দীর্ঘ এক যুগ পর অনুষ্ঠিত হয়েছে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের নিলাম। সর্বোচ্চ পারিশ্রমিক বাগিয়ে নিয়েছেন নাঈম শেখ। বিদেশি খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে বেশ কিছু সীমাবদ্ধতা থাকায়, নিলামে মূলত চড়া দামে বিক্রি হয়েছে বাংলাদেশি খেলোয়াড়রাই। চলুন দেখে নেওয়া যাক, কে কত পারিশ্রমিকে কোন দলের অংশ হলেন।
- নাঈম শেখ (১ কোটি ১০ লাখ) চট্টগ্রাম রয়্যালস
নাঈম শেখের জন্য দামটা হবে আকাশচুম্বী সেটা রীতিমত অনুমিতই ছিল। কেননা গেল আসরের সর্বোচ্চ রান সংগ্রাহক ছিলেন তিনি। ৫১১ রান সংগ্রহ করেছিলেন তিনি ১৪৩.৯৪ স্ট্রাইকরেটে। বেশ প্রশংসনীয় পারফরমেন্স। তাছাড়া ঘরোয়া ক্রিকেটে ধারাবাহিকভাবে পারফরম করে যাওয়া এই ওপেনারকে যেকোন দলই নিজেদের ডেরায় ভেরাতে চাইবে, সেটাই তো স্বাভাবিক।

সিলেট টাইটান্স, নোয়াখালী এক্সপ্রেসকে পেছনে ফেলে চট্টগ্রাম রয়্যালস সর্বোচ্চ দর হাঁকায় নাঈমের জন্য। দিনের প্রথম খেলোয়াড় হিসেবে ১ কোটি ১০ লাখ টাকায় বিক্রি হন নাঈম। আর দিনশেষে দেখা গেছে সেটাই ছিল এবারের বিপিএলের সর্বোচ্চ দর। এক কোটি টাকার গণ্ডি পেরিয়ে আর কোন খেলোয়াড়ের জন্যই বিড করেনি কোন ফ্রাঞ্চাইজি।
- তাওহীদ হৃদয় (৯২ লাখ) রংপুর রাইডার্স
যদিও সাম্প্রতিক সময়ে সেই অর্থে ফর্মে নেই তাওহীদ হৃদয়। উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে কাটছে তার সময়। তবুও বিপিএল নিলামে বেশ চড়া দামেই বিক্রি হয়েছেন তরুণ এই মিডল অর্ডার ব্যাটার। তাকে নেওয়ার জন্য রংপুর রাইডার্স আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়েছে। শেষ অবধি সফলও হয়েছে তারা।

সিলেট টাইটান্স, রাজশাহী ওয়ারিয়ার্স, ঢাকা ক্যাপিটালস- তিন ফ্রাঞ্চাইজিকে পেছনে ফেলে হৃদয়কে নিজেদের করে নিয়ে রংপুর। নিলামে সর্বপ্রথম হৃদয়ের জন্য, এতগুলো ফ্রাঞ্চাইজি আগ্রহ প্রকাশ করেছিল। তার পেছনের কারণ, বিপিএলে হৃদয়ের ধারাবাহিক ভাল পারফরমেন্স। গত তিন আসর ধরেই ব্যাট হাতে ৩০০ ছাড়ানো রান এসেছে হৃদয়ের ব্যাট থেকে। সবচেয়ে সফল ছিলেন তিনি ২০২৪ সালের বিপিএলে, সেবার রান নিয়েছিলেন ৪৬২, স্ট্রাইকরেট ছিল ১৪৯.৫১।
- লিটন কুমার দাস (৭০ লাখ) রংপুর রাইডার্স
বেশ সস্তায় লিটন কুমার দাসকে ক্রয় করেছে রংপুর রাইডার্স। গোটা ফ্রাঞ্চাইজিও তাতে বিস্মিত। রংপুরের নিয়মিত অধিনায়ক নুরুল হাসান সোহান তো বলেই বসেছেন এত কমে লিটনকে তারা পাবেন সেটা মোটেও ছিল না প্রত্যাশিত। অবশ্য লিটনের জন্য খুব বেশি ফ্রাঞ্চাইজি আগ্রহও প্রকাশ করেনি।

রংপুর রাইডার্সের লড়াইটা মূলত চলেছে সিলেট টাইটান্সের সাথে। এই দুই দলের মধ্যে কিছুক্ষণ দর হাঁকানোর লড়াই হয়। তবে সেটা দীর্ঘায়িত হয়নি। সকলের ধারণা ছিল বেশ চড়া মূল্য পাবেন লিটন। বাংলাদেশ টি-টোয়েন্টি দলের অধিনায়ক ও দুর্ধর্ষ ব্যাটার, সেই সাথে চলমান ফর্মও মন্দ নয়। সে বিচারে লিটনের পারিশ্রমিক নিঃসন্দেহে প্রত্যাশমাফিক হয়নি।
- মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন (৬৮ লাখ) ঢাকা ক্যাপিটালস
পেস বোলিং অলরাউন্ডার মোহাম্মদ সাইফউদ্দিন। এই তকমা তার গায়ে লেপ্টে আছে একেবারে শুরু থেকেই। তবে বল হাতে তিনি যতটা না কার্যকর, ব্যাট হাতে তার থেকেও বিধ্বংসী হওয়ার সক্ষমতা রাখেন সাইফউদ্দিন। ফ্রাঞ্চাইজি ক্রিকেটে অলরাউন্ডারদের কদর সবসময়ই একটু বেশি, কেননা একই দরে ব্যাটিং-বোলিং প্যাকেজ মেলে।

সে কারণেই নোয়াখালী এক্সপ্রেস সবার প্রথমে দর হাঁকায় সাইফউদ্দিনের জন্য। তাদের সাথে নিলামের লড়াইয়ে নেমে পড়ে ঢাকা ক্যাপিটালস। এই দুইজনের মধ্যে মোটামুটি ১১ বার দর হাঁকানোর স্নায়ুযুদ্ধ চলে। শেষ অবধি নোয়াখালী আর আগ্রহ প্রকাশ না করায়, ঢাকা ক্যাপিটালস বনে গেছে সাইফউদ্দিনের নতুন ঘর।
- তানজিম হাসান সাকিব (৬৫ লাখ) রাজশাহী ওয়ারিয়ার্স
বাংলাদেশ জাতীয় দলের তরুণ আগ্রাসী পেসার তানজিম হাসান সাকিব। বল হাতে উইকেট শিকারি, ব্যাট হাতেও লোয়ার মিডল অর্ডারে তিনি বনে যেতে পারেন কাণ্ডারি। এমন একজন ইউটিলিটি ক্রিকেটারের চাহিদা যেকোন ফ্রাঞ্চাইজি লিগেই থাকে। ব্যতিক্রম ঘটেনি বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগেও।

সিলেট টাইটান্স, নোয়াখালী এক্সপ্রেস, রংপুর রাইডার্স ও রাজশাহী ওয়ারিয়ার্স এই চার দল তানজিম হাসান সাকিবকে নিজ নিজ দলে নিতে আগ্রহ প্রকাশ করে। রংপুর রাইডার্স নিজেদের নিজেদের কোটা পূরণ করে ফেলায়, তারা আর দর হাঁকাতে পারেনি। সিলেট, নোয়াখালীর সাথে লড়াই শেষে ৬৫ লাখ টাকায় সাকিবের ঠিকানা হয় রাজশাহী।











