ক্যারিয়ারের শুরুর চার বছরে একদিনের ক্রিকেটে ফাইফার শিকার করেছিলেন পাঁচবার। এরপর দীর্ঘ সাত বছরের এক ক্লান্তিকর যাত্রা। অবশেষে সেই ঘামঝরানো অপেক্ষার অবসান ঘটালেন মুস্তাফিজুর রহমান।
ওয়ানডেতে ছয়বার পাঁচ উইকেট শিকার করার পথে মুস্তাফিজের প্রতিপক্ষ কারা সেটা দেখলেই অবাক হতে হয়। ভারত, পাকিস্তান, নিউজিল্যান্ড এবং জিম্বাবুয়ে। বর্তমান ক্রিকেটীয় বাস্তবতায় জিম্বাবুয়ে ছাড়া বাকি তিনটা দলই যে বড় দল তা বিনা দ্বিধায় মেনে নিবেন যে কেউ।
২০১৫ সালে নিজের ওয়ানডে ক্যারিয়ারের প্রথম দুই ম্যাচেই ভারতের বিপক্ষে পরপর পাঁচ উইকেট। এরপরে মাঝখানের এক জিম্বাবুয়ে সিরিজ বাদ দিয়ে টাইমমেশিনে চড়ে চলে যেতে হয় ২০১৯ সালের ইংল্যান্ড বিশ্বকাপে।

সাকিব আল হাসানের অতিমানবীয় পারফরম্যান্সে বুঁদ হয়ে থেকে গিয়ে আমরা ভুলে যাই সেই আসরের মুস্তাফিজকে। বাংলাদেশের শেষ দুই ম্যাচে ইউরোপের কঠিন কন্ডিশনের মাঝে বাঁ হাতের ঝলক দেখিয়ে পাঁচ উইকেট নেন ফিজ। প্রতিপক্ষ ভারতের সাথে পাকিস্তান।
২০১৯ সালের পর থেকে এতদিন কেটে গেলেও কেন যেন পাঁচ উইকেটের জাদুর ফিগার অধরাই রয়ে যাচ্ছিল কাটার মাস্টারের জন্য। খারাপ সময় কাটিয়ে উঠে দলের প্রধান অস্ত্রের ভূমিকায় ফিরেছেন আবার। কিন্তু, ফাইফারের অপ্রাপ্তিটা থেকেই যাচ্ছিল।
ঘরের মাঠে নিউজিল্যান্ডের সাথে সিরিজের প্রথম দুই ম্যাচ খেলতে নামেননি ইনজুরির সাথে লড়াইয়ের কারণে। তৃতীয় আর সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচে অবশেষে পাঁচ কিউই ব্যাটারকে সাজঘরে ফেরানোর সুযোগ পান ফিজ।

ভারতের মতো প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে অভিষেক সিরিজ, ইংল্যান্ডের মাঠে বিশ্বকাপ কিংবা ব্ল্যাকক্যাপদের সাথে সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ; এমন বড় মঞ্চ পেলেই যেন জেগে উঠতে থাকে মুস্তাফিজের ভেতরের দানব।










