ইশানের ব্যাটে চড়ে হায়দ্রাবাদের জয়!

বৈভব সুরিয়াভানশির তাণ্ডবে যখন ম্যাচটা একপেশে হয়ে যাওয়ার পথে, তখনই  গল্পের মোড় ঘোরানোর জন্য মঞ্চে আবির্ভাব দরকার ছিল আরেক নায়কের। সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের সেই নায়ক হয়ে উঠলেন ইশান কিষাণ।

বৈভব সুরিয়াভানশির তাণ্ডবে যখন ম্যাচটা একপেশে হয়ে যাওয়ার পথে, তখনই  গল্পের মোড় ঘোরানোর জন্য মঞ্চে আবির্ভাব দরকার ছিল আরেক নায়কের। সানরাইজার্স হায়দ্রাবাদের সেই নায়ক হয়ে উঠলেন ইশান কিষাণ। রান তাড়া করতে নামা দলের জন্য তিনি শুধু ইনিংস খেলেননি, তিনি লড়াইয়ের ভাষা লিখেছেন, প্রতিরোধের সংজ্ঞা দাঁড় করিয়েছেন।

২২৯ রানের বিশাল লক্ষ্য। শুরুটাও ভালো হয়নি হায়দ্রাবাদের। মাত্র সাত রানেই ফিরে যান ট্রাভিস হেড। চাপটা তখন আকাশছোঁয়া। গ্যালারি থেকে ডাগআউটের দৃষ্টি—সবকিছুই যেন বলছিল, এই ম্যাচ জেতা আর সহজ ব্যাপার নয়। ঠিক সেই মুহূর্তেই ব্যাট হাতে দাঁড়িয়ে গেলেন ইশান কিষাণ।

প্যাট কামিন্স আসায় অধিনায়কত্বের ভার কাঁধ থেকে সরে গেছে, কিন্তু দায়িত্ববোধ যে একটুও কমেনি, সেটাই যেন প্রমাণ করতে নামলেন তিনি। অভিষেক শর্মাকে সঙ্গে নিয়ে গড়ে তুললেন এক দুর্দান্ত জুটি। ৫৫ বলে ১৩২ রান এসেছে দুজনের ব্যাট থেকে।

ইশানের ব্যাটে ছিল আগ্রাসন, তবে সেই আগ্রাসনের ভেতর ছিল ঠান্ডা মাথার হিসাব। তিনি জানতেন, কখন ঝুঁকি নিতে হবে, কখন ইনিংসটাকে ধরে রাখতে হবে। বোলাররা লাইন-লেন্থ খুঁজে পাওয়ার আগেই তিনি তাদের ওপর চড়াও হয়েছেন। কাট, পুল, ড্রাইভ—সবকিছুতেই ছিল দাপট আর নিয়ন্ত্রণের মিশেল।

মাত্র ৩১ বলে ৭৪ রানের এক ঝলমলে ইনিংস খেলেন ইশান কিষাণ। ২৩৮ স্ট্রাইক রেটে ঝড় তুলেছেন। এই ইনিংসটি শুধু সংখ্যার দিক থেকে নয়, ম্যাচের প্রেক্ষাপটেও ছিল অমূল্য। যখন তিনি আউট হয়ে ফিরলেন, তখন ম্যাচটা কার্যত হায়দ্রাবাদের হাতের মুঠোয়। তার এই ইনিংসই মূলত কঠিন পথটাকে সহজ করে দেয়।

বৈভব সুরিয়াভানশির তাণ্ডবের জবাব দিতে এমন একজনেরই প্রয়োজন ছিল—যিনি ভয় পান না, যিনি চাপকে উপভোগ করেন, যিনি জানেন কীভাবে ম্যাচের গল্প বদলে দিতে হয়। ইশান কিষাণ সেই কাজটাই করেছেন নিখুঁতভাবে। আর তাতেই হায়দ্রাবাদ ২২৯ রানের পাহাড় টপকে গেছে পাঁচ উইকেট হাতে রেখেই।

লেখক পরিচিতি

প্রত্যয় হক কাব্য

স্বপ্ন লেখার কি-বোর্ড

Share via
Copy link