আবেগী রিজওয়ানের ফিক্সিং স্বীকারোক্তি?

নিজের দলের অবস্থান ছাপিয়ে অন্য দলের ভাগ্য নির্ধারণের চেষ্টা করার কথা এক প্রকার স্বীকারই করে নিলেন রাওয়ালপিন্ডিজ অধিনায়ক।

এবারের পাকিস্তান সুপার লিগে (পিএসএল) যেন নাটকের শেষ নেই। তবে টুর্নামেন্টের শেষ লগ্নে এসে যোগ হলো এক নতুন বিতর্ক। যার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন মোহাম্মদ রিজওয়ান। পরাজয়ের পর রিজওয়ানের করা মন্তব্যটি রীতিমতো আগুনের মতো ছড়িয়ে পড়েছে ক্রিকেট বিশ্বে। নিজের দলের অবস্থান ছাপিয়ে অন্য দলের ভাগ্য নির্ধারণের চেষ্টা করার কথা এক প্রকার স্বীকারই করে নিলেন রাওয়ালপিন্ডিজ অধিনায়ক।

রবিবারের প্রথম ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিল রাওয়ালপিন্ডিজ এবং হায়দ্রাবাদ কিংসম্যান। রাওয়ালপিন্ডিজের জন্য এই ম্যাচটি ছিল স্রেফ নিয়মরক্ষার, কারণ তারা আগেই টুর্নামেন্ট থেকে ছিটকে গিয়েছিল। কিন্তু হায়দ্রাবাদের জন্য এটি ছিল ‘ডু অর ডাই’ ম্যাচ। জয়ের জন্য তারা পাহাড়সম ২৪৪ রান বোর্ডে তোলে, যার কারিগর ছিলেন গ্লেন ম্যাক্সওয়েল, উসমান খান ও কুশল পেরেরার মারকুটে তিনটি হাফ-সেঞ্চুরি।

কিন্তু বিস্ময় জাগে তখন, যখন রান তাড়া করতে নেমে বিপর্যয়ের মুখেও রিজওয়ান এক ভিন্ন সমীকরণের কথা ভাবছিলেন। ম্যাচ শেষে তিনি জানান, তিনি আসলে চেয়েছিলেন ম্যাচটি জিতে হায়দ্রাবাদকে আটকে দিতে, যাতে করে তার প্রিয় দল লাহোর কালান্দার্স প্লে অফে যাওয়ার সুযোগ পায়।

ক্রিকেটীয় ভাষায় যাকে বলা হয় ‘পয়েন্ট টেবিল ম্যানিপুলেশন’।  রিজওয়ানের বক্তব্যে ঠিক সেই ম্যাচ ফিক্সিং সদৃশ কৌশলের ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।

সংবাদ সম্মেলনে রিজওয়ান তার এই বিতর্কিত চিন্তার কথা লুকিয়ে রাখেননি। তিনি বলেন, ‘শুরু থেকেই লাহোরের প্রতি আমার এক অন্যরকম দুর্বলতা কাজ করছিল। আমি চেয়েছিলাম তারাই কোয়ালিফাই করুক। হয়তো আমার চিন্তাটা ভুল ছিল, সেজন্য আমি ক্ষমাপ্রার্থী।’

একদিকে উসমান খাজা ৪৩ বলে লড়াকু ৬৬* রানের ইনিংস খেললেও, রিজওয়ানের ব্যাট থেকে এসেছে ১৬ বলে ২৬। শেষ পর্যন্ত ১৩৬ রানেই গুটিয়ে যায় রাওয়ালপিন্ডিজ। ১০৮ রানের বিশাল ব্যবধানে হেরে তারা আসর শেষ করে মাত্র দুই পয়েন্ট নিয়ে।

রিজওয়ানের ইচ্ছা পূর্ণ হয়নি। হায়দ্রাবাদ কিংসম্যান বীরদর্পেই পা রেখেছে প্লে অফে। কিন্তু দিনশেষে প্রশ্ন রয়েই গেল। মাঠের লড়াই কি ব্যক্তিগত পছন্দের কাছে হার মেনে যাবে? রিজওয়ানের এই আবেগ কি ক্রিকেটের স্বচ্ছতাকে বড় কোনো প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিল না?

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

Share via
Copy link