ঘুরে ফিরে জাকের আলীর পরিবর্তে সাব্বির রহমানের নাম আসছে সামনে। কিন্তু সাব্বিরকে যদি খেলাতেই হয় সেক্ষেত্রে তাওহীদ হৃদয়ের পরিবর্তে তাকে একাদশে সুযোগ দেওয়া যেতে পারে, অন্তত টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটে। কেননা জাকেরদের ব্যর্থতার মাঝে আড়াল হয়ে যাচ্ছে তাওহীদ হৃদয়ের অফফর্ম।
চলতি বছরে টি-টোয়েন্টিতে তাওহীদ হৃদয়ের সময়টা কাটছে ভীষণ বাজে। চার নম্বরে ব্যাট করতে নামেন তিনি। যেকোন ক্রিকেটে এই ব্যাটিং পজিশনটা বেশ গুরুত্বপূর্ণ। সেই পজিশনে নেমে বেশ ধীরলয়ে ব্যাটিং করে গেছেন তিনি এই পুরো বছরজুড়ে। স্রেফ ১১২.২৫ স্ট্রাইকরেটে চলেছে হৃদয়ের ব্যাট।
এই সময়ে তিনি ১৯টি ইনিংস খেলেছেন। মাত্র ২৩.১৭ গড়ে রান করেছেন। ভঙ্গুর মিডল অর্ডারে তিনি সর্বাধিক রান আদায় করেছেন, এ কথা সত্য। কিন্তু তিনিই বরং বাকিদের ব্যর্থ হওয়ার পেছনের প্রভাবক বনে গেছেন অধিকাংশ সময়ে। তার ধীরলয়ের ব্যাটিং বাকিদের উপর চাপ সৃষ্টি করেছে। দ্রুত রান তোলার প্রয়োজনীয়তা বাকিদের স্বভাবজাত খেলাতে নেতিবাচক প্রভাব বিস্তার করেছে।

এক্ষেত্রে হৃদয়ের পরিবর্তে এই মুহূর্তে সমাধান হতে পারেন সাব্বির রহমান। যদিও চার নম্বর পজিশনে সাব্বির আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ম্যাচ খেলেননি একটিও। বরং তিন নম্বর পজিশনে তিনি খেলেছেন ২৭ ম্যাচ। যেখানে তার স্ট্রাইকরেট ছিল ১২৮.১৪। ৩১.৪৭ গড়টাও তার পক্ষেই কথা বলছে।
আর তাছাড়া ব্যাটিং স্কিলের দিক থেকে, সাব্বির বেশ সলিডও বলা চলে। তাকে একটা সুযোগ দেওয়ার কথা অন্তত ভাবতেই পারে বাংলাদেশের ক্রিকেট দলের নির্বাচকরা। তবে সাব্বিরও ফেল করলে তখন? এমন প্রশ্নের উত্তর হিসেবে তরুণ একজন ব্যাটারকে তৈরি করতে হবে সমান্তরালভাবে।
সেদিক বিবেচনায় তরুণ আরিফুল ইসলাম হতে পারেন দারুণ পছন্দ। সম্ভাবনা আছে, আছে প্রতিভাও। বয়সভিত্তিক থেকে ঘরোয়া ক্রিকেটে, সর্বত্রই ধারাবাহিকভাবে রান করে যাচ্ছেন তিনি। তাকে টি-টোয়েন্টির বিবেচনায় নিয়ে আসার আগে বরং প্রস্তুত করতে হবে। সেক্ষেত্রে একটু বাড়তি পরিচর্যা করতে হবে তার। কেবল তবেই তিনি হতে পারবেন ফলপ্রসূ সমাধান।

এর আগের তাওহীদ হৃদয়কে বিশ্রামে পাঠানো প্রয়োজন। অন্তত টি-টোয়েন্টি ক্রিকেট থেকে হৃদয়কে একটু ছাড় দেওয়া উচিত। তাতে করে টেস্ট ও ওয়ানডেতে হৃদয় হতে পারেন আরও বেশি কার্যকর। বাস্তবতা হচ্ছে, সমাতালে তিন ফরম্যাটে পারফরম করা কঠিন কাজ। আর ফর্মহীন সময়ে তা পরিণত হয় অগ্নিপরীক্ষায়। তাতে মানসিক পীড়া বাড়ে, কাজের কাজ হয়না কিছুই।











