নভেম্বর এলেই হেডের যেন কি হয়!

নভেম্বর এলেই যেন ট্রাভিসের হেডের কিছু একটা হয়। অতিমানবীয় পারফরমেন্সে তিনি অসাধ্য সাধনের মিশনে নেমে পড়েন।

নভেম্বর এলেই যেন ট্রাভিসের হেডের কিছু একটা হয়। অতিমানবীয় পারফরমেন্সে তিনি অসাধ্য সাধনের মিশনে নেমে পড়েন। ২০২৩ ওয়ানডে বিশ্বকাপের ফাইনাল নিশ্চয়ই মনে আছে। একা হাতেই তো ভারতের বুকে নিস্তবদ্ধতার ভয়াবহতা ছড়িয়ে দিয়েছিলেন। সেই ট্রাভিস হেড এবার অ্যাশেজেও লিখলেন অজিদের জয়রথ।

অসম্ভবকে সম্ভব করাই যেন ট্রাভিস হেডের কাজ। তিনি হয়ত মুখে কিছুই বলেন না। কিন্তু ঠিকই প্রয়োজনের মুহূর্তে তার ব্যাট বেশ জোরালভাবে শোনায় তার জয়গান। পার্থ টেস্টে ইংল্যান্ডের দেওয়ার ২০৫ রানের টার্গেট অস্ট্রেলিয়ার জন্য প্রায় অসাধ্য সাধনই ঠেকছিল। যে টেস্টের দ্বিতীয় দিনেই মাঠে গড়ায় চতুর্থ ইনিংসে, সে টেস্টে বোলারদের ভয়াবহতা নিশ্চয়ই বোধগম্য।

পার্থ টেস্টের প্রথম দিনে পতন ঘটেছিল ১৯ উইকেট। দ্বিতীয় দিনে দুই সেশনের মধ্যেই আবার সাজঘরে গোটা ইংলিশ শিবির। পেসারদের রক্তচক্ষু আর গতির আগ্রাসনের সামনে ব্যাটাররা হয়ে পড়েছিলেন অসহায়। কিন্তু অদম্য দৃঢ়তার ট্রাভিস হেড বনে গেলেন দৈত্য-দানব। একাই শাসন করলেন ইংরেজ পেসারদের সমস্ত আগ্রাসন।

অস্ট্রেলিয়ার টেস্ট ক্রিকেটের ইতিহাসে, তৃতীয় দ্রুততম সেঞ্চুরি তুলে নিয়েছেন ট্রাভিস হেড। মাত্র ৬৯ বলের আক্রমণাত্মক ব্যাটিংয়ের তিনি জয়ের সমীকরণ করেছেন পানির মত সরল। টেস্টের দ্বিতীয় দিনেই তিনি দলকে এনে দিলেন ফলাফল। স্রেফ ৮৩ বলে ১২৩ রানের অনবদ্য, অকল্পনীয় এক ইনিংস খেলে গেছেন ট্রাভিস হেড।

আউট হওয়ার সময় তিনি রীতিমত উদযাপন করে গেছেন। মার্নাস লাবুশেনকে জড়িয়ে ধরে, প্রায় পঞ্চাশ হাজার দর্শকদের সামনে হাসতে হাসতে মাঠ ছেড়েছেন ট্রাভিস হেড। পুরো স্টেডিয়াম দুই পায়ে দাঁড়িয়ে অভিবাদন জানিয়েছে তাকে। দূর্দান্ত এক ইনিংস খেলে তিনি যখন আউট হয়েছেন তখন অস্ট্রেলিয়া দাঁড়িয়ে ১৯২ রানে।

জয় ছিল এক হাত দূরত্বে। ম্যাচটা শেষ করে আসতে পারলে হয়ত তিনি আরও খানিকটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলতেন। তবে তার পালটা আক্রমণের সিদ্ধান্ত ফলাফল হয়ে ধরা দেওয়ায় গোটা অস্ট্রেলিয়া অন্তত আনন্দিত। অ্যাশেজের শুরুতেই দাপট দেখানো জয়ে গোটা দলই হয়েছে ভীষণ উজ্জীবিত।

Share via
Copy link