শিষ্য রূপে বিশ্বজয়, গুরু রূপে অমরত্ব

কোচিং ও প্লেয়িং উভয় ক্যারিয়ারেই বিশ্বজয় করাদের নিয়ে থাকছে এই আয়োজন।

​ফুটবলের বিস্তৃত ক্যানভাসে শত-সহস্র খেলোয়াড় আর কোচের ভিড়ে মাত্র তিনজন মানুষ এক অনন্য উচ্চতায় আসীন। তাঁরা খেলোয়াড় হিসেবে সবুজ ঘাসে যেমন ফুল ফুটিয়েছেন, তেমনি ডাগআউটে বসে সাজিয়েছেন জয়ের নিখুঁত আলপনা। কোচিং ও প্লেয়িং উভয় ক্যারিয়ারেই বিশ্বজয় করাদের নিয়ে থাকছে এই আয়োজন।

  • মারিও জাগালো

ব্রাজিলের ফুটবলে মারিও জাগালো এক অপরাজেয় নক্ষত্র। ১৯৫৮ ও ১৯৬২ সালে মাঠের তুখোড় উইঙ্গার হিসেবে টানা দুবার শিরোপা জয়ের স্বাদ পান তিনি। কিন্তু তাঁর শ্রেষ্ঠত্ব পূর্ণতা পায় ১৯৭০ সালে, যখন কোচের আসনে বসে ব্রাজিলের সোনালি প্রজন্মকে বিশ্বজয়ের মুকুট পরিয়ে দেন। ফুটবল ইতিহাসের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে খেলোয়াড় ও কোচ – উভয় ভূমিকায় সোনালি ট্রফি উঁচিয়ে ধরার রেকর্ডটি এই ‘নেকড়ে’ খ্যাত কিংবদন্তিরই দখলে।

  • ফ্রাঞ্জ বেকেনবাওয়ার

​জার্মান ফুটবলের সম্রাট খ্যাত বেকেনবাওয়ার মাঠ শাসন করেছেন রাজকীয় ভঙ্গিমায়। ১৯৭৪ সালে নিজের দলের অধিনায়ক হিসেবে প্রথমবার বিশ্বজয়ের পর ১৯৯০ সালে ডাগআউটে বসে কোচ হিসেবে পশ্চিম জার্মানিকে উপহার দেন তৃতীয় শিরোপা। ইতিহাসের প্রথম ব্যক্তি হিসেবে অধিনায়ক এবং কোচ – এই দুই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকেই শ্রেষ্ঠত্বের স্বাদ পাওয়ার গৌরবময় নজির কেবল তাঁরই।

  • দিদিয়ের দেশম

ফরাসি ফুটবলের আধুনিক পুনর্জাগরণের নাম দিদিয়ের দেশম। ১৯৯৮ সালে নিজেদের মাটিতে যখন ফ্রান্স প্রথমবারের মতো বিশ্বসেরা হয়, তখন অধিনায়ক হিসেবে ট্রফি হাতে প্রথম উল্লাসটা ছিল তাঁরই। দীর্ঘ দুই দশক পর ২০১৮ সালে রাশিয়ার মাটিতে কোচ দেশমের মস্তিস্ক থেকেই বেরিয়ে আসে ফরাসিদের দ্বিতীয় শিরোপা।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

জীবন তড়িৎ কোষে অ্যানোডে ক্রীড়ার উন্মাদনা আর ক্যাথোডে সাহিত্যের স্নিগ্ধ নির্যাস।

Share via
Copy link