সাগরিকায় আবারও গর্জে ওঠার অপেক্ষায় ব্যাট-বল। আয়ারল্যান্ড সিরিজের পর সেই দীর্ঘ বিরতি ভেঙে টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে নতুন করে যাত্রা শুরু করছে বাংলাদেশ। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে এই সিরিজটি কেবল একটি দ্বিপাক্ষিক লড়াই নয়, বরং এটি ২০২৮ সালে অস্ট্রেলিয়া-নিউজিল্যান্ডে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রস্তুতির প্রথম সোপান।
বিসিবি এবার সাহসী এক পথে হাঁটার ইঙ্গিত দিয়েছে। অভিজ্ঞ পেস অ্যাটাককে বিশ্রাম দিয়ে রিপন মন্ডল কিংবা সাকলাইনের মতো তরুণদের সুযোগ দেওয়া হয়েছে। রাজনৈতিক টানাপোড়েনে গত টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ না খেলা বাংলাদেশ এখন পরবর্তী বিশ্বকাপে নিজের সেরাটাই উজাড় করে দিতে চায়।
গত দুই বছরে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ব্যাটিং নিয়ে স্বস্তির জায়গা খুব কম। পরিসংখ্যান বলছে, এই সময়ে বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের গড় স্কোর মাত্র ১৩৮। যেখানে বিশ্বজুড়ে টি-টোয়েন্টি এখন ২০০ রানের খেলায় পরিণত হয়েছে, সেখানে এই মন্থর ব্যাটিং বাংলাদেশের বিশ্বকাপ সাফল্যের স্বপ্নের পথে বড় বাধা হতে পারে।

অধিনায়ক লিটন দাসের ব্যক্তিগত ফর্ম এখন আলোচনার কেন্দ্রে। এক ম্যাচে দারুণ শুরুর পর টানা কয়েক ইনিংসের ব্যর্থতা তার নামের পাশে বারবার প্রশ্নবোধক চিহ্ন বসিয়ে দিচ্ছে। লিটনের সঙ্গী হিসেবে সাইফ হাসানের ওপর ভরসা রাখা হলেও তার কার্যকারিতা নিয়ে খোদ ক্রিকেট মহলেই দ্বিধাবিভক্ত মত রয়েছে।
তবে মিডল অর্ডারে কিছুটা স্বস্তি দিচ্ছেন তাওহিদ হৃদয়। আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে তার ৮৩ রানের ঝড়ো ইনিংসটি বিফলে গিয়েছিল কেবল দলের বাকিদের ব্যর্থতায়। ব্যাটিং পজিশন নিয়ে কিছুটা দ্বিধা থাকলেও হৃদয় সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, দলের প্রয়োজনে যেকোনো পজিশনে লড়তে তিনি প্রস্তুত।
বাংলাদেশ এই বছর অন্তত নয়টি আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি খেলার সুযোগ পাবে। ভারত সফর চূড়ান্ত হলে সংখ্যাটি ১২ পর্যন্ত হতে পারে। নিউজিল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়ার মতো শক্তিশালী দলের বিপক্ষে এই ম্যাচগুলোই নির্ধারণ করে দেবে ২০২৮ সালের মূল আসরে বাংলাদেশ কতটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা গড়তে পারবে।

২০২৮ বিশ্বকাপের গন্তব্যে পৌঁছানোর এই যাত্রায় নিউজিল্যান্ড সিরিজটি হবে বাংলাদেশের জন্য প্রথম লিটমাস টেস্ট। অভিজ্ঞতার চেয়ে সামর্থ্য আর তারুণ্যের ওপর এই যে বাজি ধরল বাংলাদেশ, তার ফল কতটুকু মিষ্টি হয় – তা সময়ই বলে দেবে। তবে এক নতুনের শুরুর বার্তাটা কিন্তু সাগরিকার বাতাসে ঠিকই বয়ে যাচ্ছে।











