বড় মঞ্চ তো বাবরের জন্য!

বোলারের মাথার উপর দিয়ে হাঁকালেন বিশাল এক ছক্কা, এরপর লাফিয়ে উঠে বুনো গর্জনে সেঞ্চুরি উদযাপন। এই এক অন্যরকম বাবর আজম। যার ব্যাট এখন রাজদণ্ড, ওটা দিয়েই শাসন করছেন বোলারদের। শতক যে তাঁর কাছে এখন ডালভাত।

বোলারের মাথার উপর দিয়ে হাঁকালেন বিশাল এক ছক্কা, এরপর লাফিয়ে উঠে বুনো গর্জনে সেঞ্চুরি উদযাপন। এই এক অন্যরকম বাবর আজম। যার ব্যাট এখন রাজদণ্ড, ওটা দিয়েই শাসন করছেন বোলারদের। শতক যে তাঁর কাছে এখন ডালভাত।

একদিকে চাপ, অন্যদিকে ফাইনালের টিকিটের লড়াই—এই দুইয়ের মাঝখানে দাঁড়িয়ে বাবর খেললেন নিজের স্বভাবসিদ্ধ শান্ত ক্রিকেট। প্রতিটি শট ছিল পরিমাপ করা, প্রতিটি রান ছিল নিয়ন্ত্রিত। গ্যাপ খুঁজে বের করা, স্ট্রাইক রোটেট করা, আর সুযোগ পেলেই বাউন্ডারি, সব মিলিয়ে যেন ব্যাটিংয়ের এক নিখুঁত পাঠ।

শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত নেতার ভূমিকায় দলকে পথ দেখালেন। শাসকের ভূমিকায় শাসন করলেন বোলারদের। বড় মঞ্চ যে বড় তারকাদের জন্য, এটাই প্রমাণ হলো আরও একবার।

বাবর যেন পণ করেছেন পেশোয়ার জালমিকে শিরোপা জিতিয়ে তবেই শান্ত হবেন। যখন ফিফটি এলো তাই তো নিজের ভেতরের ক্ষুধাটা তখনও নিবারণ হলো না। ছুট লাগালেন শতকের দিকে।

আর তারপর এল সেই মুহূর্ত, যা বদলে দিল ম্যাচের ভাষা। মাত্র ৫৭ বলেই পৌঁছে গেলেন তিন অঙ্কের গন্তব্যে। শেষ পর্যন্ত থেমেছেন ঝলমলে ১০৩ রানের ইনিংস খেলে। এটি তার পিএসএল ক্যারিয়ারের চার নম্বর, আর চলতি আসরের দ্বিতীয় শতক। বড় মঞ্চে আবারও প্রমাণ করলেন, বাবর আজম মানেই বড় ইনিংসের প্রতিশব্দ।

বাবর যখন ছন্দে থাকেন, তখন তিনি শুধু রান করেন না—ম্যাচের গতি, প্রতিপক্ষের পরিকল্পনা, সবকিছুকেই নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসেন। পিএসএলটাকে বেছে নিয়েছেন সমালোচনার জবাব দেওয়ার জন্য। কটাক্ষগুলো সীমানার ওপারে পাঠানোর জন্য। তিনি পেরেছেন, স্বমহিমায় ফিরে বুঝিয়ে দিয়েছেন, বাবর নামধারীরা কেবল শাসন করতেই আসেন।

Share via
Copy link