পকেটে টাকা নেই, বাবা পান দোকান চালিয়ে কিংবা প্রাইভেট চাকরি করে যে মাইনে পান, তাতে সংসারটা আধপেটা খেয়ে চলে গেলেও ক্রিকেটার হওয়ার স্বপ্ন দেখা বিলাসিতা, আরও জোরালোভাবে বললেও পাপও। তবে বুকের ভেতর চাপা আগুন কি আর দমিয়ে রাখা যায়? হৃদয় পোড়ার গন্ধটা ডরমিটরিতে থাকা রাতগুলোয় যে স্বপ্ন দেখিয়েছে শুভম দুবেকে। আর সেটাই বাস্তব রূপ হয়ে ধরা দিয়েছে চণ্ডীগড়ের বাইশ গজে। স্বপ্নবাজ ছেলেটার হাত ধরে রাজস্থান রয়্যালস হারিয়েছে পাঞ্জাবকে।
৩৬ বলে ৭৬ রান প্রয়োজন, এমন এক সময়ে মঞ্চে এসেছিলেন ইমপ্যাক্ট সাব হয়ে। এরপর ১২ বলে ৩১ রানের এক ঝড়, এ যে বুকের ভেতরের জমিয়ে রাখা সেই প্রতিজ্ঞার বিস্ফোরণ, সুযোগ একদিন আমারও আসবে, আমিও দেখিয়ে দেব গোটা দুনিয়াকে।
নাগপুরের এক সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে আসা এই ক্রিকেটারের গল্পটা সংগ্রামের। বাবা আগে পান দোকান চালাতেন, পরে করেন একটি প্রাইভেট চাকরি। নবম শ্রেণিতে পড়ার সময়, ক্লাস ফাঁকি দিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে টেনিস বল ক্রিকেট খেলতে খেলতেই শুরু।

সেই স্ট্রিট ক্রিকেটই গড়ে দেয় তার চরিত্র, চাপের মধ্যে খেলা, দ্রুত রান তোলার অভ্যাস, আর ম্যাচ শেষ করার মানসিকতা। অনেক সময় নিজের কিটের খরচ জোগাতেও খেলতে হয়েছে, যা তাকে আরও কঠিন করে তোলে। সোনা পুড়ে যেমন খাঁটি হয়, তেমনই সংগ্রামের আগুনে পুড়ে খাঁটি সোনায় পরিণত হয়েছেন শুভম।
কারো কারো কাছে সফলতা ছুটে আসে দ্রুত, কারো কাছে আসে কচ্ছপের গতিতে। শুভমের ভাগ্য খুলতে একটু দেরিই হয়েছে। ২০২১ সালে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে অভিষেক, তবে ঠিকঠাক সুযোগ মেলেনি।
তবে ক্যারিয়ারের গতিপথ বদলে দেয় ২০২৩-২৪ সালের সৈয়দ মুস্তাক আলি ট্রফি। সাত ইনিংসে ২২১ রান, স্ট্রাইক রেট ছিল ১৮৭। এর মধ্যে ২০ বলে ৫৮ রানের ইনিংসটা তাঁকে পরিচিতি এনে দেয়। ব্যস, এই পারফরম্যান্স দেখে নজর পড়ে রাজস্থানের। ৫.৮ কোটি রুপিতে তাঁকে দলে টানা হয়।

২০২৪-এ আইপিএল অভিষেক হলেও সুযোগ ছিল সীমিত। ২০২৫ নিলামের আগে ছেড়ে দেওয়া হলেও আবার তাকে ফিরিয়ে আনে রাজস্থান, আর এবার তিনি ফিরিয়ে দিলেন বিশ্বাস। ছোট একটা সুযোগ লুফে নিয়ে বড় কিছুর ঘোষণা দিয়েছেন ৩১ বছর বয়সী এই ফিনিশার।
একটা সময় পকেটে টাকা ছিল সীমিত, তবে স্বপ্নটা ছিল বিশাল বড়। অমূল্য সেই স্বপ্নকে পুঁজি করে শুভম আজ নিজের ছোটখাটো রাজত্ব প্রতিষ্ঠা করে ফেলেছেন। একটু দেরি ঠিকই, তবে দেরিতে ফোটা ফুলই সবথেকে সুন্দর!











