পেসারদের কাঁধেই সাফল্যের জয়রথ

নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জয় কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং এটি বাংলাদেশের পেস আক্রমণের এক নতুন শক্তির উত্থানবার্তা।

​বাংলাদেশের ক্রিকেটে এক সময় সাফল্য মানেই ছিল স্পিনের মায়াজাল। কিন্তু সেই চেনা সমীকরণ এখন অতীত। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে ওয়ানডে সিরিজ জয় কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, বরং এটি বাংলাদেশের পেস আক্রমণের এক নতুন শক্তির উত্থানবার্তা। যেখানে মুস্তাফিজুর রহমানের অভিজ্ঞতা আর নাহিদ রানার বিধ্বংসী গতি মিলেমিশে একাকার হয়ে গেছে।

চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে যখন ব্যাটাররা রাজত্ব করছিলেন, তখন বাংলাদেশের রক্ষাকর্তা হয়ে আবির্ভূত হন মুস্তাফিজুর রহমান। হাঁটুর চোট কাটিয়ে দলে ফিরে ৪৩ রানে পাঁচ উইকেট নিয়ে তিনি প্রমাণ করেছেন, কেন তাকে দলের অপরিহার্য অংশ ধরা হয়।

অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ বলেন, ‘দশ বছর ধরে মুস্তাফিজকে দেখছি। বিপদের মুহূর্তে ওর হাতে বল দেখলে আমি অধিনায়ক হিসেবে নিশ্চিন্ত বোধ করি। ও আমাদের ক্রাইসিস মোমেন্টের আসল যোদ্ধা।’

​বাংলার ক্রিকেটে এই মুহূর্তে সবচেয়ে রোমাঞ্চকর নাম – নাহিদ রানা। বলের গতি যখন ঘন্টায় ১৫০ কিমি ছুঁইছুঁই, তখন গ্যালারি জুড়ে থাকে উন্মাদনা আর প্রতিপক্ষের ড্রেসিংরুমে ভর করে অস্বস্তি। মিরাজের মতে, রানার এই অগ্নিঝরা বোলিং কেবল দলকে উইকেট এনে দিচ্ছে না, বরং প্রতিপক্ষকে মানসিকভাবেও কোণঠাসা করে ফেলছে।

পুরো সিরিজ জুড়েই পেসারদের যে দাপট দেখা গিয়েছে, তা পরিসংখ্যানের ভাষায় এক কথায় অভূতপূর্ব। ২২টি উইকেটের পতন যখন কেবল পেসারদের হাত ধরে আসে, তখন বুঝতে বাকি থাকে না যে বাংলাদেশের বোলিং শক্তির কেন্দ্রবিন্দু এখন বদলে গেছে। চিরচেনা সেই  স্পিনের সোনালী অধ্যায়কেও ছাপিয়ে গেছে এই পেস ইউনিট।

পেসারদের সম্মিলিতভাবে নেওয়া ২২টি উইকেটের মধ্যে আটটিই নাহিদ রানার নামের পাশে। পাঁচটি করে উইকেট নিয়েছেন দুই বাহাতি পেসার মুস্তাফিজ ও শরিফুল। তিনটি উইকেট নিয়েছেন তাসকিন আহমেদ, বাকি একটা নিজের ঝুলিতে পুরেছেন সৌম্য সরকার।

পেসারদের এই দাপুটে পারফরম্যান্সের পরও ঘরের মাঠে উইকেট তৈরির ক্ষেত্রে ম্যানেজমেন্টের অনীহা নিয়ে আক্ষেপ ঝরেছে মিরাজের কণ্ঠে। তার মতে, পেসাররাই এখন বাংলাদেশের ম্যাচ জেতানোর মূল কারিগর। দক্ষিণ আফ্রিকার মাটিতে জয় থেকে শুরু করে কিউই বধ – সবখানেই পেসারদের জয়জয়কার।

এখন সময় এসেছে দেশের ক্রিকেট অবকাঠামোকে এই গতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করার। এই গতিময় অগ্রযাত্রা অব্যাহত থাকলে সামনের দিনগুলোতে বিশ্বের যেকোনো প্রান্তে রাজত্ব করবে বাংলাদেশের পেসাররা, এটি এখন আর নিছক কল্পনা নয়, বরং এক দৃশ্যমান বাস্তবতা।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

Share via
Copy link