নয় হাজারের ক্লাবে হিমালয়সম বিরাট!

বয়স বাড়ছে, জাতীয় দলের হয়ে খেলার পরিধিটাও ছোট হয়ে আসছে, কিন্তু, ২২ গজের লড়াই দেখতে আসা দর্শকদের মন যেন বিরাট আজও একাই ভরিয়ে দিতে পারেন।

টি-টোয়েন্টিতে ৯০০০ রান করতে পারাটাই বিশাল বড় অর্জন। সেখানে কেবল একটা মাত্র ফ্র্যাঞ্চাইজি লিগেই এই মাইলফলক ছোঁয়া, এটা যেন এক অবিশ্বাস্য গল্প। তবে বিরাট কোহলি বলে কথা, তাঁর কাছে যে অসম্ভব বলে কোন শব্দ নেই। তিনিই তো সেই রুপকথার নায়ক, যিনি অবলীলায় ভেঙেচুরে দিতে পারেন ক্রিকেটের সমস্ত রেকর্ড।

আইপিএলের ১৯টি আসর পেরিয়ে গেলেও এখনো কেউ ৮০০০ রানের গণ্ডি পেরোতে পারেননি। সেখানে কোহলি আছেন এক অনন্য উচ্চতায়, সবার থেকে অনেকটা এগিয়ে। যেন রান সংখ্যার হিসাব নয়, তিনি লিখছেন একক আধিপত্যের অধ্যায়। বয়স ৩৭ হলেও ২২ গজে তাঁকে দেখলে এখনও মনে হয়, এক তরুণ ব্যাটসম্যান নতুন করে নিজেকে প্রমাণ করতে নেমেছে।
২০০৮ সাল থেকে রয়্যাল চ্যালেঞ্জার্স ব্যাঙ্গালুরুর হয়ে একটানা খেলছেন তিনি। সময় গড়িয়েছে, ক্রিকেট বদলেছে, প্রতিপক্ষ বদলেছে, কিন্তু বদলায়নি কোহলির ধারাবাহিকতা আর লড়াইয়ের মানসিকতা। প্রতিটি মৌসুমে তিনি যেন আরও পরিণত, আরও ক্ষুরধার হয়ে উঠেছেন।

গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে ৮১ রানের ইনিংস খেলে যখন তিনি ফিরলেন, তখন আইপিএলে তাঁর রান দাঁড়ায় ৮৯৮৯। অর্থাৎ মাত্র ১১ রান দূরে এক ঐতিহাসিক মাইলফলক থেকে, ৯০০০ রানের সোনালি অধ্যায় ছুঁয়ে ফেলার অপেক্ষা। দিল্লি ক্যাপিটালসের বিপক্ষে সেই ছোট্ট ব্যবধানটাই খুলে দিল নতুন ইতিহাসের দরজা।
বোলারদের তান্ডবের দিনে আরসিবি যখন ৭৬ রান তাড়া করতে নামে ব্যাটারদের তখন করার মতো কাজ ছিল না বিশেষ কিছু। এমন দিনটাকেই যেন বিরাট বেছে নিলেন নিজের রেকর্ড গড়ার জন্য। নয় উইকেটে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যাওয়ার পথে বিরাট অপরাজিত থাকলেন ২৩ রানে।
বিরাট কোহলি মানে যেন বিস্ময়ের সমার্থক শব্দ। বয়স বাড়ছে, জাতীয় দলের হয়ে খেলার পরিধিটাও ছোট হয়ে আসছে, কিন্তু, ২২ গজের লড়াই দেখতে আসা দর্শকদের মন যেন বিরাট আজও একাই ভরিয়ে দিতে পারেন।

 

 

 

 

লেখক পরিচিতি

বেঁচে আছি না পড়া বইগুলো পড়ব বলে

Share via
Copy link