিয়েছেন জোরালোভাবেই।

প্রথম ব্রেকথ্রুটা এসেছে মুস্তাফিজের হাত ধরেই। সেটা এক ভয়ঙ্কর বাউন্সারের সুবাদে। গতির সাথে আচমকা সেই বাউন্সার ব্যাটারের সামনে রীতিমতো অবিশ্বাসের বলয় তৈরি করল। কিছু বুঝে ওঠার আগেই, হেনরি নিকোলসকে দেখতে হলো সাজঘরের পথ।

ফিজের সবচেয়ে বড় শক্তি সবসময়ই ছিল তার ডেলিভারির অপ্রত্যাশিততা। কেউ বুঝে ওঠার আগেই তিনি বলকে বানিয়ে ফেলেন এক ধাঁধা। কখনো স্লোয়ার, কাটার, কখনো হঠাৎ নিখুঁত গতি, মাঝের সেই সূক্ষ্ম জায়গাটাই প্রতিপক্ষের জন্য হয়ে ওঠে বিভ্রান্তির ফাঁদ। আজও তার ব্যতিক্রম হয়নি।

জুটি ভাঙার কাজটা তো সেই পুরনো অভ্যাস। দলের ঘাড়ে যখন বিপদ নিশ্বাস ফেলে, অধিনায়কের চোখ খুঁজে নেয় মুস্তাফিজ নামের এক ভরসাকে। নিক কেলি যখন বাংলাদেশের গলার কাঁটা, জয়ের পথে সবচেয়ে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছেন, তখনই ফিজের শিকারি চোখ খুঁজে নিল শিকার।

ব্যাটার সেট হয়ে আছেন, ৫৯ রানের ইনিংস খেলা হয়ে গেছে। বলকে ফুটবল দেখছেন। তবে সেই কেলিকেই এক স্লোয়ারেই বোকা বানিয়ে দিলেন। তবে ফিজের ম্যাজিক যেন তখন কেবল ভূমিকা লেখা শুরু করেছে।

এরপর যেন বল হাতে ধ্বংসযজ্ঞ চালান মুস্তাফিজ। নিউজিল্যান্ডের ব্যাটিং অর্ডার ভাঙা তখন তাঁর প্রধান এবং একমাত্র লক্ষ্য হয়ে দাঁড়িয়েছে। গুণে গুণে আরও তিন শিকার নিজের ঝুলিতে পুরলেন। অর্থাৎ ওয়ানডে ক্যারিয়ারের ছয় নম্বর ফাইফার ধরা দিয়েছে তাঁর হাতে। অবশ্য সর্বোচ্চ ফাইফারের মালিক আগেই ছিলেন। পেছনে যিনি দাঁড়িয়ে তিনি সাকিব আল হাসান। যার সংখ্যাটা চার। তবে ফিজের লড়াইটা যে নিজের সাথে, নিজেকে ছাড়িয়ে যাওয়ার এক নাম না জানা মিশনে নেমেছেন তিনি।

শেষমেশ নয় ওভার হাত ঘুরিয়ে ৪৩ রানের বিনিময়ে বাগিয়ে নিয়েছেন ফাইফার। অথচ দুই ম্যাচ বেঞ্চেই বসেই কাটাতে হয়েছে। তাই তো বলা যায়, ফিজ এলেন, দেখলেন আর জয় করলেন।

লেখক পরিচিতি

স্টাফ রিপোর্টার

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link