যত পুরনো হচ্ছেন ততই নেশা বাড়ছে। রাজ্য জয়ের নেশা কঠিন নেশা, সেই নেশায় পেয়ে বসেছে মহারাজা বিরাট কোহলিকে। ক্যারিয়ারের শেষ বেলায় যেন তাঁকে সৃষ্টি সুখের উল্লাসে পেয়ে বসেছে। যেন ২০১০-১১ সালের শচীন টেন্ডুলকার আরও ফিট হয়ে, আরও আগ্রাসী হয়ে ফিরে এসেছেন।
কিন্তু, শচীনের চেয়ে বিরাট কোহলি তো অন্তত ওয়ানডে ক্রিকেটে আরও বড় ব্যাপার। রানের দিক থেকে, কিংবা সেঞ্চুরির দিক থেকে, অথবা প্রভাবের দিক থেকে বিরাট কোহলির চেয়ে বড় মানের কোনো ব্যাটার ওয়ানডে ক্রিকেটে আগে পরে আর কেউ আসেনি।
রায়পুরে আরও একবার সেই ঝলক দেখা গেল। আগের রাতেই জানিয়ে দিলেন, বোর্ডের নির্দেশে ঘরোয়া ক্রিকেট খেলতে তিনি প্রস্তুত। সেটা নতি স্বীকার নয়, সেটা আসলে বড় ঝড়ের আগমণী বার্তা। যে ঝড় বয়ে গেল প্রোটিয়া শিবিরে। আগুণে পুড়ে ছাই হল দক্ষিণ আফ্রিকা দল।

কোহলি টানা দুই ম্যাচে সেঞ্চুরি পেলেন ওডিআইতে এটি তাঁর ৫৩ তম সেঞ্চুরি! রাঁচিতে দারুণ সেঞ্চুরিটা যেখানে শেষ হয়েছিল, ঠিক সেখান থেকেই ব্যাটিং শুরু করলেন। ইনিংসের প্রথম রানই পেলেন এক চমৎকার পুল শটে, বল উড়ে গেল সীমানার বাইরে। এরপর পুরো ইনিংসজুড়ে ছিল নিয়ন্ত্রিত, পরিণত ব্যাটিং—একেবারে খাঁটি ‘কোহলি-স্টাইল’। জাস্ট কোহলি থিঙস।
ফুল–লেংথ বলটাকে লং–অনে ঠেলে সিঙ্গেল নিয়েই পৌঁছালেন শতকের কোঠায়। রান সম্পূর্ণ হতেই লাফ দিয়ে মুষ্টিবদ্ধ হাত উঁচু করলেন উল্লাস। সৃষ্টি সুখের উল্লাস দু’হাত ছড়িয়ে দাঁড়ালেন, তারপর খুলে ফেললেন হেলমেট। চোখ তুললেন আকাশের দিকে। লোকেশ রাহুল এসে জড়িয়ে ধরলেন তাকে। চারদিকে তখন একটাই ধ্বনি— কোহলি! কোহলি! যেন মহারাজ আরেকটা রাজ্য জয় করে ফিরেছেন সদ্যই।
৯৩ বলে ১০২ রানের আরেকটি স্মরণীয় ইনিংস খেলে ফিরলেন সাজঘরে। সাতটি চার আর দু’টি ছক্কায় সাজানো ইনিংস। ভারত অনেক গ্রেট ক্রিকেটার পৃথিবীকে উপহার দিয়েছে, কিন্তু বিরাট কোহলির মতো উচ্চাকাঙ্ক্ষী তাঁদের মধ্যে আর কেউ ছিলেন না। শুধু ক্রিকেটারদের নয়, বিশ্বের সেরা অ্যাথলেটদের সারিতেও তাঁকে আলাদা করে রাখা হয় বারবার

তিনি আজও প্রতিপক্ষের বুকে ভয় ধরাতে জানেন, তরুণদের সাথে পাল্লা দিয়ে জিততে জানেন, একেকটা রান নেওয়ার প্রচেষ্টা তাঁকে আলাদা করে, তিনি অন্য ধাঁতুতে গড়া। যে ধাঁতুর অস্তিত্ব এই পৃথিবী নামক গোলকবৃত্তে নেই।
কোহলি নিজেকে বানিয়ে তুলেছেন এক অন্তহীন স্রোত—যে স্রোত বয়ে যায় রানের সোনালি প্রান্তরে, যেন কবিতার ভেতর লুকানো এক অনিবার্য সত্য। যিনি ব্যাট তোলেন রান করতে, আর তাঁর রান করাটাই তো এক রাজার রাজপাট।










