ব্যাটেল অব ফ্লপ স্টারস। এশিয়া কাপের ফাইনালে উঠেছে ভারত ও পাকিস্তান। অথচ দুই দলের অধিনায়কের পারফরমেন্সের বেহাল দশা। সুরিয়াকুমার যাদব, সালমান আলি আঘা- দু’জনের নামের আদ্যক্ষরে মিল রয়েছে, মিল রয়েছে তাদের এশিয়া কাপের পারফরমেন্সেও।
অপ্রতিরোধ্য এক শক্তি হিসেবেই ফাইনালে নিজেদের অবস্থান পোক্ত করেছে ভারত। এমনকি শিরোপার অন্যতম দাবিদার টিম ইন্ডিয়া। দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার কাজে মুন্সিয়ানা দেখাচ্ছেন বটে সুরিয়া। কিন্তু পারফরম করতে যেন ভুলেই গেছেন ভারতের অধিনায়ক।
এখন পর্যন্ত সবগুলো ম্যাচেই তিনি মাঠে নেমেছেন। তবে ব্যাট করেননি একটি ইনিংসে। ওমানের বিপক্ষে গ্রুপ পর্বের ম্যাচে দলের বাকি ব্যাটারদের বাজিয়ে দেখতে চেয়েছিলেন সুরিয়া। সে কারণে আট উইকেট পতনের পরও তিনি বাইশ গজে আসেননি। এছাড়া পাঁচ ইনিংসে তার ব্যাট থেকে রান এসেছে সর্বসাকুল্যে ৭১টি।

এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৪৭ রান অপরাজিত ছিলেন তিনি পাকিস্তানের বিপক্ষে, গ্রুপ পর্বের ম্যাচে। এছাড়া বাকি ইনিংসগুলোতে ১৫ রানের গণ্ডিও পেরুতে পারেননি। সুপার ফোরে চিরপ্রতিদ্বন্দিদের বিপক্ষে শূন্যরানে আউট হওয়ার লজ্জাও আছে তার ঝুলিতে। তবে সবচেয়ে দৃষ্টিকটু বিষয় তার ব্যাটিং স্ট্রাইকরেট। স্রেফ ১০৭ এর একটু বেশি স্ট্রাইকরেট সুরিয়ার নামের তুলনায় বেমানান।
প্রায় একই দশা পাকিস্তানের অধিনায়ক সালমান আলি আঘারও। সুরিয়ার যদিও খুব বেশি সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়নি। তবে সালমানকে প্রায়শই গুরুদায়িত্বের মুখে পড়তে হয়েছে। তিনি সেই দায়িত্বে নিদারুণভাবে ব্যর্থ হয়েছেন। ছয় ইনিংসে ব্যাট করে স্রেফ ৬৪ রান যুক্ত হয়েছে তার নামের পাশে।
সুরিয়া তাও তো বল প্রতি রান নিতে পেরেছিলেন। কিন্তু সালমান যেন হাঁটছেন আদিকালের ওয়ানডে স্টাইলে। ৭৮.০৪ স্ট্রাইকরেটে রান তুলছেন সালমান, এবারের এশিয়া কাপে। সর্বোচ্চ ২০ রান তিনি সংগ্রহ করতে পেরেছিলেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে। এই যখন ফিরিস্তি দুই ফাইনালিস্ট অধিনায়কের, তখন শঙ্কা জাগে নিশ্চয়ই।

অধিনায়কের দায়িত্ব তো স্রেফ ফিল্ডার সাজানো কিংবা বোলিং পরিবর্তন নয়। তার নিজের পারফরমেন্সেও তো দলের বাকিদের উদ্বুদ্ধ করতে হয়। সে কাজটা আদোতে করতে পারছেন না সালমান কিংবা সুরিয়া। ফাইনালের মঞ্চে ঘটতে পারে যেকোন কিছু। সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার জন্যে অধিনায়করা কতটুকু দায়িত্ব নিজ নিজ কাঁধে নিতে পারবেন?
ব্যর্থতার শেষ অধ্যায়ে শিরোপা হাতছাড়ার ব্যর্থতা বরণ করবেন কোন অধিনায়ক- সেটা হয়ত সময়ই বলে দেবে। তবে সুরিয়া কিংবা সালমান কারোই যে সময় যাচ্ছে না ভাল- তা তো দিনের আলোর মতই স্পষ্ট।











