সাদা বলের ক্রিকেটে ভারতের জন্য একটা সময় ভয়ের নাম ছিলেন শাহীন শাহ আফ্রিদি। বিশেষ করে নতুন বলে রীতিমতো ত্রাস সৃষ্টি করতেন। তবে সাম্প্রতিক সময়ে অবশ্য ফর্মে নেই খুব একটা। তাই তো ভারত-পাকিস্তান দ্বৈরথ মাঠে গড়ানোর আগে সবার মনে একটাই প্রশ্ন—পুরোনো শাহীনকে এই ম্যাচে দেখা যাবে তো?
২০১৮ সালে অভিষেকের পর থেকে শাহীন আফ্রিদি অপ্রতিরোধ্য হয়ে উঠেছেন। বিশেষ করে নতুন বলে তাঁর সুইং সামলানোটা বড্ড কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল ব্যাটারদের জন্য। ২০২১ সালে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারতের ব্যাটাররা সেটা টের পেয়েছিল হাড়েহাড়ে।
সেবার শুরুতেই রোহিত শর্মা, কেএল রাহুল আর বিরাট কোহলিকে ফিরিয়ে দিয়ে ভারতের ডেরায় আধিপত্য দেখান তিনি। এরপর ২০২৩ সালের এশিয়া কাপেও সেটারই পুনরাবৃত্তি করেন। রোহিত-কোহলিসহ আরও দুই ব্যাটারকে সাজঘরের টিকিট ধরিয়ে দেন। এখন পর্যন্ত ভারতের বিপক্ষে মাত্র আটটি সাদা বলের ম্যাচেই তাঁর শিকার ১৩ উইকেট।

শুধু পরিসংখ্যানই নয়, আফ্রিদির শক্তিমত্তাও আলাদাভাবে চোখে পড়ার মতো। ৬ ফুট ৬ ইঞ্চি উচ্চতার কারণে পাওয়া অতিরিক্ত বাউন্স, পাওয়ারপ্লেতে বল দু’দিকেই সুইং করানোর দক্ষতা আর ডেথ ওভারে ভয়ঙ্কর ইয়র্কার—সব মিলিয়েই যে তিনি দলের সেরা অস্ত্র।
উপরন্তু ভারতের ব্যাটাররা বামহাতি পেসারদের বিপক্ষে দুর্বল। শুভমান গিলকে এখন পর্যন্ত ১০ বার আউট করেছেন বাঁহাতি পেসাররা, ওয়ানডে এবং টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে সুরিয়াকুমার যাদবও ১৮ বার বিদায় নিয়েছেন। সঞ্জু স্যামসনের গড় তো আরও হতাশাজনক। এই দুর্বলতার সুযোগ নিশ্চয় নিতেই চাইবেন আফ্রিদি।
তবে সংশয়ের জায়গাটা এবার কি ভারতকে বল হাতে নাকানি-চুবানি খাওয়াতে পারবেন শাহীন। সাম্প্রতিক ফর্ম যে খুব একটা আশা জাগানিয়া নয়। চলতি বছর টি-টোয়েন্টিতে ১০ ম্যাচে আফ্রিদির ঝুলিতে এসেছে মাত্র ৮ উইকেট। বোলিং গড় ৩৩.৬২।

টি-টোয়েন্টিতে শেষ চার ম্যাচে পেয়েছেন চার উইকেট, এমনকি আফগানিস্তানের বিপক্ষেও থেকেছেন উইকেটশূন্য। ধারাবাহিকতার অভাবে গত ১৫ মাসে একাধিকবার ছিটকে গেছেন দল থেকে। এমনকি নিউজিল্যান্ডের কাছে সিরিজ হারার পর হারিয়েছেন পাকিস্তানের টি-টোয়েন্টি অধিনায়কত্বও।
তাই এবারের চিত্রটা ভিন্ন হতে পারে। ভারতের ব্যাটিং লাইনআপে এসেছে নতুন আগ্রাসী রূপ। ওপেনার থেকে শুরু করে মিডল অর্ডার ভারত ব্যাটাররা সবাই বেশ ফর্মে রয়েছেন।
তাই আফ্রিদিকে নিজের খ্যাতি ধরে রাখতে এবার হয়তো একটু বেশি পরিশ্রম করতে হবে। নতুন বলে দাপট দেখাতে না পারলে যে ভারতের ব্যাটাররা তার উপর ছড়িয়ে দিতে পারে পাল্টা ত্রাস।












