পৃথিবীতে যেসব অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য তার মধ্যে একটি, শূন্য রানে বিরাট কোহলির ক্যাচ ফেলে দেওয়া। যার কোনো প্রায়শ্চিত্ত করা সম্ভব না। কেননা ম্যাচের ভাগ্য লেখার কলম যে থাকে, স্বয়ং বিরাট কোহলির হাতে। আর প্রতিপক্ষের পরিণতি একটাই—অসহায়ভাবে পরাজয় বরণ করা ছাড়া তাদের আর কোনো পথ খোলা থাকে না।
ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের মঞ্চ বিরাটকে দুহাত ভরে দিয়েছে, আর যেটা দেয়নি সেটা তিনি ছিনিয়ে নিয়েছেন। প্রতিপক্ষরা অসহায় দৃষ্টিতে তাকিয়ে দেখেছে, রাজাধিরাজ বিরাট কোহলির পদচারণা। যা চোখ ধাঁধানো সুন্দর অথচ নির্মম বেদনার সুর হয়ে বাজে প্রতিপক্ষের কানে।
২০৬ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরুটা হয়েছিল ভয়ংকর এক ভুল দিয়ে। মাত্র শূন্য রানে জীবন পেলেন কোহলি। আর সেই জীবনদানকারীর নাম ওয়াশিংটন সুন্দর। ক্যাচ হাতছাড়া হওয়ার পর তিনিও বুঝেছিলেন, সাত রাজার ধন ফসকে গেছে হাত থেকে।

ক্রিকেট দুনিয়ার অলিখিত নিয়ম বলে, কোহলিকে জীবন দিলে, সে শুধু ইনিংসই খেলে না, ম্যাচের ভাগ্যও লিখে দেয় নিজের হাতে। আজও তার ব্যতিক্রম হলো না।
সময় গড়াল, আর কোহলি দাঁড়িয়ে গেলেন আগুন হয়ে। যার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা অসম্ভব। একের পর এক শট, একের পর এক বার্তা হয়ে তখন আছড়ে পড়ছে গুজরাট টাইটান্স শিবিরে—এই ভুলের কোনো ক্ষমা নেই।
শেষ পর্যন্ত স্কোরবোর্ডে গল্পটা ৪৪ বলে ৮১ রানের। হাঁকিয়েছেন ৮টা চার, ৪টা ছক্কা। সেঞ্চুরি পাননি, আক্ষেপে হয়তো পুড়তে হবে আরও একবার। তবে এই ৮১টি রান যেন সেই ফেলে দেওয়া ক্যাচের উপর নির্মম জবাব।

আইপিএলে এটা তাঁর ৬৬তম ফিফটি। টি-টোয়েন্টি ক্যারিয়ারে ১০৮তম । আর এই মৌসুমে তৃতীয় হাফসেঞ্চুরি। শুধু তাই নয়, প্রথম ব্যাটার হিসেবে আইপিএলে ৮০০ চার আর ৩০০ ছক্কা হাঁকানোর বিরল কীর্তির মালিকও তিনি। যেন আবারও প্রমাণ হলো, এই কোহলি নিজে না চাইলে তাঁকে থামানো অসম্ভব।










