রাহুল, নাম তো সুনা হি হোগা!

একেকটা শট যেন, চোখজুড়ানো, মনভোলানো। বোলারদের জন্য নিষ্ঠুর, তবে তাতে যেন মিশে আছে মোহন বাঁশির সুর। তপ্ত দুপুরে গায়ে লাগা স্বস্তির বাতাস যেমন তৃপ্তি দেয়, কিংবা গোধূলির শেষ আলো যতটা সুন্দর দেখায় চোখে, রাহুলের ব্যাটিংটা তেমনই।

দিল্লির মাথাব্যথা তাদের টপ অর্ডার নিয়ে। রীতিমতো ধুঁকতে হচ্ছে এখানে। অবশ্য এর পেছনের কারণও যে ওই রাহুল। রান পাচ্ছেন তিনি, তবে ধারাবাহিকতার একটু কমতি ছিল সেখানে। এবার সেটার ওপর প্রলেপ এঁটে দিলেন।

ব্যাট করতে নামা দিল্লি পাথুম নিশাঙ্কাকে হারিয়ে ফেলে শুরুর দিকে। উড়ন্ত ফর্মে থাকা পাঞ্জাবের সামনে দাঁড়াতে হলে শক্ত ভিত দরকার। কে গড়বেন সেটা, কে ধরবেন হাল? অগত্যা সব ভার বুঝে নিলেন রাহুল, লিখতে শুরু করলেন ম্যাচের ভাগ্য।

একেকটা শট যেন, চোখজুড়ানো, মনভোলানো। বোলারদের জন্য নিষ্ঠুর, তবে তাতে যেন মিশে আছে মোহন বাঁশির সুর। তপ্ত দুপুরে গায়ে লাগা স্বস্তির বাতাস যেমন তৃপ্তি দেয়, কিংবা গোধূলির শেষ আলো যতটা সুন্দর দেখায় চোখে, রাহুলের ব্যাটিংটা তেমনই।

তবে চাঁদেরও তো কলঙ্ক থাকে, এই ইনিংসটাও কালিমামুক্ত নয়। জীবন পেয়েছিলেন ১২ রানের মাথায়। তবে সময় যদি দ্বিতীয় সুযোগ দেয়, সেটা যেভাবে কাজে লাগানো সম্ভব সেভাবেই কাজে লাগিয়েছেন রাহুল। রানের ক্ষুধা মিটিয়েছেন এক মহাকাব্যিক ইনিংস খেলে।

৪৭ বলে সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছেন। তবে তাতেও যে পিয়াস মেটেনি। এরপর ব্যাট চলেছে আরও ধ্বংসাত্মক মেজাজে। তবুও তাঁকে থামানো যায়নি। ৬৭ বলে ১৫২ রানের ইনিংস খেলে অপরাজিত থেকেছেন।

শুধু তাই নয়, কিছু রেকর্ডও নিজের ঝুলিতে পুরেছেন। আইপিএলের ইতিহাসে সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহকের তালিকায় রাহুলের নাম এখন পাঁচ নম্বরে। ছাড়িয়ে গেছেন মি. আইপিএল খ্যাত সুরেশ রায়নাকেও।

আইপিএলে রাহুলের সেঞ্চুরি সংখ্যা এখন ছয়, ভাগ বসিয়েছেন ক্রিস গেইলের আসনে। সামনে কেবল জস বাটলার আর বিরাট কোহলি। ১৫২ রানের ইনিংসটা এবারের আসরের সর্বোচ্চ ব্যক্তিগত স্কোর, আইপিএলে এক ইনিংসে যেটা তৃতীয় সর্বোচ্চ। অরেঞ্জ ক্যাপটাও তুলেছেন নিজের মাথায়। রাহুল যেন ব্রত নিয়েই মাঠে নেমেছিলেন, আজ সবকিছু নিজের করে নেবেন।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link