এশিয়ার দ্বিতীয় সেরা আফগানিস্তান = একটি কৌতুক

আসলে এশিয়ার দ্বিতীয় সেরা দল কোনটি? এমন প্রশ্নের একটা সহজ জবাব হচ্ছে শ্রীলঙ্কা। পাকিস্তানকেও এখানে বিবেচনায় না নেওয়ার যৌক্তিক কারণ অবশ্যই রয়েছে। 

‘আফগানিস্তান এশিয়ার দ্বিতীয় সের দল’- হুট করেই এমন একটা মন্তব্য চাওড় হতে শুরু করে এশিয়ান ক্রিকেটের সীমারেখায়। অথচ সেই দলটাই এশিয়া কাপের দ্বিতীয় রাউন্ডে উঠতে ব্যর্থ। আসলে এশিয়ার দ্বিতীয় সেরা দল কোনটি? এমন প্রশ্নের একটা সহজ জবাব হচ্ছে শ্রীলঙ্কা। পাকিস্তানকেও এখানে বিবেচনায় না নেওয়ার যৌক্তিক কারণ অবশ্যই রয়েছে।

সর্বশেষ টি-টোয়েণ্টি বিশ্বকাপে নানা সমীকরণের মারপ্যাঁচে আফগানিস্তান খেলেছিল সেমিফাইনাল। তবে সেমিফাইনালে তারা হেরেছিল বেজায় বাজে ভাবে। দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে পাত্তাই পায়নি। এছাড়াও টি-টোয়েন্টিতে দলটির বর্তমান অবস্থান র‍্যাংকিংয়ের দশ নম্বর স্থানে। এশিয়া কাপের শুরুতে অবশ্য সেটা ছিল নয়।

এমনকি র‍্যাংকিংয়ে তাদের উপরেই রয়েছে শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের অবস্থান। সাথে বাংলাদেশও বসে আছে নয় নম্বর স্থানে। অতএব স্রেফ একটি টুর্নামেন্টের জোরে তাদেরকে এশিয়ার দ্বিতীয় সেরা দল বলে দেওয়া বোকামি। বরং এশিয়ান ক্রিকেটের শ্রেষ্ঠত্ব প্রমাণের লড়াইয়ে অন্যতম সফল দল শ্রীলঙ্কা।

এশিয়া কাপে ভারত ১১ বার ফাইনাল খেলে ৮বারই বাগিয়েছেন শিরোপা। চলতি আসরে তারাই শিরোপার অন্যতম দাবিদার। অন্যদিকে শ্রীলঙ্কা ১৪বার এশিয়া কাপের নানা ফরম্যাটের ফাইনাল খেলেছে। এর মধ্যে ছয়বার তারা শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছে। এমনকি টি-টোয়েণ্টি ফরম্যাটের সর্বশেষ আসরের চ্যাম্পিয়ন দল শ্রীলঙ্কা।

পাকিস্তানের সফলতার হার অন্তত শ্রীলঙ্কার ধারেকাছেও নেই। পাঁচবার ফাইনালের টিকিট কেটেছে পাকিস্তান। এর মধ্যে তারা তিনবার শিরোপা উঁচিয়ে ধরতে পেরেছে এশিয়ান শ্রেষ্ঠত্বের। এছাড়াও শ্রীলঙ্কা একবারের ওয়ানডে বিশ্বকাপ জয়ী দল। তাছাড়া তারা একবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ জয়ী দল।

অযথাই আফগানিস্তানকে দ্বিতীয় সেরা দলের তকমা দেওয়া অর্থহীন। তাতে বরং শ্রীলঙ্কার অর্জনকে খর্ব করা হয়। শ্রীলঙ্কার ক্রিকেট সংস্কৃতিকে অগ্রাহ্য করা হয়। যে দেশের প্রতিটা স্কুলের তৈরি হয় এক একজন কিংবদন্তি, সে দেশকে এড়িয়ে যাওয়া নির্বুদ্ধিতার সামিল।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link