হুট করেই যেন বাংলাদেশের সব টেস্ট ব্যাটাররা নিজেদের খোলস পরিবর্তন করতে শুরু করেছেন। এই যেমন সাইফ হাসান, তাকে একটা সময় বিবেচনা করা হয়েছে টেস্ট ব্যাটার হিসেবে। সেই তিনিই কি-না দিব্যি ছক্কা হাঁকিয়ে যাচ্ছেন টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে। তেমনই আরেক উদাহরণ সৃষ্টি করতে চান মাহমুদুল হাসান জয়।
না জাতীয় দলে এসে ঝলক দেখাচ্ছেন না জয়, তার মঞ্চ এনসিএল টি-টোয়েন্টি। এবারের এনসিএল টি-টোয়েন্টিতে তিনি এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক। ২৯৪ রান রয়েছে তার নামের পাশে। এনসিএলে তার ব্যাট চলছে ১৬৫ এর বেশি স্ট্রাইকরেটে। একটি সেঞ্চুরিও হাঁকিয়ে ফেলেছেন তিনি।
যেকোন টি-টোয়েন্টিতে ১৬তম ব্যাটার হিসেবে মাহমুদুল হাসান জয় হাকিয়েছেন সেঞ্চুরি। এছাড়াও এবারের এনসিলে আরও দুইটি পঞ্চাশোর্ধ ইনিংস খেলেছেন ডানহাতি এই ব্যাটার। ছয় ইনিংসে তার ব্যাটিং গড় ৫৮.৮০। দূর্দান্ত সময় পার করছেন তিনি ব্যাট হাতে। এমনকি ছক্কা হাকনোতেও তিনি দেখাচ্ছেন মুন্সিয়ানা।

১৯টি চারের বিপরীতে জয়ের ব্যাট থেকে ছক্কা হয়েছে ২১টি। তার দল চট্টগ্রাম বিভাগকে টেবিল টপার বানানোর ক্ষেত্রে সামনে থেকেই নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন মাহমুদুল হাসান জয়। অথচ তার গায়েও লেপ্টে ছিল টেস্ট ব্যাটারের তকমা। সাইফের মত তিনিও যেন নেমে পড়েছেন নিজেকে ‘এক্সপ্লোর’ করতে।
এখন পর্যন্ত জাতীয় দলের হয়ে ১৮ টেস্ট ম্যাচ খেলেছেন। সেখানে একটি সেঞ্চুরি সহ চারটি ফিফটি এসেছে তার ব্যাট থেকে। তবে ধারাবাহিকতার অভাব সেখানে প্রকট। স্রেফ ২২.৭৯ গড়ে তিনি রান করেছেন সাদা পোশাকে। টেস্টের টেম্পারমেন্ট তিনি টি-টোয়েন্টিতে ব্যবহার করছেন বটে। তবে উদ্দেশ্য নিশ্চয়ই টেস্টকে দূরে ঠেলে দেওয়া নয়।
নিজের নতুন একটা সত্ত্বার বিকাশ ঘটিয়ে তিনি হয়ত আন্তর্জাতিক ক্রিকেট অঙ্গনে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করতে চান। তেমন ভাবনা থেকে এনসিএল টি-টোয়েন্টিকে বিকশিত হওয়ার মঞ্চে পরিণত করা বরং ভীষণ ইতিবাচক। সর্বক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে এই আগ্রাসন বজায় রাখাই এখন মাহমুদুল হাসান জয়ের মূল চ্যালেঞ্জ।












