ক্রিকেট পাড়ায় বলাবলি হয়, তাইজুল ইসলাম ম্যাচ উইনার। এই খেতাব কার্যত তিনি বোলিং পারফরম্যান্সের জন্য পাননি। পেয়েছেন ব্যাটিংয়ের জন্য। লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে মোহামেডানের হয়ে এক কালে একাধিক ম্যাচ জেতানো ইনিংস খেলেছিলেন, একবার ৫৭ রানে অপরাজিতও ছিলেন।
তারপরও টেস্টে মোটে ৯০০ রান করা একজন ব্যাটিং সামর্থ্য নিয়ে খুব বেশি আলোচনার সুযোগ নেই। তারপরও আলোচনা হচ্ছে কারণ সিলেট টেস্টে তাঁর ভূমিকা। দুই ইনিংস মিলিয়ে তাইজুল ইসলাম খেলেছেন ৯১ টি ডেলিভারি।
প্রথম ইনিংসে ৪০ বল খেলে করেন ১৬ রান, দ্বিতীয় ইনিংসে ৫১ বল খেলে করেন ২২ রান। প্রথম ইনিংসে লিটন দাসের সাথে ৬০ রানের জুটি, দ্বিতীয় ইনিংস মুশফিকের সাথে ৭৭ রানের জুটি – বাংলাদেশ সিলেট টেস্টে জিতে গেলে তাতে বড় অবদান থাকবে এই দুটি জুটির।

দ্বিতীয় ইনিংসে খুররাম শেহজাদের বিপক্ষে এক পা তুলে সপাটে যে একটা পুল করেন, বাউন্ডারি হাকান তাতেই আসলে অনেক কিছুর জবাব হয়ে যায়। একটা কাভার ড্রাইভে বাউন্ডারি হাকানোর যে দর্শনীয় দৃশ্যটার জন্ম দিলে, তাতে হাজারো সমালোচনার জবাব হয়ে যায়।
এই তাইজুলের জায়গা নিয়ে চাইলেই প্রশ্ন তোলা যায়। এই তাইজুলই টেস্টে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ উইকেটের মালিক। টেস্টে তিনিই বাংলাদেশের একমাত্র বোলার যিনি আড়াইশর বেশি উইকেট পেয়েছেন। চাইলেই, তাইজুলকে একাদশে রাখার ব্যাখ্যা চাওয়া যায় না।
পাকিস্তানের বিপক্ষে মাঠে নামার আগের তিন টেস্টে যিনি ১৮ উইকেট পেয়েছেন, চাইলেই তাঁকে একাদশ থেকে বাদ দেওয়ার প্রসঙ্গ ওঠানো যায় না। তাইজুল সেই চরিত্র যিনি মাঠে থাকলেই পার্থক্য গড়ে দিতে জানেন, অধিকাংশ সময়ই বোলিংয়েই। কখনও ব্যাটিংয়েও, অন্তত পাকিস্তান দল সেটা হাড়ে হাড়ে স্বীকার করে নিবে।











