ব্যাটারদের স্বর্গরাজ্যে মহসিনের পরাক্রম!

বাউন্সার হোক কিংবা গুড লেংন্থের বল, মহসিন যেন বারুদ ছোঁড়েন দৌড়ে এসে। চার ওভার জুড়েই ভয় ধরিয়ে তুলে নিয়েছেন আইপিএল ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইফার।

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগ(আইপিএল) যেন ব্যাটারদের লিগ। বোলাররা কোন পাত্তাই পান না এখানে। তাদের বলার মতো কোন গল্প রচিত হয় না এখানে। এত ব্যাটারদের ভীড়ে অবশেষে যেন নিজের পরিচয় আলাদা করে দিলেন মহসিন খান। ফাইফার তুলে গুঁড়িয়ে দিয়েছেন কলকাতা নাইট রাইডার্সের ব্যাটিং লাইনআপকে।

এই ম্যাচের আগে লখনৌ সুপার জায়ান্টস সাত ম্যাচ খেললেও মহসিন নেমেছেন মাত্র তিন বার। প্রতি সুযোগেই অবশ্য ধারাবাহিকতা দেখিয়েছেন। রানবন্যার আইপিএলে দুই ম্যাচে তাঁর  ইকোনমি ছিল বিস্ময়করভাবে ছয়ের নিচে।
এদিন দ্বিতীয় ওভারে বল হাতে পান মহসিন খান। সেখানে ব্যাটরদের টুটি চেপে ধরেন, শেষ বলে বাগিয়ে নেন এক উইকেট। ফিরে যেতে হয় টিম সেইফার্টকে।

দ্বিতীয় ওভার বল করতে এসে ফাঁদে ফেলেন কেকেআর দলনেতা আজিঙ্কা রাহানেকে। খরচ করেন আট রান। আবার বল হাতে পান সপ্তম ওভারে। প্রথম বলেই উইকেটরক্ষক ঋষাভ পান্তের হাতে ক্যাচ তুলে দিয়ে ফেরার পথ ধরেন রভম্যান পাওয়েল।
তিন ওভার তিন উইকেট। এই বা কম কী। তবে, এতে মন ভরেনি মহসিনের। নিজের দক্ষতার অনেককিছুই যেন লুকিয়ে রেখেছিলেন নিজের শেষ ওভারের জন্য। ইনিংস বড় করার পথে থাকা ক্যামেরুন গ্রিনকে ফেরান পঞ্চম বলে। শেষ বলে অনুকুল রায়কে ফিরিয়ে কোটা শেষ করেন ২৩ রানে পাঁচ উইকেট নিজের ঝুলিতে পুরে।
বাউন্সার হোক কিংবা গুড লেংন্থের বল, মহসিন যেন বারুদ ছোঁড়েন দৌড়ে এসে। চার ওভার জুড়েই ভয় ধরিয়ে তুলে নিয়েছেন আইপিএল ক্যারিয়ারের প্রথম ফাইফার। তাঁকে নিয়ে চর্চাটা কম হয় ক্রিকেট পাড়ায়। প্রতিভা, সক্ষমতা সবই আছে, তবে ইনজুরি তাঁকে টেনে ধরে বারবার।
তবে সব ছাপিয়ে দূর্বার গতিতে ছুটে চলছেন তিনি। ধারাবাহিকতা ধরে রেখেছেন বল হাতে। এই ম্যাচে তো মনে করিয়ে দিলেন,ব্যাটাররা যতই তান্ডব চালান না কেন, বোলারদের অস্তিত্ব এখনো ফুরিয়ে যায়নি।

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

Share via
Copy link