ছন্দহীনতায় আব্দুল্লাহ শফিক — উত্থানের পর দ্রুত পতনের গল্প

পাকিস্তানের ওপেনার আব্দুল্লাহ শফিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের শুরুতেই ব্যাট হাতে ব্যর্থ। প্রথম ইনিংসে কাগিসো রাবাদার ইনসুইং ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ হয়ে মাত্র দুই রানেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি।

পাকিস্তানের ওপেনার আব্দুল্লাহ শফিক দক্ষিণ আফ্রিকার বিপক্ষে টেস্ট সিরিজের শুরুতেই ব্যাট হাতে ব্যর্থ। প্রথম ইনিংসে কাগিসো রাবাদার ইনসুইং ডেলিভারিতে এলবিডব্লিউ হয়ে মাত্র দুই রানেই প্যাভিলিয়নে ফেরেন তিনি।

ম্যাচের প্রথম ওভারেই এমন পরিণতি যেন তার দীর্ঘদিনের ব্যর্থতার ধারাবাহিকতা। একসময় যিনি পাকিস্তানের ভবিষ্যৎ ব্যাটিং ভরসা বলে পরিচিত ছিলেন, এখন সেই শফিককেই ঘিরে ভর করছে শঙ্কা — আদৌ কি তিনি আগের ছন্দে ফিরতে পারবেন?

অথচ, আব্দুল্লাহ শফিকের টেস্ট অভিষেক ছিল রূপকথার মত। নিখুঁত টেকনিক, মজবুত ডিফেন্স আর ট্র্যাডিশনাল শটের মাধ্যমে তিনি দ্রুতই জায়গা করে নেন পাকিস্তানের ব্যাটিং অর্ডারে। প্রথম তিন টেস্ট সিরিজে ১৩ ইনিংসে ৭৩৬ রান করে নজর কাড়েন। তখনই মনে হয়েছিল—পাকিস্তান হয়তো পেয়ে গেছে দীর্ঘমেয়াদি ওপেনিং সমাধান।

কিন্তু ২০২৪ সালের শুরু থেকে ছবিটা পুরো উল্টে গেছে। একের পর এক ব্যর্থতায় গড়িয়েছে টেস্ট ক্যারিয়ারের সবচেয়ে কঠিন সময়। ২০২৩ সালের শেষ পর্যন্ত যেখানে শফিকের ব্যাটিং গড় ছিল ৪৭.৫০, সেখানে ২০২৪ সাল থেকে তা নেমে এসেছে ভয়াবহ ১৪.৬৭–এ। এই সময়ে তিনি নয়বার এক অঙ্কে আউট হয়েছেন এবং চারবার শূন্য রানে ফিরেছেন।

প্রশ্ন হল, কোথায় ভুল হচ্ছে শফিকের? সাম্প্রতিক পরিসংখ্যানে স্পষ্ট—শফিক এখন বিশেষভাবে সমস্যায় ভুগছেন পেস বোলিংয়ের বিপক্ষে। আটবার তিনি আউট হয়েছেন পেসারদের বিপক্ষে। রান করেছেন ৯৩, গড় মাত্র ১১.৬।

পাকিস্তানের স্পিন-বান্ধব উইকেটেও তিনি কিছুটা টিকে যেতে পারছেন, কিন্তু ফাস্ট বোলিংয়ের বিপক্ষে একেবারে অসহায়। ২০২৪ সালে টেস্টে তাঁর ১২টি আউটের মধ্যে ৬টি এসেছে এলবিডব্লিউ বা বোল্ড হয়ে, যা স্পষ্ট করছে—ইনসুইং বল বা স্টাম্পের ভেতরের ডেলিভারির বিপরীতে তিনি একেবারেই দুর্বল হয়ে পড়েছেন।

বিশ্লেষকরা বলছেন, শফিকের সমস্যা তাঁর ফুট মুভমেন্টে। কিংবদন্তি নিউজিল্যান্ড ব্যাটার মার্টিন ক্রোর ভাষায়, একজন ব্যাটারের পেছনের পা-ই আসলে সামনে যাওয়ার কাজটি শুরু করে। পেছনের পায়ের ভারসাম্য হারালে সামনে গিয়েও বলের লাইনে পৌঁছানো যায় না। শফিকের ব্যাটিংয়ে দেখা যাচ্ছে সেই ত্রুটিই—পেছনের পা স্থির থাকায় তাঁর সামনের পা অর্ধেক পথেই থেমে যাচ্ছে। ফলে ব্যাট ও প্যাডের ফাঁকে তৈরি হচ্ছে বড় গ্যাপ, যেটাকে টার্গেট করছে প্রতিপক্ষ পেসাররা।

বর্তমান ক্রিকেট যুগে প্রতিটি দলেই থাকে ভিডিও বিশ্লেষক, হাই-স্পিড ক্যামেরা ও ডেটা বিশেষজ্ঞ—যারা প্রতিপক্ষের দুর্বলতা ধরতে সময় নেয় না। এমন পরিস্থিতিতে শফিকের মতো টেকনিক্যাল ত্রুটিপূর্ণ ব্যাটারের টেস্টে টিকে থাকা কঠিন হয়ে পড়বে। পাকিস্তান দলে ওপেনিং পজিশনের প্রতিযোগিতা যেভাবে বাড়ছে, তাতে তাঁর সামনে সময় খুবই সীমিত।

কখনও যিনি ছিলেন পাকিস্তানের ব্যাটিংয়ের ভবিষ্যৎ, আজ তাঁকেই নিজের জায়গা রক্ষার জন্য লড়াই করতে হচ্ছে। এখন দেখা যাক, আব্দুল্লাহ শফিক কি পারেন আবার সেই পুরনো রূপে ফিরতে—নাকি এই টেস্ট ধসই হয়ে উঠবে তাঁর ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট।

লেখক পরিচিতি

সম্পাদক

Share via
Copy link