চ্যাম্পিয়নস লিগ মানেই তো স্নায়ুর লড়াই। কিন্তু পার্ক দেস প্রিন্সেসে সেমিফাইনালে যা ঘটলো, তাকে এক কথায় বলা যায় স্নায়বিক লড়াইয়ের শৈল্পিক রূপ। নয় গোলের এক অবিশ্বাস্য সাইক্লোন। পিএসজি আর বায়ার্ন মিলে ফুটবল বিশ্বকে যেন নতুন করে চিনিয়ে দিল আক্রমণের আনন্দ।
ম্যাচ শেষে স্কোরলাইন যখন ৫-৪, তখন বিজয়ীর নাম খোঁজা বৃথা। কারণ জয় পিএসজির হলেও, বায়ার্ন মিউনিখও হার মেনে নেয়নি। সাধারণ সেমিফাইনালে আমরা জমাট রক্ষণ দেখি। কিন্তু এখানে দুই দলই নেমেছিল গোলবন্যায় প্রতিপক্ষকে ভাসিয়ে দিতে। পুরো ৯০ মিনিট যেন ছিল মোমেন্টামের এক লুকোচুরি খেলা।
পিএসজির জয়ের রূপকার হিসেবে দু’টি নাম আলাদা করে বলতেই হয়। কভারাটস্খেলিয়া এবং উসমান দেম্বেলে। জর্জিয়ান উইঙ্গার কভারাটস্খেলিয়াকে থামানো যেন এক প্রকার অসম্ভব ছিল। তার দু’টি গোলই ছিল শৈল্পিক ফিনিশিংয়ের উদাহরণ। অন্যদিকে দেম্বেলে দেখিয়েছেন তার বিধ্বংসী রূপ। পেনাল্টি থেকে গোল করার পাশাপাশি বায়ার্ন রক্ষণকে একাই তটস্থ করে রেখেছিলেন তিনি।

ম্যাচের শুরুতেই পেনাল্টি থেকে হ্যারি কেনের গোল বায়ার্নকে স্বপ্ন দেখিয়েছিল। কিন্তু পিএসজির ঝড়ে এক সময় তারা ৫-২ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ে।
পৃথিবীর অন্য কোনো দল হলে হয়তো সেখানেই হাল ছেড়ে দিত। কিন্তু বায়ার্নের রক্তে আছে ঘুরে দাঁড়ানোর ইতিহাস। উপামেকানোর বুলেট গতির হেড আর লুইস দিয়াজের চতুর ফিনিশিং। ম্যাচের ভাগ্য আবার দুলতে শুরু করে পেন্ডুলামের মতো।
বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, পিএসজি তাদের ট্রানজিশনে বায়ার্নের চেয়ে অনেক বেশি ক্লিনিক্যাল ছিল। কিন্তু রক্ষণভাগে দুই দলেরই বড় দুর্বলতা ফুটে উঠেছে। জোয়াও নেভেস বা মাইকেল অলিসের মতো তরুণদের গোলগুলো প্রমাণ করে যে, বড় মঞ্চে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তারুণ্যের সাহস কতটা জরুরি।

এই ৫-৪ গোলের জয় পিএসজিকে মানসিকভাবে কিছুটা এগিয়ে রাখলেও, লড়াইটা এখনো ফিফটি-ফিফটি। মাত্র এক গোলের ব্যবধান নিয়ে মিউনিখের অ্যালিয়ানজ অ্যারেনায় যাওয়া মানে বাঘের গুহায় পা রাখা। বায়ার্ন জানে তাদের মাঠে তারা কতটা ভয়ংকর, আর পিএসজি জানে তাদের হাতে থাকা কভারাটস্খেলিয়া-দেম্বেলে জুটি যেকোনো রক্ষণ ভাঙতে সক্ষম।
ফুটবল ভক্তদের জন্য এর চেয়ে বড় তৃপ্তি আর কিছু হতে পারে না। প্রথম লেগ যদি হয় একটি মহাকাব্যের ভূমিকা, তবে দ্বিতীয় লেগ যে রক্তক্ষয়ী এক যুদ্ধের ইঙ্গিত দিচ্ছে, তাতে কোনো সন্দেহ নেই।











