ক্রিকেট মাঠে সংসার সুখের হয় অধিনায়কের গুণে। আর সেই অধিনায়কই যদি হন গলার কাটা, তাহলে দলের সংসারটা কখনও সুখের হয় না। বারবার তীরে এসে তরী ডুবে যায়। যেমন হল বাংলাদেশের ক্ষেত্রে, আবারও যথারীতি কাঠগড়ায় উঠলেন ওয়ানডের নেতা মেহেদী হাসান মিরাজ।
উইকেট যতই মন্থর আর স্পিন নির্ভর হোক না কেন, ওয়ানডেতে ২১৩ রান বড় কোনো পুঁজি নয়। সেখানে ম্যাচের পুরোটা সময় প্রতিপক্ষকে চাপে রাখতে হবে। মেহেদী হাসান মিরাজ করেছেন উল্টোটা, যখনই একটা করে উইকেট গেছে, তিনি একটু একটু করে চাপ কমিয়ে দিয়েছেন প্রতিপক্ষের ওপর থেকে।
কোন ওভারটা কাকে দেবেন, কোন বোলারের বলে কোন ফিল্ডার কোথায় থাকবেন—সব পরিকল্পনা নিয়েই নামতে হয় মাঠে, ম্যাচের আগেই সেসব প্রস্তুতি সাজিয়ে নিতে হয়। মানে, কবে কাকে বল করাবেন—এই হিসাবটা একদম পরিষ্কার থাকতে হবে অধিনায়কের মাথায়।

আর মিরপুরের উইকেট মুস্তাফিজুর রহমানের জন্য টেইলর মেইড উইকেট। সেখানে বাঁ-হাতি এই পেসারের দুইটা ওভার করানোই গেল না। মিরপুরের উইকেট, যেখানে বল স্লো হচ্ছে, থেমে যাচ্ছে সেখানে মুস্তাফিজের বোলিংয়ের হিসাব রাখতা না পারা রীতিমত অপরাধ।
বোলিংয়ের ৫০ ওভারের এমনভাবে গুলিয়ে ফেললেন যে, শেষ ওভারে বল তুলে দিতে হলো সাইফ হাসানের হাতে! কারণ, আগেভাগে হিসাব মেলাতে পারেননি। সেটাও আবার প্রতিপক্ষের ওপর থেকে চাপ কমাতে গিয়ে। কিংবা বলা ভাল নিজে উইকেট পেতে গিয়ে।
১৪ তম ওভারে রিশাদ হোসেন প্রথম আঘাত হানেন। এরপর ১৭ তম ওভারে বোলিং চেঞ্জে চাইলেই মুস্তাফিজকে আনা যেত, সেটা না করে অধিনায়ক নিজে আসলেন বোলিং করতে। ২৩ তম ওভারের শেষ বলে আবার রিশাদের উইকেট। এরপরও চেঞ্জ বোলার হিসেবে ২৫ তম ওভারে আবির্ভাব মিরাজের। ২৭ তম ওভারে তানভির আহমেদ উইকেট পাওয়ার পরেই আসলেন আবার সাইফ হাসান, প্রতিপক্ষের ওপর থেকে আবারও চাপ উড়ে গেল।

এসব করতে গিয়ে যখন ১০ ওভার বাকি, তখন দেখা গেল মুস্তাফিজের মাত্র চারটা ওভার হয়েছে। মিরাজ সেখানেও ক্ষান্ত দেননি। এক ওভার মুস্তাফিজকে করিয়ে তিনি পরপর দুই ওভার করালেন রিশাদ আর তানভিরকে দিয়ে। ৪৫ ও ৪৬ তম ওভারে তিনি তানভিরকে আনেন আক্রমণে, একটা ওভার নিজে করেন।
ফলে, চার ওভার যখন বাকি ওয়েস্ট ইন্ডিজের, তখন খোদ মুস্তাফিজেরও চারটি ওভার বাকি। এবার হিসাবে জট লেগেছে, বাধ্য হয়ে শেষ ওভারে তাই ভরসা সাইফ হাসান। সাইফ সেখানে সর্বোচ্চ চেষ্টাই করলেন। পাঁচ রান প্রায় ডিফেন্ড করেই ফেলেছিলেন, কিন্তু শেষ রক্ষা হল না।










