সমবয়সী ছেলেরা যেখানে মাঠের কোণে বসে খেলা দেখে সেখানে ১৫ বছরের বৈভব সুরিয়াভানশি ব্যাট হাতে শাসন করছেন বাইশ গজ। তাঁর উইলো থেকে বের হওয়া প্রতিটি শট যেন এক একটি তর্জনী সংকেত, সে ক্রিকেট দুনিয়া শাসন করতে এসেছে। এই বিস্ময় বালকের ব্যাটের ধার দেখে মুগ্ধ ভারতের সাবেক কোচ রবি শাস্ত্রী । স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, আর কোনো অপেক্ষা নয়, এখনই সময় এই রত্নকে জাতীয় দলে সুযোগ দেওয়ার।
চলতি আইপিএলে ১২ ম্যাচে ৪৮৬ রান! গড় ৪০-এর ওপরে হলেও চোখ কপালে ওঠে স্ট্রাইক রেট দেখে, যা প্রায় ২৩৫! এর মধ্যেই সানরাইজার্স হায়দরাবাদের বিপক্ষে মাত্র ৩৭ বলে ১০৩ রানের এক টর্নেডো ইনিংস খেলেছেন তিনি। সব রেকর্ড ভেঙে দিয়ে ভারতীয়দের মধ্যে আইপিএলের এক আসরে সর্বোচ্চ ছক্কাও তাঁর নামে লেখা। ক্রিকেট বিশ্বের বাঘা বাঘা বোলারদের বল অবলীলায় গ্যালারিতে আছড়ে ফেলছেন তিনি।
এই কিশোরের প্রতিভার আগুনে মুগ্ধ রবি শাস্ত্রী। আইসিসি রিভিউতে তিনি বলেন, “অনেকেই জিজ্ঞেস করবে ওর বয়স ১৫, ১৬ নাকি ১৪? আমার তাতে কিচ্ছু যায় আসে না। আমি শুধু দেখছি ও কেমন ব্যাটিং করছে এবং নিজের চেয়ে দ্বিগুণ বা আড়াই গুণ বেশি বয়সী বোলারদের কীভাবে তুলোধুনো করছে।”

গত বছর গুজরাট টাইটান্সের বিপক্ষে মাত্র ৩৫ বলে সেঞ্চুরি করে নিজের আগমনী বার্তা দিয়েছিলেন বৈভব। এরপর অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ ফাইনালে হারারেতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে মাত্র ৮০ বলে ১৭৫ রানের এক অতিমানবীয় ইনিংস খেলে ভারতকে এনে দেন শিরোপা। বিহারের হয়ে খেলার সময় বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে সেঞ্চুরি করার রেকর্ডটাও এখন তাঁর পকেটে।
অনেকেই বলছেন, এখনই জাতীয় দলে ডেকে বৈভবের ওপর চাপ বাড়ানো ঠিক হবে না, তাঁকে ঘরোয়া ক্রিকেটে আরও পরিপক্ব হতে দেওয়া উচিত। তবে রবি শাস্ত্রী এসবের ঘোর বিরোধী। তিনি স্পষ্ট মনে করেন, আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরের টি-টোয়েন্টি সিরিজেই বৈভবকে সুযোগ দেওয়া উচিত। শাস্ত্রীর মতে, ক্রিকেটের সংক্ষিপ্ততম এই সংস্করণেই তরুণদের নির্ভীক মানসিকতা সবচেয়ে বেশি কাজে লাগে এবং বৈভব যেকোনো বিশ্বমানের দলেই অনায়াসে জায়গা পাওয়ার যোগ্য।
আগামী জুনে শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের বিপক্ষে ত্রিদেশীয় ওয়ানডে সিরিজের জন্য ইতিমধ্যেই ভারত ‘এ’ দলে ডাক পেয়েছেন বৈভব। রবি শাস্ত্রীর এই ভূয়সী প্রশংসা যে তাঁর আত্মবিশ্বাসকে আকাশচুম্বী করে তুলবে, তা বলাই বাহুল্য। এখন দেখার বিষয়, নির্বাচকেরা শাস্ত্রীর এই পরামর্শ মেনে ভারতের এই নতুন সূর্যকে আন্তর্জাতিক আকাশে ওঠার সুযোগ করে দেন কি না।










