বৈভবকে এখনই জাতীয় দলে চান না ব্রেথওয়েট

ভারতের ক্রিকেট আকাশে উজ্জ্বল নক্ষত্র হয়ে উদিত হওয়া বৈভব কি এখনই নীল জার্সিতে নামবেন? নাকি আগামীর বড় সুফলের জন্য তাকে আরও কিছুটা সময় আগলে রাখা প্রয়োজন?

ব্যাট হাতে তিনি যেন এক কালবৈশাখী। মাত্র ১৫ বছর বয়সেই কাঁপিয়ে দিচ্ছেন আইপিএলের মঞ্চ। নাম তার বৈভব সুরিয়াভানশি। বৈভব কি এখনই জাতীয় দলের নীল জার্সিতে নামবেন? নাকি আগামীর বড় সুফলের জন্য তাকে আরও কিছুটা সময় আগলে রাখা প্রয়োজন?

নির্বাচক কমিটির প্রধান অজিত আগরকারের জন্য কাজটা কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে। আইপিএলে এখন অবধি আট ম্যাচে ৪৪.৬২ গড়ে ৩৫৭ রান করেছেন বৈভব। সামনেই আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফর। সবাই চাইছে, ভারতের কনিষ্ঠতম খেলোয়াড় হিসেবে বৈভবের অভিষেক হোক এখনই। তবে এই উন্মাদনার মাঝে এক ভিন্ন পথের কথা বললেন কার্লোস ব্রেথওয়েট।

সাবেক এই ক্যারিবীয় অলরাউন্ডার মনে করেন, বৈভবকে নিয়ে তাড়াহুড়ো করা ঠিক হবে না। তিনি মনে করিয়ে দিলেন কিংবদন্তি ব্রায়ান লারার কথা। লারা যখন দলে আসেন, তখন তিনি ছিলেন জেনারেশনাল ট্যালেন্ট।

কিন্তু ওয়েস্ট ইন্ডিজ তাকে সরাসরি মাঠে নামিয়ে দেয়নি। তাকে রাখা হয়েছিল ভিভ রিচার্ডসের ছায়ায়। বড় বড় ম্যাচ ও পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিতে সময় দেওয়া হয়েছিল তাকে।

ব্রেথওয়েট বলেন, ​‘আমি দু:খিত বৈভব, কিন্তু আমাদের মনে রাখা উচিত লারাকে কীভাবে তৈরি করা হয়েছিল। তাকে দলের সাথে রাখা হয়েছিল, ড্রেসিংরুমের পরিবেশ বুঝতে সাহায্য করা হয়েছিল, কিন্তু মাঠে নামাতে তাড়াহুড়ো করা হয়নি। বৈভবের ক্ষেত্রেও ভারত একই পথ অনুসরণ করতে পারে।’

নিজের বয়স ও বৈভবের সামর্থ্যের তুলনা করে ব্রেথওয়েট কিছুটা রসিকতা আর বিস্ময় মিশিয়ে বলেন, ৩৭ বছর বয়সে এসেও তিনি যা কল্পনা করতে পারেন না, বৈভব তা এখনই অবলীলায় করে দেখাচ্ছেন। তার ভাষায়, ১.৮ বিলিয়ন মানুষের দেশ থেকে উঠে আসা এই সেনসেশনই হতে যাচ্ছে আগামীর ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন।

বৈভব সুরিয়াভানশি এখন কেবল একজন ক্রিকেটার নন, তিনি কোটি চোখের স্বপ্ন। তার ব্যাটে যে আগুনের ফুলকি দেখা যাচ্ছে, তা যেমন উত্তাপ ছড়াচ্ছে, তেমনি জাগাচ্ছে এক দীর্ঘস্থায়ী মহীরুহ হওয়ার সম্ভাবনা। কার্লোস ব্রেথওয়েটের পরামর্শটি তাই এক গভীর জীবনবোধের মতো। কাঁচা হীরাকে অলংকার বানানোর আগে তাকে ঘষেমেজে নেওয়ার প্রক্রিয়াটি জরুরি।

যদিও, এর বিরুদ্ধ মতও আছে। কারণ ভারতেই অল্প বয়সে খোদ শচীন টেন্ডুলকারের অভিষেক হওয়ার নজীর আছে। যেখানে ভারত সাফল্যও পেয়েছে। তাই সাবেক ওপেনার কৃষ্ণমাচারি শ্রীকান্তের মত অনেকেই মনে করেন শচীনের মত এখনই অভিষেক হওয়া উচিৎ বৈভবের।

বৈভবের সামনে সব মিলিয়ে দু’টি রাস্তা খোলা। হয় শচীন টেন্ডুলকার না হলে ব্রায়ান লারা। যে পথেই হাঁটুন না কেন, কিংবদন্তি হওয়া থেকে খুব বেশি দূরে নেই তিনি।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

জীবন তড়িৎ কোষে অ্যানোডে ক্রীড়ার উন্মাদনা আর ক্যাথোডে সাহিত্যের স্নিগ্ধ নির্যাস।

Share via
Copy link