এটা ফিফা, আইসিসি নয়!

ক্রিকেট বিশ্বের দিকে তাকালে আইসিসির ওপর ভারতের একচ্ছত্র প্রভাব বা বাণিজ্যিক স্বার্থে নিয়ম ভাঙার যে সংস্কৃতি দেখা যায়, ফুটবল বিশ্বেও তেমন কিছুরই পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চেয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

টাকাই যেখানে শেষ কথা, নিয়ম সেখানে নমনীয়, এই তত্ত্বটি সাম্প্রতিককালে ক্রীড়াঙ্গনেও বেশ পরিলক্ষিত হয়। ক্রিকেট বিশ্বের দিকে তাকালে আইসিসির ওপর ভারতের একচ্ছত্র প্রভাব বা বাণিজ্যিক স্বার্থে নিয়ম ভাঙার যে সংস্কৃতি দেখা যায়, ফুটবল বিশ্বেও তেমন কিছুরই পুনরাবৃত্তি ঘটাতে চেয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কিন্তু ফুটবল দুনিয়ায় যে মাঠের লড়াই-ই শেষ কথা, তা আবারও প্রমাণ করল ফিফা।

ইরানকে সরিয়ে চারবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালিকে ২০২৬ বিশ্বকাপে সুযোগ দেওয়ার যে আমেরিকান প্রস্তাব উঠেছিল, তা সরাসরি নাকচ করে দিয়েছে জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর প্রশাসন।

আইসিসি যেমন বড় দল বা ভারতের মতো বিশাল বাজারের কথা মাথায় রেখে টুর্নামেন্টের ফরম্যাট সাজায়, মার্কিন দূত পাওলো জাম্পোলিও সম্ভবত তেমন এক ফন্দি এঁটেছিলেন। তিনি চেয়েছিলেন, মানবাধিকার বা রাজনৈতিক অস্থিরতার দোহাই দিয়ে ইরানকে বহিষ্কার করে ইতালিকে ফিরিয়ে আনতে।

তবে ফিফা বুঝিয়ে দিল তারা ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ‘আইসিসি’র মত নয়। কোনো নির্দিষ্ট দেশ বা শক্তিশালী প্রেসিডেন্টের ব্যক্তিগত ইচ্ছায় বিশ্বকাপের মতো আসরের নিয়ম পরিবর্তন করার সুযোগ নেই। ফিফা সভাপতি পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, ইরান মেধা আর যোগ্যতায় বিশ্বকাপে এসেছে, কোনো বাণিজ্যিক দাক্ষিণ্যে নয়।

এমনকি খোদ ইতালিও এই রাজনৈতিক তদ্বিরকে লজ্জাজনক বলে অভিহিত করেছে। ইতালীয় কোচ ও মন্ত্রীরা স্পষ্ট জানিয়েছেন, মাঠের খেলায় হেরে টেবিল টক দিয়ে বিশ্বকাপে যাওয়া তাদের আত্মসম্মানে বাধে। ইতালিয়ান ফুটবল কোচ জিয়ান্নি দে বিয়াসি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি এই ধরণের বিষয়ে ইতালির জন্য ট্রাম্পের সমর্থনের প্রয়োজন নেই। আমার মনে হয় আমরা নিজেদেরটা নিজেরাই সামলাতে পারব।’

আসলে মাঠের সবুজ ঘাস আর শ্রমের ঘাম যেখানে শেষ কথা বলে, সেখানে ক্ষমতার বারান্দায় বসে করা তদ্বির বরাবরই ম্লান। ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক সংস্থা আইসিসি যেখানে বারবার বড় দল আর বাণিজ্যিক বাজারের কাছে নতি স্বীকার করে নিয়মের খাতা কাটছাঁট করে, ফিফা সেখানে প্রমাণ করল কেন ফুটবল আজও পৃথিবীর সবচেয়ে জনপ্রিয় ও নিরপেক্ষ খেলা।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link