বন্ধু তুমি, শত্রু তুমি

হাসি মাখা মুখে কিছু একটা বললেন লিটন দাস। মনে হয় বন্ধুকে একটু খেপানোর জন্যে বলছেন, 'কি রে হারিয়ে দিলাম তো।'

হাতটা জড়িয়ে ধরলেন, যেন বহুকালের সুদৃঢ় বন্ধত্ব। হাসি মাখা মুখে কিছু একটা বললেন লিটন দাস। মনে হয় তিনি বললেন, ‘আউট করার জন্যে তুমি আমাকেই পাও?’ সে কথা হেসে কুটিকুটি হওয়ার মত অবস্থা ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গার। এরপর দুইজনে বুক মেলালেন। মাঠের দ্বৈরথ ছাপিয়ে সৌহার্দ্যের এক অনন্য ছবি।

ঠিক এখানেই ক্রিকেট পায় ভদ্রলোকের খেলার তকমা। এখানেই বরং ক্রিকেটের আসল সৌন্দর্য। সকল সীমারেখার বাঁধন ছিঁড়ে একাকার হয়ে যায় দু’টো দেশ, দু’টো সংস্কৃতি। ক্রিকেট বনে যায় মিলনমেলার উপলক্ষ। যে কারণে শেষ দুই দেখায় যার বলে লিটন আউট হয়েছেন, তাকেও আলিঙ্গন করতে দ্বিধা নেই যেন তার।

তার খানিকক্ষণ আগেও তো দুই দলের মধ্যে হয়েছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। বাইশ গজে জয়ের জন্য কত কারিকুরি করলেন দুই দলের খেলোয়াড়রা। রোমাঞ্চর পারদ আকাশ ছুঁয়ে গেল শেষ ওভারে। স্নায়ুচাপের খেলায় বাইশ গজে মেজাজও হারিয়েছেন ওয়ানিন্দু হাসারাঙ্গা।

সাইফ হাসানকে আউট করে বুনো উল্লাসে ফেটে পড়েন। আবেগ ধরে রাখতে না পেরে কটু কথাও বলেছেন তিনি। সাইফ তো জবাব দিতে তেড়েও গেছেন লঙ্কান জটলার দিকে।

তবে সেই ঘটনার রেশ ম্যাচের শেষে হয়েছে নিঃশেষ। দুই দলের খেলোয়াড়রা হাত মেলালেন, কোন প্রকার জটিলতা ছাড়াই। আলিঙ্গন করলেন একে অন্যকে। বাইশ গজের লড়াইয়ে ঘটে যায় কতকিছু। সেসব যে ওই বৃত্তাকার বাউন্ডারির মধ্যেই সীমাবদ্ধ। সেটুকু সৌহার্দ্য অন্তত লিটনদের জানা, মানেন হাসারাঙ্গাও।

তাইতো বিদ্বেষ নয়। সৌহার্দ্যের বার্তাবাহক ক্রিকেট। স্রেফ লিটন-হাসারাঙ্গাদের মাঠের দ্বৈরথ ভুলে এগিয়ে আসতে হয় হাসিমুখে। তাহলেই হয়ত মিটে যায় সীমারেখার সকল কোলাহল। বন্ধুর মতই আগলে রাখতে হয় প্রতিপক্ষকেও। দিনশেষে তো সকলেই ক্রিকেটের ধারক ও বাহক।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link