বিশ্বজয়ের আরাধনায় পাকিস্তান

আক্ষেপ ঘুচিয়ে ২০২৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ার মাটিতে হতে যাওয়া বিশ্বমঞ্চে নিজেদের দাপট ফিরে পেতে এক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড।

গত এক দশক ধরে আইসিসি ইভেন্ট মানেই পাকিস্তানের জন্য এক রাশ হতাশা। ২০১১ সালের সেই মোহালি ট্র্যাজেডির পর ওয়ানডে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল যেন দলটির কাছে সোনার হরিণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেই আক্ষেপ ঘুচিয়ে ২০২৭ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও নামিবিয়ার মাটিতে হতে যাওয়া বিশ্বমঞ্চে নিজেদের দাপট ফিরে পেতে এক মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি)।

২০২৭ বিশ্বকাপের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে পিসিবি ঘরের মাঠে এক হাই-ভোল্টেজ ত্রিদেশীয় সিরিজ আয়োজনের ঘোষণা দিয়েছে। অক্টোবর-নভেম্বরে হতে যাওয়া এই টুর্নামেন্টে পাকিস্তানের সঙ্গী হচ্ছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইংল্যান্ড এবং এশিয়ান পাওয়ারহাউজ শ্রীলঙ্কা।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের রেশ কাটতে না কাটতেই শুরু হবে রঙিন পোশাকের এই জমজমাট লড়াই। ইংল্যান্ড অ্যান্ড ওয়েলস ক্রিকেট বোর্ড (ইসিবি) ইতোমধ্যে এই সফরে সম্মতি জানিয়েছে। ইতোমধ্যে ক্রিকেট শ্রীলঙ্কাকেও এই আমন্ত্রণ জানিয়েছে পিসিবি।

টুর্নামেন্টের ফরম্যাট হবে বেশ সংক্ষিপ্ত। প্রতিটি দল একে অপরের মুখোমুখি হবে একবার করে। তারপর পয়েন্ট টেবিলের সেরা দুই দল লড়বে ফাইনালের শ্রেষ্ঠত্বের জন্য। এই সিরিজের আগে মে-জুন মাসে অজিদের বিপক্ষে তিন ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজ দিয়ে নিজেদের ঝালিয়ে নেওয়ার সুযোগ পাবে শাহীন শাহ আফ্রিদির দল।

পাকিস্তানের ক্রিকেট ইতিহাস যতটা গৌরবের, সাম্প্রতিক সময়টা ততটাই বিবর্ণ। ১৯৭৯ থেকে ১৯৮৭ – টানা তিন আসরে সেমিফাইনাল খেলা বা ১৯৯২ তে ইমরান খানের সেই রূপকথার বিশ্বজয় আজ কেবলই মধুর স্মৃতি। ১৯৯৯ এর ফাইনাল কিংবা ২০১১ এর শেষ চারের পর থেকেই যেন পথ হারিয়েছে দলটি।

​আগামী ২০২৭ বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে তাই আমূল পরিবর্তনের পথে হাঁটছে পিসিবি। সাদা বলের কোচ মাইক হেসন এবং অধিনায়ক শাহীন শাহ আফ্রিদি জুটির ওপর ভরসা রাখছে ম্যানেজমেন্ট।

পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সম্প্রতি বাংলাদেশ সফরে ছয়জন তরুণ তুর্কিকে জাতীয় দলের ক্যাপ পরানো হয়েছে, যা ইঙ্গিত দিচ্ছে – অভিজ্ঞতার সাথে তারুণ্যের মিশেলে এক অপরাজেয় দল গড়তে চায় পাকিস্তান। আগামী জুন মাসেই কোচ ও অধিনায়ক মিলে বিশ্বকাপের চূড়ান্ত রোডম্যাপ তৈরি করবেন।

লেখক পরিচিতি

স্বপ্নীল ভূঁইয়া

জীবন তড়িৎ কোষে অ্যানোডে ক্রীড়ার উন্মাদনা আর ক্যাথোডে সাহিত্যের স্নিগ্ধ নির্যাস।

Share via
Copy link