‘গেম চেঞ্জার’ মেহেদীর হাতেই তো সিরিজ সেরার পুরষ্কার মানায়!

মেহেদীর প্রত্যাবর্তনেই তো সিরিজের দৃশ্যপটেও আসে পরিবর্তন। সুতরাং, তিনি স্রেফ লাকি চার্ম নন, গেম চেঞ্জারও।

প্রথম ম্যাচ পরাজয়ের পরও আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে সিরিজ জিতেছে বাংলাদেশ দল। আর সেই সিরিজে সিরিজ সেরার পুরষ্কার উঠেছে শেখ মেহেদীর হাতে। কেননা তিনিই তো ছিলেন মূলত গেম চেঞ্জার। মেহেদী একাদশে ফেরার পরই সিরিজে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ম্যাচে বাংলাদেশ তুলে নিয়েছে জয়। আর স্বভাবতই বল হাতে দূর্দান্ত ছিলেন শেখ মেহেদী হাসান।

প্রথম ম্যাচের একাদশে ছিলেন না শেখ মেহেদী। সেই ম্যাচে আয়ারল্যান্ড প্রথমে ব্যাট করে স্কোরবোর্ডে তোলে ১৮১ রান। মনস্তাত্ত্বিক একটা চাপে পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশের ব্যাটাররা। যথারীতি টপ অর্ডার ফেল করায়, মিডল অর্ডার থেকে আসেনি প্রতিরোধ। এক তাওহীদ হৃদয় ছাড়া বাকিদের ব্যর্থতায় ৩৯ রানের ব্যবধানে ম্যাচ হারে বাংলাদেশ।

এরপর দ্বিতীয় ম্যাচে একাদশে প্রত্যাবর্তন ঘটে শেখ মেহেদীর। বল হাতে ২৫ রানের বিনিময়ে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট বাগিয়ে নেন, ডানহাতি এই অফস্পিনার। দুই টেক্টর ভ্রাতৃদ্বয়, হ্যারি টেক্টর ও টিম টেক্টর দুইজনকেই নিজের উইকেটে পরিণত করেন তিনি। এছাড়াও বেন ক্যালিটজকে আউট করে আইরিশদের ব্যাটিং অর্ডারে প্রবল ধাক্কা দেন শেখ মেহেদী।

তার নিয়ন্ত্রিত বোলিংয়ের কারণেই ২০০ রানের কাছাকাছি পৌঁছাতে পারেনি সফরকারীরা। ১৭০ রানে থেমেছে তাদের সংগ্রহ। দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলে বাউন্সব্যাক করা ছাড়া উপায় থাকেনা। শেখ মেহেদীদের কল্যাণে পাওয়া মোটামুটি লক্ষ্যমাত্রাকে বাংলাদেশী ব্যাটাররা বেশ দৃঢ়তার সাথে উৎরে গেলে সিরিজ ফেরে ১-১ সমতায়।

নিয়ন্ত্রিত ও মিতব্যায়ী বোলিংয়ে বরাবরই সেরা শেখ মেহেদী। সিরিজের তৃতীয় ম্যাচে সে ধারা অব্যাহত রাখলেন। ২৪ রানের বিনিময়ে এক উইকেট তুলে নিলেন। এদিন বাংলাদেশের বোলিং ডিপার্টমেন্ট ছিল আরও বেশি দুর্ধর্ষ। স্রেফ ১১৭ রানেই গুটিয়ে যায় পল স্টার্লিংয়ের দল। এরপর আর জয় তুলে নিতে খুব একটা অসুবিধা হয়নি বাংলাদেশি ব্যাটারদের।

এই পুরো সিরিজে নিদেনপক্ষে আট ওভার বোলিং করা বোলারদের মধ্যে সর্বনিম্ন ইকোনমি রেট ছিল শেখ মেহেদীর, ৬.১২। এছাড়াও যৌথভাবে তিনি হয়েছেন সিরিজের সর্বোচ্চ উইকেট শিকারি। তাছাড়া তার প্রত্যাবর্তনেই তো সিরিজের দৃশ্যপটেও আসে পরিবর্তন। সুতরাং, তিনি স্রেফ লাকি চার্ম নন, গেম চেঞ্জারও। সে কারণেই তো সিরিজ সেরার পুরষ্কার উঠেছে তার হাতে।

লেখক পরিচিতি

রাকিব হোসেন রুম্মান

কর্পোরেট কেরানি না হয়ে, সৃষ্টি সুখের উল্লাসে ভাসতে চেয়েছিলাম..

Share via
Copy link