সত্য বলতে গিয়ে কারাবন্দী

বিশ্বকাপ আয়োজন কমিটির সাবেক এই মিডিয়া ডিরেক্টরের অপরাধ ছিল একটাই - তিনি ফিফা ও কাতার প্রশাসনের বলা মিথ্যা প্রচারে রাজি হননি।

২০২২ বিশ্বকাপের সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। লুসাইল স্টেডিয়ামে যখন লিওনেল মেসি ট্রফি উঁচিয়ে ধরছেন, তখন কাতারের এক অন্ধকার কারাকক্ষে তিলে তিলে মরছিলেন আবদুল্লাহ ইভায়েসে। বিশ্বকাপ আয়োজন কমিটির সাবেক এই মিডিয়া ডিরেক্টরের অপরাধ ছিল একটাই – তিনি ফিফা ও কাতার প্রশাসনের বলা মিথ্যা প্রচারে রাজি হননি।

২০১৯ সালে বকেয়া মজুরির দাবিতে কাতারের শ্রমিকরা যখন বিক্ষোভে ফেটে পড়েন, তখন ইভায়েসেকে নির্দেশ দেওয়া হয় একে বিদেশি চক্রান্ত বলে চালিয়ে দিতে। কিন্তু ইভায়েসে সরেজমিনে গিয়ে দেখেন তৃষ্ণার্ত শ্রমিকদের অমানবিক দশা। তিনি মিথ্যা বিবৃতি দিতে অস্বীকার করে পদত্যাগ করেন। আর ঠিক তখনই শুরু হয় তার ওপর রাষ্ট্রীয় প্রতিহিংসা।

অবাধ্যতার দায়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনজীবী চাওয়ায় দেওয়া হয় পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি। শেষ পর্যন্ত পরিবারকে বাঁচাতে এবং মৃত্যুদণ্ড এড়াতে সাজানো এক ঘুষ ও জালিয়াতির স্বীকারোক্তিতে সই করতে বাধ্য হন তিনি। দীর্ঘ ৩ বছর ৪ মাস নরকযন্ত্রণার পর ২০২৫ এর মার্চে তিনি মুক্তি পান।

​আবদুল্লাহর লড়াইয়ে সবচেয়ে বড় আঘাত এসেছিল ফিফার পক্ষ থেকে। যে সংস্থাটি ফুটবলের মূল্যবোধ আর মানবাধিকারের বুলি আওড়ায়, তারা আবদুল্লাহর করুণ আর্তনাদে কর্ণপাতই করেনি। তার মতে, ফিফা কেবল নীরব দর্শক ছিল না, তারা কাতারের সাজানো বয়ানকে রক্ষা করেছে বাণিজ্যিক স্বার্থে।

​আবদুল্লাহ ইভায়েস এখন একাই লড়ছেন সেই দৈত্যাকার ব্যবস্থার বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, ‘আমি জানি আমি সাগরের মাঝে এক ফোঁটা জল মাত্র। কিন্তু দায়ীদের বিচার না দেখে আমি থামব না। কাতার যা করেছে, ২০৩৪ এ অন্য কোনো দেশ হয়তো তাই করবে। আমাদের কি কিছুই করার নেই?’

স্টেডিয়ামের জমকালো আয়োজনের নিচে যে অন্ধকার সত্যিগুলোকে পুঁতে রাখা হয়েছিল, আবদুল্লাহ ইভায়েস আজ যেন সেই অন্ধকার খুঁড়ে সত্য বের করে আনার এক জীবন্ত মশাল।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

সাব এডিটর

ত্রিদেশীয় সিরিজে তুরুপের তাস কারা?

দীর্ঘ বিরতির পর বাংলাদেশের ওয়ানডে দলে হাসান মাহমুদের প্রত্যাবর্তন, তবে টেস্ট ক্রিকেটে নিয়মিত পারফরম্যান্সে নিজের সামর্থ্যের জানান দিয়ে চলেছেন হাসান! লাল বলের ক্রিকেটে তাঁর বোলিংয়ের ধার এবার সাদা বলেও দেখতে চাইবে লাল-সবুজের পতাকাবাহীরা। গতি, নিয়ন্ত্রিত লাইন-লেংথ আর ব্যাটারকে ভুল করতে বাধ্য করার দক্ষতা তাঁকে করে তুলতে পারে পেস আক্রমণের গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্র। নতুন বলে উইকেট তুলে নেওয়া থেকে শুরু করে মাঝের ওভারে রান আটকে রাখা, প্রতিটি ক্ষেত্রেই তাঁর ভূমিকা হতে পারে তাৎপর্যপূর্ণ। টেস্টের আত্মবিশ্বাস ওয়ানডেতেও অনূদিত হলে হাসানের প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের বোলিংয়ে যোগ করতে পারে বাড়তি ধার। তবে একাদশে সরাসরি জায়গা পাবেন কি না, তা নিয়ে রয়েছে সংশয়ের জায়গা।

শিরোপার উল্লাসে লেখা হবে জামালের বিদায়গাথা?

ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে জন্ম নেওয়া জামালের ফুটবলের হাতেখড়ি ইউরোপের যুব ফুটবল কাঠামোয়। ব্রন্ডবি আইএফের যুব দল পেরিয়ে মাত্র ১৪ বছর বয়সে সুযোগ পান এফসি কোপেনহেগেনের যুব দলে। সামনে ছিল পেশাদার ফুটবলে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন। কিন্তু ২০০৬ সালে, মাত্র ১৬ বছর বয়সে, গ্যাং-সংক্রান্ত গোলাগুলির মধ্যে পড়ে তাঁর শরীরে বিদ্ধ হয় চারটি বুলেট। কয়েক দিন কোমায় থাকার পর শুরু হয় দীর্ঘ চিকিৎসা ও পুনর্বাসন। একটা সময় আশঙ্কা দেখা দিয়েছিল, হয়তো আর কখনো ফুটবলে ফেরা হবে না তাঁর। কিন্তু জামাল ফিরলেন, হয়ে রইলেন বাংলাদেশ ফুটবলের এক জীবন্ত কিংবদন্তী!

গোল-আকালের অবসান ঘটাবেন রোনান!

বয়সভিত্তিক ফুটবলে রোনান সুলিভান অবশ্য নিজের সামর্থ্যের স্বাক্ষর রেখেছেন। ২০২৬ সালের সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপে বাংলাদেশের শিরোপা জয়ের পথে পাকিস্তানের বিপক্ষে জোড়া গোল করেছিলেন তিনি। ফাইনালে ভারতের বিপক্ষে টাইব্রেকারেও গোল করেন এই তরুণ ফরোয়ার্ড। কৌশলগতভাবে রোনানকে কার্যকর করে তুলতে প্রয়োজন উইং থেকে নির্ভুল ক্রস, মাঝমাঠ থেকে থ্রু পাস এবং আক্রমণের শেষ তৃতীয়াংশে দ্রুত বল সরবরাহ। প্রতিপক্ষ নিচু ব্লকে রক্ষণ সাজালে বক্সে তাঁর পজিশনিং ও ফিনিশিং গুরুত্বপূর্ণ হবে। অন্যদিকে, প্রতিপক্ষের প্রেসিং মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রয়োজন দ্রুত পাসিং, বলের দখল ধরে রাখা এবং রক্ষণ থেকে আক্রমণে কার্যকর উত্তরণ।

Share via
Copy link