১১ রানের মাথায় আউট হতে পারতেন শামীম হোসেন পাটোয়ারি। কিন্তু ভাগ্য সহায় হল, তাকে বাঁচিয়ে দিল। মুহূর্তের মধ্যে প্যাভিলিয়নে ফেরা থেকে রক্ষা পেলেন তিনি। এরপর সম্ভবত তার ক্যারিয়ারে আরও বেশি পরিণত হওয়ার ইনিংসটি পেয়ে গেলেন শামীম হোসেন। কার্যকরের থেকেও বেশি সময়োপযোগী ইনিংসে বাংলাদেশের লড়াই করার সম্ভাবনা বাঁচিয়ে রাখলেন।
এদিন শামীম ব্যাট করতে এলেন সাত নম্বর ব্যাটার হিসেবে। ৫৩ রানে নেই বাংলাদেশের পঞ্চম উইকেট। ভরসা প্রতীক লিটন দাস হতাশ বদনে ফিরে যাচ্ছেন সাজঘরের দিকে। রাজ্যের চাপ মাথায় নিয়ে শামীমকে ব্যাট করতে হল। বয়সের সাথে তার চাপ সংবরণের ক্ষমতা বেড়েছে- সেটাই প্রমাণ করলেন শামীম।
জাকের আলি অনিকের সাথে ভীষণ ভীষণ গুরুত্বপূর্ণ একটা জুটি গড়লেন শামীম। এই জুটি থেকে এলো ৬১ বলে ৮৬ রান। যার অধিকাংশ রানই এসেছে শামীমের ব্যাট থেকে। ৩৪ বলে ৪২ রান তুললেন তিনি। শামীমের ব্যাট থেকেই এলো বাংলাদেশের ইনিংসের একটি মাত্র ছক্কা।

১২৫ স্ট্রাইকরেটের এই ইনিংসটি হয়ত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটের বিবেচনায় বড্ড সাদামাটা। কিন্তু পরিস্থিতির চাহিদা আর পাহাড়সম চাপের মধ্যে দাঁড়িয়ে খেলা এই ইনিংসটি শামীমের মানসিক দৃঢ়তার প্রতিচ্ছবি হয়ে থাকবে তার ক্যারিয়ার জুড়ে। এশিয়া কাপের মত বড় মঞ্চে যখন দলের বেহাল দশা- তখন রানের চাকা সচল রাখলেন। বাংলাদেশকে ১৩৯ রান অবধি নিয়ে গেলেন।
একটি মাত্র ছক্কা ছাড়াও আরও দুইটি চার মেরেছেন বা-হাতি এই ব্যাটার। সেই বাউন্ডারিগুলো ভীষণ হাঁসফাঁস পরিস্থিতির মাঝে একটু হলেও বাংলাদেশকে দিয়েছে অক্সিজেন। ইনিংসের শুরুর দুই ওভারে শূন্যরানে দুই উইকেট হারানোর পর সৃষ্ট চাপকে শব্দমালায় বর্ণনা করা প্রায় অসম্ভব।
এছাড়াও বৈরী উইকেট, বিশাল বড় মাঠ, স্লো আউটফিল্ড ও লঙ্কা বোলারদের দুর্ধর্ষ বোলিংয়ের বিপরীতে শামীমের অটুট ইনিংসটি বাংলাদেশকে নূন্যতম লড়াইয়ের রসদ জুগিয়ে গেল। আর তার জন্যে এই ইনিংসটি হয়ে রইল আত্মবিশ্বাসের বিশাল উদাহরণ। ক্যারিয়ারে চলার পথে এই দিনটির কথা নিশ্চয়ই মনে রইবে তার। এমন প্রতিকূলতা ডিঙিয়ে যাওয়া মোটেও চাট্টিখানি কথা নয়।












