চোয়ালজুড়ে বয়সের ছাপ। চোখেমুখে ক্লান্তি। তবুও নেই স্বস্তি। প্রস্তুত হতে হবে বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের জন্য। তাইতো মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সংগ্রাম চলমান। নিজের ফিটনেস ফিরে পাওয়ার লড়াইটা তিনি করে যাচ্ছেন। সঙ্গী হয়েছে মিরপুর একাডেমি মাঠের লাল রঙা বালি।
এই তো ক’দিন আগের কথা। হাসপাতালের বিছানায় মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ শুয়ে আছেন। বিমর্ষ এক চিত্র। দীর্ঘকাল মাঠ-ঘাট দাপিয়ে বেড়ানো মধ্য বয়স্ক রিয়াদের শরীরে ক্লান্তির সাথে, রোগ-বালাইও ঘর বেধেছে নিশ্চয়ই। তবে গুরুতর কিছু না হলেও, জ্বরও আজকাল তাই কাবু করে ফেলে। ছয়ফুট উচ্চতার শরীর তো আর কম ধকল সহ্য করেনি।
তবে মাঠে ফেরার তাড়না তো এখনও তাকে তাঁতিয়ে বেড়ায় ফেলে আসা কৈশরের মতই। বিপিএল নিলামে প্রথমে তার প্রতি আগ্রহ দেখায়নি কেউ। কিন্তু সময়ের পরিক্রমায় বাংলাদেশের দলের উত্থান-পতনের সঙ্গীকে অসম্মান করা কি আর যায়! রংপুর রাইডার্স করেনি। নিলামের উত্তেজনা না ছড়ালো, দাম কমতে দেওয়া হয়নি।

যে সম্মান ফ্রাঞ্চাইজিটি দেখিয়েছে, সেই সম্মানের প্রতিদান অন্তত দিতে হবে। পূর্ণ ফিট হয়েই নামতে হবে মাঠে। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের চাপ এখন আর নেই। নিজেকে প্রমাণ করবার কোন অদৃশ্য শক্তিও এখন আর রিয়াদকে তাড়িয়ে বেড়ায় না। তবুও দায়িত্ববোধ, ক্রিকেট প্রেম তাকে বারংবার ফিরিয়ে নিয়ে আসছে মাঠে।
আসন্ন বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগে তিনি খুব বেশি ম্যাচ হয়ত খেলার সুযোগ পাবেন না। সেসব নিয়েও নেই তার কোন দুশ্চিন্তা। বরং যখনই সুযোগ মিলবে তিনি হয়ত দেখাতে চাইবেন নিজের বুড়ো হাড়ের ভেল্কি। তবে সেজন্য রক্ত-মাংসের শরীরটাকেও তো দিতে হবে সহয়তা। তাইতো প্রায় প্রতিদিনই মিরপুরে আসছেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ।
কখনো পুরো মাঠ দৌড়ে বেড়াচ্ছেন, ফুসফুসের কর্মক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করছেন। কখনো আবার জিমে ভারি ভারি ডাম্বেল তুলছেন পেশি শক্তির হালচাল জানতে। কখনো আবার লোয়ার বডির বর্তমান পরিস্থিতি বুঝতে ভারি রড নিয়ে নেমে পড়ছেন বালুর মাঝে। শরীর সম্পর্কে পূর্ণ ধারণা নিয়েই তিনি ফিরতে চান ব্যাট-বলের লড়াইয়। ক্রিকেট প্রেম কিংবা দায়িত্ববোধের অদৃশ্য যাতনা না থাকলে- আরামকেদারায় শুয়ে বই পড়তে পড়তেই দিন পার করার কথা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের।












