মুশফিক, আব বাস!

লিড যখন আকাশে উঠছে, আরও একটা পরাজয় যখন পাকিস্তান চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছে, যখন আরও একবার বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা চোখ রাঙানি দিচ্ছে তখন আকুতি মিনতি করা ছাড়া আর কোনো পথ আসলেই পাকিস্তানের খোলা নেই। 

মেশিনও কখনও কখনও ক্লান্ত হয়, কিন্তু মুশফিকুর রহিমের কোনো ক্লান্তি নেই। ৩৯ বছর বয়স, ২১ বছরের লম্বা ক্যারিয়ার। তবে, একশ’র বেশি টেস্ট খেলা মুশফিকুর রহিমের বাইশ গজের প্রতি ভালবাসা আজও এক বিন্দু ম্লান হয়নি।

মুশফিকুর রহিম আরও একবার সেঞ্চুরি করেছেন। ক্যারিয়ারের ১৪ তম টেস্ট সেঞ্চুরি। টেস্টে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে বেশি রান। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ১৬ হাজারের বেশি রান – কত শত রেকর্ড তাঁর পায়ের নিচে লুটিয়ে পড়ে।

শান্ত-সৌম্য মুশফিক। কোনো ফ্ল্যাশি শটের ঝলকানি নেই। খুব বেশি ইম্প্রোভাইজেশনের ধার ধারলেন না। গ্লাম্যারাস খুব বেশি শট খেলার কাছে গেলেন না। তিনি সেই কাজটাই বারবার করে দেখালেন, যেখানে তিনি মাস্টার। তিনি মাস্টার ধৈর্য্যে, অধ্যায়বশায়ে।

১৭৮ বলে পৌঁছালেন শততম রানের মাইলফলকে। শান্ত মুশফিক তখন হঠাৎই যেন বদলে গেলেন। ছোট মরিচের যেমন ঝাল বেশি, তেমনি যেন উত্তাপ ছড়ালো মুশফিকের সেঞ্চুরির উদযাপন। চিৎকার করলেন, ব্যাট ছুড়ে মাড়লেন সবুজ মাঠে। যেন বুঝিয়ে দিলেন ব্যাট হাতের শান্ত শাসনের মঞ্চ এই মাঠ।

মাঠে সিজদাহ করে সেই ব্যাটটাই মাথার ওপরে তুললেন। দর্শকদের, সতীর্থদের অভিবাদনের জবাব দিলেন সেই ব্যাট মাথার ওপর তুলে। যেন, প্রবীন কোনো রাজা তলোয়ার তুলে হাসি মুখে জানান দিচ্ছেন, যুদ্ধ শেষ – এই সাম্রাজ্য এখন আমাদের।

পাকিস্তান চেষ্টার কমতি রাখেনি। বলে না পেরে মুখে লড়াই চালিয়েছে, তাদের শেষ চেষ্টাও মাঠে মারা গিয়েছে। বগুড়ার সেই ক্ষুদে মিতুর ঝাল এত সহজে মিটবে না।

ধারাভাষ্য থেকে রমিজ রাজা বলে উঠলেন, ‘আব্বাস যে কোনো সময় মুশফিককে বলে উঠবেন, আব বাস! আব বাস কারো!’ হ্যা, লিড যখন আকাশে উঠছে, আরও একটা পরাজয় যখন পাকিস্তান চোখের সামনে দেখতে পাচ্ছে, যখন আরও একবার বাংলাদেশের বিপক্ষে টেস্টে হোয়াইটওয়াশের লজ্জা চোখ রাঙানি দিচ্ছে তখন আকুতি মিনতি করা ছাড়া আর কোনো পথ আসলেই পাকিস্তানের খোলা নেই।

লেখক পরিচিতি

সম্পাদক

Share via
Copy link