মহামারির দিন যেন ফিরে এসেছে। ২২ জন ক্রিকেটার খেলে যাচ্ছেন কিন্তু বিশাল স্টেডিয়ামজুড়ে তাঁদের দেখার মতো কোনো দর্শক নেই। অনেককে এমন পরিস্থিতি আশাহত করলেও এই নিস্তব্ধতার মধ্যেই যেন নিজেদের সেরা রূপ ফিরে পেয়েছেন বাবর আজম আর কুশাল মেন্ডিস।
কিছুদিন আগেও যেন ক্রিকেটের মাঠ মরুভূমির মতো হয়ে গিয়েছিল বাবরের জন্য। রান আসছে না, সমালোচনার মুখোমুখি হতে হচ্ছে সকল জায়গায়। তাঁর এমন অসহায় রূপ দেখতে ভালো লাগছিলো না কারো চোখেই।
২০২৫ সালের পিএসএলে বাবর করেন ২৮৮ রান। স্ট্রাইকরেট ১৩০ এরও কম। যেখানে আগের বছরগুলোতে ১৪০ এর বেশি রান আসতো প্রতি ১০০ বল খেলার পরে। পাকিস্তানের জার্সিতে হাল তো আরও খারাপ। গত দুই বছর ধরে ব্যাট করছেন ১১৫ এর কাছাকাছি স্ট্রাইকরেটে।

ভুলে যেতে চাইবেন এমন এক সময়ে এসে বাবর পেশোয়ার জালমিতে পাশে পেলেন লঙ্কান বাঁহাতি কুশালকে।
এশিয়ার জ্বালানি সংকটের কারণে পিএসএল দেখতে আসার সুযোগ নেই দর্শকদের কাছে। এর ভেতরেই যেন গ্রাউন্ড প্লেয়ার হয়ে গেছেন বাবর আর কুশাল। স্লোগান নেই, ধুয়ো ধ্বনি নেই, নেই হাজারো দর্শকের ভিড় থেকে বের হয়ে আসা চিৎকার। নিস্তরঙ্গতার জীবনে দুই ব্যাটার খেলছেন মনের কথা শুনে।
কুশাল মেন্ডিস আগে থেকেই খেলতে পারতেন পুরো মাঠজুড়ে। সময়ের সাথে সাথে এখন এসে ঝুড়িতে যোগ করছেন নতুন সব অস্ত্র। স্পিনার হোক কিংবা পেসার, ক্রিজ থেকে বেরিয়ে এসে সপাটে মারছেন সবাইকেই। নয় ইনিংসেই করেছেন ৫০০ রান। এক শতক আর চার ফিফটির সাথে স্ট্রাইকরেট ১৭০।

বাবরের ব্যাটও কম চলছে না। ৪৮৫ রান করেছেন ১৪০ এর বেশি স্ট্রাইকরেটে। গড় চোখ ছানাবড়া করে দেওয়ার মতো, ৮০.৮৩। এমনকি এবারের পিএসলের দ্বিতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরিটাও বাবরের নামে লেখা।
কী এমন হলো যে বদলে গেছেন দুজনেই? উত্তরটা হয়তো পিএসলের লোকশূন্য স্টেডিয়ামের চেয়ারগুলোর কাছ থেকেই পাওয়া যেতে পারে। কোনো ভয় নেই, কোনো চিন্তা নেই, এমন দিনে তাই তো দুই প্রতিভাবান ব্যাটার একে অন্যকে সুযোগ করে দিচ্ছেন ব্যাট হাতে প্রতিভার সবটুকু ঢেলে দিতে।










