দুই ওভার, বলের ব্যবধান দশ। এ সময়ের মধ্যে ইংল্যান্ডের মিডল অর্ডার ধসিয়ে দিলের স্কট বোল্যান্ড। মুহূর্তের মধ্যে ইংল্যান্ডের গ্রিপ থেকে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ফসকে যায়। টাগ অব ওয়ারে আবারও ফেরে সমতা। মুহূর্তের মধ্যে অ্যাশেজে আবারও ফেরে উন্মাদনা।
অ্যাশেজে যে পেসারদের ব্যাটেল হতে চলেছে- সে অনুমান তো প্রথম দিনেই মিলেছিল। কিন্তু পার্থ টেস্টের প্রথম দিনে স্কট বোল্যান্ড ছিলেন একেবারে নিষ্ফলা। দশ ওভার বল করে একটিও উইকেট শিকার করতে পারেননি বোল্যান্ড। অবশ্য মিচেল স্টার্কের অতিমানবীয় পারফরমেন্সের পর আর বিশেষ প্রয়োজনও অবশ্য পড়েনি।
কিন্তু দ্বিতীয় দিনে ইংল্যান্ডের লিড যখন ক্রমশ বর্ধমান, ঠিক সেই মুহূর্তে তাদেরকে থামানো প্রয়োজন ছিল। কেননা এই উইকেটে যে অস্ট্রেলিয়ার রান তাড়া করে জেতা প্রায় অসম্ভব হয়ে দাঁড়াবে যদি, ২৫০ রানের গণ্ডি ছাড়ায়। এমন মুহূর্তে ত্রাতা হয়ে হাজির হলেন স্কট বোল্যান্ড।

ইনিংসের ১৬.২ ওভারে তিনি বেন ডাকেটকে প্যাভিলিয়নে পাঠান। সেই ওভার শেষে আবার তিনি ফেরেন ১৯ তম ওভারে। সেই ওভারের তৃতীয় বলে তার শিকার অলি পোপ। ওই একই ওভারে তিনি সাজঘরে পাঠিয়েছেন হ্যারি ব্রুককেও। চোখের পলকে এক উইকেটে ৬৫ রান থেকে ৭৬ রানে চার উইকেট পরিণত হয় ইংল্যান্ডের স্কোরকার্ড।
ওই ধাক্কায় ইংলিশদের মানসিকতা আবার নড়বড়ে হয়ে যায়। তাতে করে ৭৬ রানের মাথায় পঞ্চম উইকেটে পরিণত হন জো রুট। এই ইনিংসেও তিনি ফেরেন শূন্যরানে। তাকে আবারও আউট করেন মিচেল স্টার্ক। একই টেস্টে দুইবার স্টার্কের উইকেটে পরিণত হয়েছেন জো রুট।
তবে বোল্যান্ডের স্বরুপে ফেরা, অন্তত ইংলিশদের লাগামহীন রানমেশিনে পরিণত হতে দেয়নি। তাতে করে পার্থ টেস্ট জমে হয়েছে ক্ষীর।মর্যাদার অ্যাশেজে বোলারদের এই দাপটা ভীষণ উপভোগ্যও বটে। গোটা ক্রিকেটটাই তো পরিণত হয়েছে ব্যাটারদের রঙ্গমঞ্চে। সেখানে জাত পেসারদের এমন দুর্ধর্ষ বোলিং যেন বাঁচিয়ে রেখেছে ক্রিকেটের সমস্ত আনন্দকে। আর পেসারদের ভয়ে ২০৫ রানের টার্গেটও অজিদের দিচ্ছে না বিন্দুমাত্র স্বস্তি।












