ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার উদযাপনই বরং বলে দিচ্ছে, সাইফ হাসানের উইকেটটা ঠিক কতটা গুরুত্বপূর্ণ ছিল। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে সাইফ রীতিমত হয়ে উঠেছিলেন প্রতিপক্ষের গলার কাঁটা। দারুণ ব্যাটিংয়ে তিনি বাংলাদেশকে রেখেছিলেন জয়ের পথে। দৃঢ়তার সাথে আগ্রাসনের মিশেল ঘটিয়ে জয়ের সম্ভাবনাকে কখনোই স্তিমিত হতে দেননি ডানহাতি এই ব্যাটার।
সাইফ হাসান এশিয়া কাপে অন্তত বাংলাদেশের একাদশে প্রথম পছন্দের খেলোয়াড় ছিলেন না। তবে দলের প্রয়োজন ও পারভেজ হোসেন ইমনের অফফর্মের কারণে তিনি সুযোগ পেলেন। আফগানিস্তানের বিপক্ষে ম্যাচে অবশ্য ৩০ রানের একটা ইনিংস খেলেছিলেন। তবে বল হাতে ছিলেন একেবারেই নিষ্ফলা।
তবুও সুপার ফোরের গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ম্যাচে তাকে একাদশে সুযোগ দেওয়া হল। বোলিং না করলেও তাকে পাঠিয়ে দেওয়া হল ইনিংস উদ্বোধনের দায়িত্ব। নুয়ান থুসারা ও দুশমন্থ চামিরার ওই দাপটকে দমিয়ে দেওয়ার জন্যে ডান-বাম কম্বিনেশন করতে চেয়েছে টাইগারদের টিম ম্যানেজমেন্ট। সেই পরিকল্পনায় সাইফের উপর ভরসা রাখে দল।

সেই ভরসার প্রতিদান দিলেন তিনি দূর্দান্ত এক ইনিংস খেলেন। তার পেশির শক্তিতে বলকে আছড়ে ফেলেছেন গ্যালারির দ্বিতীয় তলায়। এমন চারখানা ছক্কা হাঁকিয়েছেন তিনি। এছাড়া আরও দুইটি বাউন্ডারি এসেছে তার ব্যাট থেকে। প্রায় ১৩৬ স্ট্রাইকরেটের ইনিংসে তিনি দলের পক্ষে ৬১টি ভীষণ প্রয়োজনীয় রান সংগ্রহ করেছেন।
তার দৃঢ়তায় ম্যাচ জয়ের স্বপ্ন প্রবল হয়েছে বাংলাদেশের। তার আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ে ১৬৯ রানের লক্ষ্যমাত্রা বাংলাদেশের পক্ষে তাড়া করা ভীষণ বাস্তবসম্মত হয়েছে। স্পিনারদের ভাল সামলাতে পারেন বলেই মিডল ওভারগুলোতে তার কাছ থেকে প্রত্যাশা খানিকটা বেশিই ছিল। সেই প্রত্যাশা পূরণ করতে পারলেন তিনি।
এমন আগ্রাসী ব্যাটিংয় ধারাবাহিকতা পেলে তার এশিয়া কাপে বাংলাদেশের সম্ভাবনার প্রদীপকে করে দিতে পারে আরও বেশি উজ্জ্বল। তাছাড়া পার্টটাইমার বোলার হিসেবে নেহায়েত মন্দও নন সাইফ। প্যাকেজ হিসেবে নিজেকে প্রমাণ করলেন। এখন এই পারফরমেন্সের ধারা দীর্ঘায়িত হওয়ার অপেক্ষা।












